ঢাবিতে ছুটির মধ্যে স্বাধীনতা স্মৃতিস্তম্ভের কৃষ্ণচূড়া গাছ উধাও
বড় বড় গাছের টুকরো করাত দিয়ে কেটে মোটা রশি দিয়ে বেঁধে গাড়িতে তুলছেন কয়েকজন শ্রমিক
সন্ধ্যা নামছে। নিস্তব্ধতা নেমে এসেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে। ঈদের ছুটির কারণে শিক্ষার্থীদের কোলাহল নেই, চারপাশে এক ধরনের নির্জনতা। এমন সময় ফুলার রোডে উদয়ন স্কুলের বিপরীতে—সলিমুল্লাহ হল ও বুয়েট সংলগ্ন সড়কদ্বীপে—স্বাধীনতা সংগ্রাম স্মৃতিস্তম্ভের সামনে চোখে পড়ে অস্বাভাবিক এক দৃশ্য।
সেখানে একটি কাভার্ডভ্যান দাঁড়িয়ে। কয়েকজন শ্রমিক তড়িঘড়ি করে বড় বড় গাছের টুকরো করাত দিয়ে কেটে মোটা রশি দিয়ে বেঁধে গাড়িতে তুলছেন। কৌতূহলবশত কাছে গিয়ে দেখা যায়, স্মৃতিস্তম্ভের পশ্চিম কোনে বহু বছরের পুরোনো কৃষ্ণচূড়া গাছটি আর নেই—শুধু পড়ে আছে তার কাটা গোড়া।
শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এই কাঠগুলো ওই কৃষ্ণচূড়া গাছ থেকেই সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে গাছটি কবে, কখন, কারা এবং কীভাবে বিক্রি করেছে—সে বিষয়ে তারা কিছু জানাতে পারেননি। তাদের ভাষ্য, ‘একজন ঠিকাদারের কাছ থেকে গাছটি কিনে এনে কাটার কাজ করছেন’।
বুধবার সন্ধ্যায় জাগো নিউজের এ প্রতিবেদকের চোখে ধরা পড়ে ঘটনাটি। প্রথমে অবিশ্বাস্য মনে হলেও বাস্তবতা হলো—স্বাধীনতা স্মৃতিস্তম্ভের ঐতিহ্যবাহী কৃষ্ণচূড়া গাছটি কেটে বিক্রি করা হয়েছে।
১৯৮৮ সালে ভাস্কর শামীম শিকদার নির্মিত এই স্বাধীনতা স্মৃতিস্তম্ভ শুধু একটি ভাস্কর্য নয়, বরং বাঙালির মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের একটি প্রতীকী স্থান। এর পাশেই দাঁড়িয়ে থাকা প্রাচীন কৃষ্ণচূড়া গাছটি দীর্ঘদিন ধরে পথচারী, শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করত। বিশেষ করে ফুল ফোটার মৌসুমে লাল কৃষ্ণচূড়ার রঙে রাঙানো দৃশ্য ছিল ক্যাম্পাসের অন্যতম সৌন্দর্য। কিন্তু এখন সেই গাছ নেই, রয়ে গেছে শুধু স্মৃতি আর প্রশ্ন।

ঘটনার বিস্তারিত জানতে শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলার এক পর্যায়ে একজন শ্রমিক মোবাইল ফোনে কথিত এক ঠিকাদারের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেন। ফোনে নিজেকে হাজারীবাগের ঠিকাদার পরিচয় দিয়ে ওই ব্যক্তি দাবি করেন, গত ২৫ মার্চ রাতে ঝড়ে গাছটি ভেঙে পড়ে। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ‘স্পট কোটেশন’-এর মাধ্যমে ভ্যাট-ট্যাক্সসহ ১৭ হাজার ২৫০ টাকায় গাছটি তার কাছে বিক্রি করে।
তবে তার কথায় অসঙ্গতিও রয়েছে। তিনি ‘আইভরি কালচার’ নামের একটি বিভাগের কথা উল্লেখ করলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এ নামে কোনো বিভাগ আছে বলে জানা যায়নি। এছাড়া এত গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থানের গাছ বিক্রির ক্ষেত্রে কোনো ধরনের প্রকাশ্য নোটিশ বা স্বচ্ছ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে কি না—তা নিয়েও রয়েছে সংশয়।
প্রশ্ন উঠছে, ক্যাম্পাস বন্ধের সুযোগে কেন এমন একটি পরিবেশবান্ধব ও ঐতিহ্যবাহী গাছ কাটা হলো? আসলে কি ঝড়ে ভেঙে পড়েছিল, নাকি অন্য কোনো উদ্দেশ্যে কাটা হয়েছে? বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট বিভাগ কি এ বিষয়ে অবগত ছিল?
স্পট কোটেশনের মাধ্যমে বিক্রির প্রক্রিয়াটি কতটা বৈধ ও স্বচ্ছ? আর যদি বিক্রিই হয়ে থাকে, তবে এত কম মূল্যে কেন?
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানে তাও আবার স্বাধীনতা স্মৃতিস্তম্ভের মতো সংবেদনশীল স্থানে—এভাবে একটি প্রাচীন কৃষ্ণচূড়া গাছের অদৃশ্য হয়ে যাওয়া শুধু পরিবেশগত ক্ষতিই নয়, এটি দায়িত্বশীলতারও বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দিন আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট অফিস দেখভাল করে’।
অন্যদিকে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানতে এস্টেট ম্যানেজার ফাতেমা বিনতে মুস্তাফার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
এমইউ/এফএআর/এমআইএইচএস/
সর্বশেষ - ক্যাম্পাস
- ১ ঢাবিতে ছুটির মধ্যে স্বাধীনতা স্মৃতিস্তম্ভের কৃষ্ণচূড়া গাছ উধাও
- ২ নিরাপদ পরিবহন নিশ্চিতসহ ছয় দফা দাবি জানালো ‘মঞ্চ ২৪’
- ৩ কিউএস র্যাঙ্কিংয়ে বিশ্বসেরার তালিকায় ঢাবির ১০ বিভাগ
- ৪ কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ে গুচ্ছভুক্ত সি ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত
- ৫ ইবিতে ১৪৫৬ পরিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে ‘সি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা শুরু