ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. ক্যাম্পাস

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীদের আতঙ্কে সেই ফুলপুরী ও তার পরিবার

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক | ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় | প্রকাশিত: ০৪:১৮ পিএম, ০১ মার্চ ২০২৬

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের র‌্যাগিংয়ের শিকার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের শিক্ষার্থী ফুলপুরী খাতুন ও তার পরিবারকে শারীরিকভাবে হেনস্তা, তুলে নিয়ে যাওয়া ও প্রাণনাশের হুমকি এবং পারিবারিক সম্পত্তি জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ উঠেছে।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে স্থানীয় প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ তুলে এক দীর্ঘ স্ট্যাটাস দেন ফুলপরী খাতুন। সেখানে তিনি নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন।

ফেসবুক স্ট্যাটাসে ফুলপরী খাতুন লিখেছেন, ‘আওয়ামী আমলে কেস করতে গিয়েও লাভ হয় নাই। এখন তো নতুন সরকার, এখনো কি সন্ত্রাসী দ্বারা নির্যাতনের শিকার হবে? আমরা আর কতদিন এমন নির্যাতনের শিকার হবো? পাবনার আটঘরিয়া উপজেলা একদন্ত ইউনিয়ন, আমাদের গ্রাম শিবপুরসহ আশপাশের গ্রামে এত এত সন্ত্রাসী-চাঁদাবাজ, এদের জন্য সাধারণ মানুষের জীবনযাপনের মান নষ্ট হয়। এগুলোর কি কোনো প্রতিকার হবে না? আমাদের নিরাপত্তা কোথায়?’

নিরাপত্তা শঙ্কার কথা জানিয়ে তিনি বলেছেন, ‘রাতে ঘুমাতে পারি না। বাড়ি এসে থাকতে পারি না কোনো ভাই-বোনই। সন্ত্রাসীরা রাতদিন নাই, যখন তখন বাড়িতে এসে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে যায়। পাঁচ বছর ধরে বাড়ির জায়গা নিয়ে ঝামেলা করে আমাদের বাড়ির সামনের সব জায়গা দখল করে নিয়েছে। আজ কাঁটা তার দিয়ে আরও দখল করে নিতে আসছে। রাতে সন্ত্রাসীরা ধারালো অস্ত্র নিয়ে বাড়িতে এসে আব্বুকে খুঁজছিল। মেরে ফেলবো, হাত-পা কেটে ঝুলিয়ে রাখবো যেখানেই পাই। আব্বুকে পায় নাই, আম্মুর ওপরে গরম দেখায়ে গেছে। এমন কি ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিছে। সন্ত্রাসীদের হুমকিতে এলাকায় সালিশির মাধ্যমে সমাধানেও কেউ আগায় না। পাঁচ বছর ধরে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা শান্তিতে থাকতে দেয় নাই। চেয়ারম্যান-মেম্বার সবাই মিলে আমাদের জিম্মি করে রাখছে। কথায় কথায় ছেলে-মেয়েকে মেরে ফেলার, তুলে নেওয়ার হুমকি দেয়। আমাদের ওপর জুলুম করে আমাদের নামেই মিথ্যা কেস দিলেও কোর্ট খারিজ করে দিছে। আমরা কোর্ট থেকে জমির সার্বিক রায় পেয়ে এসেও সন্ত্রাসী দিয়ে আমাদের সবকিছু দখল করে নিয়ে আমাদের ক্ষতি করতে উঠে পড়ে লেগেছে এলাকার মেম্বার।’

তিনি অভিযোগ করেন, ‘বাড়িতে সন্ত্রাসীরা মারতে এসেছিল ধারালো অস্ত্র দিয়ে। সন্ত্রাসীরা কেমন হুমকি দিয়ে গেছে তার প্রায় এক মিনিটের একটা অডিও আছে। এরআগে ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের ভাই এসে বিনা কারণে গুন্ডামি করে মারছে। যে জমি দখল করে আছে, সেই মারায়ছে ভাড়া করে এনে। সেসময় আমাদের বাড়ির ২টা স্মার্টফোন কেড়ে নিয়ে নষ্ট করে দিলেও আমরা কোনো বিচার পাইনি। কেউ বিচার করতেও আসে না। বলে সন্ত্রাসীরা যেতে নিষেধ করছে। নতুন সরকারের আমলেও কি আমরা সন্ত্রাসী দ্বারা নির্যাতনের শিকার হবো? আমাদের পরিবারের কোনো ক্ষতি হলে সেই দায় সরকারের।’

আরও পড়ুন:
অন্যায়ের বিরুদ্ধে এক প্রতিবাদী নাম ‘ফুলপরী’

ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, ফুলপুরীর বাবা আতাউর রহমান ইউনিয়ন কৃষকদলের সদস্য। আওয়ামী আমলে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার কারণে তিনি দীর্ঘদিন ধরেই স্থানীয় আওয়ামী লীগের সমর্থকদের হুমকিতে ছিলেন। বর্তমানে আতাউর রহমানের পরিবারের সঙ্গে জমি নিয়ে বিরোধ চলছে তারই মামাতো বোন নুর জাহান আক্তার নুপুরের। নুর জাহান স্থানীয় প্রভাবশালী টিপু বিশ্বাসীকে দিয়ে আতাউরের পরিবারকে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী ফুলপুরী খাতুন বলেন, ‘আমার পরিবারের সবার জীবন হুমকিতে আছে। গতকাল অস্ত্র নিয়ে আমাদেরকে হুমকি দিয়ে যাওয়ার পর সারারাত ঘুমাতে পারিনি। স্থানীয়রা ওই সন্ত্রাসীদের ভয়ে বিষয়টি মীমাংসা করারও সাহস পায় না। তারা আগে আমার বাবাকে মারধর করেছে। গতকাল আম্মুকেও ধাক্কা দিয়েছে। আমি এসব ঘটনার বিচার এবং আমার পরিবারের নিরাপত্তা চাই।’

অভিযুক্ত টিপু বিশ্বাস বলেন, ‘এটি তাদের পারিবারিক বিরোধ। আমি প্রতিবেশী হিসেবে তাদের ঝামেলার সময় সেখানে গিয়েছিলাম। তবে আমি এসব হুমকি-ধমকির সঙ্গে যুক্ত নই।’

পাবনার আটঘরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ভুক্তভোগী এখনো লিখিত অভিযোগ করেননি। অভিযোগ দিলে আমরা পরবর্তী পদক্ষেপ নেবো।’

ঘটনাটি ছিল ছাত্রলীগ নেত্রীর অনুমতি না নেওয়াকে কেন্দ্র করে। দেশরত্ন শেখ হাসিনা আবাসিক হলে ফুলপরী ওঠেন এক পরিচিত বড় বোনের সিটে। বিষয়টি জানতে পেরে গত ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি দুই দফায় ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের ছাত্রী ফুলপরীকে রাতভর নির্যাতনের শিকার হতে হয়। এ ঘটনায় শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সানজিদা চৌধুরী অন্তরা, ফিন্যান্স বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের তাবাসসুম ইসলামসহ আরও ৭-৮ জন জড়িত বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী ছাত্রী।

ইরফান উল্লাহ/এসআর/এমএস