জাবি
উদ্বোধনের আগেই নষ্ট হওয়ার পথে ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত খেলার মাঠ
উদ্বোধনের আগেই নষ্ট হচ্ছে মাঠের ঘাস ও মাটি/ছবি-জাগো নিউজ
চার কোটি ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ-১। তবে বাজেট-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে এখনো বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে এটি হস্তান্তর করা হয়নি। ফলে অব্যবস্থাপনা, অযত্ন, প্রয়োজনীয় সীমানা প্রাচীর, বহিরাগতদের অনিয়ন্ত্রিত প্রবেশ ও অননুমোদিত ব্যবহারে উদ্বোধনের আগেই নষ্ট হচ্ছে মাঠের ঘাস ও মাটি।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় আল বেরুনী হলের পেছনে প্রায় ২০ বিঘা জায়গাজুড়ে ফুটবল ও ক্রিকেটের উপযোগী করে যৌথ মাঠটি নির্মাণ করা হয়। আধুনিকমানের এ ভেন্যুতে বিশেষায়িত ক্রিকেট পিচ তৈরির জন্য আনার কথা ছিল বিশেষ ধরনের মাটি। যার মোট বাজেট চার কোটি ৮ লাখ টাকা। তবে ঘাস স্থাপনে ব্যয় বেশি হওয়াসহ বকেয়া পরিশোধ ও বাজেট-সংক্রান্ত অনিশ্চয়তায় ঝুলে যায় প্রকল্পের হস্তান্তর প্রক্রিয়া।
সরেজমিনে দেখা যায়, সার্বিক সমন্বয়ের ঘাটতির কারণে মাঠটি উদ্বোধনের আগেই ব্যবহার করছেন শিক্ষার্থীরাসহ বহিরাগতরা। পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকা ও অতিরিক্ত অব্যবস্থাপনায় ব্যবহারে বেহাল দশা মাঠের।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইমরান হোসেন হৃদয় বলেন, ‘দীর্ঘ অপেক্ষার পর নতুন করে বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি আধুনিক খেলার মাঠ নির্মাণ করা হয়েছে। তবে যথাযথ সংরক্ষণ ও তদারকির অভাবে মাঠটি উদ্বোধনের আগেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অত্যধিক মাত্রায় বহিরাগতের খেলাধুলা করতে দেখা যায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘এত টাকা দিয়ে নির্মিত মাঠে না আছে ড্রেনেজ ব্যবস্থা, না আছে নির্দিষ্ট বাউন্ডারি। দ্রুত মাঠের যত্নে কার্যকর সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপ না নিলে এটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়বে।’
এ বিষয়ে জাকসুর ক্রীড়া সম্পাদক মাহমুদুল হাসান কিরণ বলেন, মাঠের উন্নয়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের অবহেলা ও দুর্নীতির ফলে আজ এই অবস্থা। দ্রুত এ বিষয়ে সিন্ডিকেট সভায় আলোচনা করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন অফিসের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক প্রকৌশলী মো. নাসির উদ্দিন বলেন, ‘ঠিকাদারের বকেয়া বিল এবং বাজেট-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে এখনো হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়নি। ঘাস স্থাপনে অতিরিক্ত ব্যয় এবং বাজেট নিশ্চয়তার অভাবের বিষয়টি সমাধান না হওয়ায় প্রশাসন এখনো মাঠটি বুঝে নিতে পারেনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘নিয়ম অনুযায়ী আনুষ্ঠানিক হস্তান্তরের আগে পর্যন্ত রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট প্রকল্প কর্তৃপক্ষের ওপরই বর্তায়। মাঠের বর্তমান অবস্থা পর্যবেক্ষণ ও ক্ষয়ক্ষতি রোধে ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক ড. সোহেল রানাকে আহ্বায়ক করে চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।’
মাঠের বর্তমান অবস্থা পর্যবেক্ষণ ও ক্ষয়ক্ষতি রোধে গঠিত কমিটির সদস্য এবং শারীরিক শিক্ষা অফিসের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক বেগম নাছরীন বলেন, মাঠটি এখনো তাদের দপ্তরে হস্তান্তর না হওয়ায় সরাসরি পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবে ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও মাঠের সার্বিক পরিস্থিতি মূল্যায়নে পরিদর্শনে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
রকিব হাসান প্রান্ত/এসআর/এএসএম
সর্বশেষ - ক্যাম্পাস
- ১ নেপালে গণঅভ্যুত্থানের নেতারাই সরকার গঠন করেছে কারণ সেখানে ঢাবি নেই
- ২ ডাকসুর উদ্যোগে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য নির্মাণ হচ্ছে আধুনিক জিমনেসিয়াম
- ৩ ডুজার ইফতারে একত্রে বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতারা
- ৪ সহকর্মী হিসেবে এমন বিনয়ী মানুষ আগে দেখিনি: উপাচার্য
- ৫ উদ্বোধনের আগেই নষ্ট হওয়ার পথে ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত খেলার মাঠ