৮ বছরেও শুরু হয়নি জাবির নতুন প্রশাসনিক ভবন নির্মাণকাজ
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের অনুমোদনের আট বছর পেরিয়ে গেছে। তবে প্রকল্পের আওতাভুক্ত ১০ তলাবিশিষ্ট নতুন প্রশাসনিক ভবন নির্মাণ নিয়ে প্রশাসনিক জটিলতা আজও কাটেনি। ফলে শুরু হয়নি ভবন নির্মাণের কাজ। এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ১৫২ কোটি ৮০ লাখ টাকা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালে একনেকে অনুমোদিত হওয়া অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ তিন ধাপে ২০২৩ সালের মধ্যে সমাপ্ত হওয়ার কথা ছিল। পরে ২০১৯ সালের মে মাসে প্রায় ১৪৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে শুরু হয় প্রকল্পের প্রথম ধাপের কাজ। এতে এক হাজার আসনবিশিষ্ট ছেলেদের জন্য তিনটি ও মেয়েদের জন্য তিনটি আবাসিক হলের কাজ শুরু হয়। যার নির্মাণ কাজ শেষ হলে ২০২২ সালের ২৭ মে প্রকল্পের দ্বিতীয় ধাপের কাজ শুরু হয়। প্রকল্পের এই ধাপে নতুন প্রশাসনিক ভবন, স্পোর্টস কমপ্লেক্স ও লেকচার থিয়েটার ছাড়াও কয়েকটি খেলার মাঠ নির্মাণ ও সংস্কার, শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য আবাসিক ভবন নির্মাণ ও সংস্কারসহ মোট ১৪টি ভবনের কাজ শুরু হওয়ার কথা ছিল।
এই ধাপের অন্যান্য নির্মাণ কাজ চলমান থাকলেও প্রস্তাবনার ১০ তলাবিশিষ্ট অত্যাধুনিক প্রশাসনিক ভবন তৈরির কাজ এখনো শুরু হয়নি। এর নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ১৫২ কোটি ৮০ লাখ ৮৪ হাজার টাকা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা সমিতির সভাপতি মো. আজমল আমীন বলেন, ‘অফিসের কর্মকর্তাদের বসার নির্দিষ্ট ডেস্ক বা জায়গা নেই।স্বল্প জায়গায় অনেককে একসঙ্গে বসে কাজ করতে হয়। আমাদের দাপ্তরিক কাজের জটিলতা দূর করতে নতুন প্রশাসনিক ভবন নির্মাণ জরুরি হয়ে পড়েছে।’
নির্মাণকাজে বিলম্ব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনগুলো বারবার বাধা দিচ্ছে। গাছ কাটা ও উঁচু ভবন নির্মাণে নিয়ে সমস্যা হচ্ছে। তবে আশা করছি খুব শিগগির প্রশাসন ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করবে।’
জানতে চাইলে পরিকল্পনা ও উন্নয়ন অফিসের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক প্রকৌশলী নাসির উদ্দীন বলেন, ‘নতুন প্রশাসনিক ভবন নির্মাণের বিষয়ে গত বছরের ২৪ জুলাই আমাদের প্রজেক্ট ইমপ্লিমেন্টেশন কমিটির একটি মিটিং হয়েছে। তবে ১০ তলাবিশিষ্ট ও ৪২ হাজার বর্গমিটার ফ্লোর জায়গা নিয়ে ভবন নির্মাণ সম্ভব নয়। তাই নতুন করে ছয়তলা ভবন নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাশাপাশি সাত হাজার বর্গমিটার জায়গাজুড়ে বর্তমান প্রশাসনিক ভবনের উত্তর পাশে ভবনটি নির্মাণ করার পরামর্শ নেওয়া হয়েছে। এটির জন্য আমরা ইউজিসিতে চিঠি দিয়েছি। চিঠি এরইমধ্যে মন্ত্রণালয়ে প্রক্রিয়াধীন। ওখান থেকে সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত হওয়ার পরে আমরা টেন্ডারে যেতে পারবো।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক সোহেল আহমেদ বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রে ১০ তলাবিশিষ্ট এত বড় করে প্রশাসনিক ভবন করা সম্ভব নয়। এ কারণে নতুন ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। তবে নতুন করে পরিকল্পনা করে সাবেক শিক্ষাসচিবের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। বর্তমান মন্ত্রণালয় থেকে সিদ্ধান্ত এলে কাজ শুরু হবে।’
রকিব হাসান প্রান্ত/এসআর/এএসএম