ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. ক্যাম্পাস

শেরপুরে জামায়াত নেতা হত্যার ঘটনায় মধ্যরাতে ঢাবিতে বিক্ষোভ

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক | ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় | প্রকাশিত: ০১:৩৪ এএম, ২৯ জানুয়ারি ২০২৬

শেরপুরে নির্বাচনি ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে জামায়াত নেতাকে কুপিয়ে হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থীরা।

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১১টার দিকে ডাকসু নেতাদের নেতৃত্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বিভিন্ন হলের শিক্ষার্থীরা ভিসি চত্বরে সমবেত হন।

পরে সেখান থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে হলপাড়ার সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে টিএসসিতে গিয়ে অবস্থান নেন আন্দোলনকারীরা

এসময় মিছিলে আন্দোলনকারীরা ‘মানুষ খুনের বিরুদ্ধে, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’,‘বিচার বিচার বিচার চাই, মানুষ হত্যার বিচার চাই’, ‘প্ল্যান প্ল্যান কোন প্ল্যান, মানুষ খুনের মাস্টার প্ল্যান’, ‘তারেক জিয়ার অনেক গুণ, শেরপুরে মানুষ খুন’, ‘রেজাউল ভাই খুন কেন, খুনি তারেক জবাব দে’ ইত্যাদি নানা স্লোগান দেন।

বিক্ষোভ মিছিল পরবর্তী সংক্ষিপ্ত সমাবেশে ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার বিএনপি আর নেই, বিএনপি এখন চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজ ও সন্ত্রাসীদের আতুরঘরে পরিণত হয়েছে।

তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী সময়ে মজলুমদের নিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়ার যে প্রত্যাশা ছিল, তা বিএনপি ভেঙে দিয়েছে।

সাদিক কায়েম দাবি করেন, গত দেড় বছরে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও রাহাজানির সঙ্গে সবচেয়ে বেশি জড়িত দল বিএনপি। নিজেদের দলের ভেতরেই দুই শতাধিক মানুষ হত্যার ঘটনা ঘটেছে উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন রাখেন, যাদের হাতে নিজেদের দলের লোক নিরাপদ নয়, তাদের হাতে দেশ কীভাবে নিরাপদ হবে?

তিনি বলেন, তারেক রহমান দেশে ফিরে বিএনপিকে শৃঙ্খলায় আনবেন, এমন আশা থাকলেও বাস্তবে দেখা গেছে সারাদেশে নারী নির্যাতন, হামলা ও চাঁদাবাজি বেড়েছে। বিএনপির তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত সর্বস্তরের নেতারা এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

ছাত্র সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে সাদিক কায়েম বলেন, তারেক রহমানের নির্দেশে গণতান্ত্রিক ধারাকে বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচন বন্ধ করা হয়েছে।

jagonews24

তিনি তারেক রহমানের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, এখনও সময় আছে। দল সংস্কার করুন, জুলাই বিপ্লব ও শহীদদের আকাঙ্ক্ষা ধারণ করুন এবং সন্ত্রাসী ও নারী হেনস্তাকারীদের বিচারের আওতায় আনুন।

শেরপুরে হামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বিএনপি সন্ত্রাসীদের হামলায় জামায়াত নেতা রেজাউল ভাই নিহত হয়েছেন ও শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন।

তিনি বলেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে হবে। সন্ত্রাসী ও দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যথায় জুলাই প্রজন্ম আরও শক্তভাবে রাজপথে নামবে। আমরা অনুরোধ করবো, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে রেজাউল ভাইয়ের হত্যার সঙ্গে যে সমস্ত খুনিরা জড়িত আছে, তাদের দ্রুত সময়ের মধ্যে বিচারের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। এই খুনের মাস্টারমাইন্ড যারা আছে সবাইকে বিচারের আওতায় নিয়ে আসতে হবে।

সমাবেশে ডাকসুর এজিএস মহিউদ্দিন খান বলেন, আমরা জুলাই অভ্যুত্থানের পরে একটি নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলাম। কিন্তু দুঃখজনকভাবে হলেও সত্য বিএনপি ও তাদের অঙ্গ সংগঠনগুলো চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস এবং খুনের মাধ্যমে সেই স্বপ্নকে আমাদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়েছে।

তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, মঞ্চে মিষ্টি-ফুলজুরি বক্তব্যে মানুষ আর প্রভাবিত হয় না। যে পলিসির কথা বলে, নতুন প্ল্যানের কথা বলে বাংলাদেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে মানুষ আর বিভ্রান্ত হবে না। মানুষ কর্মের মাধ্যমে দেখতে চায় যে, একটি দল কী কাজ করতে পারে, আমরা সেটি আজকে শেরপুরে দেখেছি।

হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, যদি আপনারা বাংলাদেশে রাজনীতি করতে চান তাহলে গণমানুষের যে আকাঙ্ক্ষার রাজনীতি সেই রাজনীতি করতে হবে। খুনের রাজনীতি যেই রাজনীতির সূচনা করে গিয়েছে হাসিনা, সেটি যদি আপনারা করতে থাকেন তাহলে অবশ্যই এর জবাব বাংলাদেশের মানুষ ১২ তারিখে দেবে।

প্রশাসনকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, এই নির্বাচনকে সফল করার জন্য যে দায়িত্ব আপনাদের উপরে আরোপিত হয়েছে এই দায়িত্ব আপনারা কতটুকু পালন করতে পারবেন তা আজকে শেরপুরের ঘটনায় স্পষ্ট হয়েছে। যদি আপনারা নিরপেক্ষভাবে এর তদন্ত করে দোষীদেরকে বিচারের আওতায় আনতে না পারেন তাহলে আপনাদের পরিণতিও ভয়াবহ হবে। আমরা যেকোনো সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ ও খুনের বিরুদ্ধে রাজপথে থেকে আবার প্রতিরোধ গড়ে তুলবো‌।

এফএআর/এমএন