ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়
প্রক্টরের পদত্যাগের দাবিতে প্রশাসনিক ভবনে তালা, অবরুদ্ধ উপাচার্য
টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (মাভাবিপ্রবি) প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. ইমাম হোসেনের পদত্যাগের দাবিতে উপাচার্য কার্যালয়ে তালা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
সোমবার (৬ এপ্রিল) দুপুর ২টায় প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেয় শিক্ষার্থীরা। এ ঘটনায় ক্যাম্পাসজুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, আওয়ামীপন্থি হিসেবে পরিচিত কিছু শিক্ষককে পুনর্বাসনের লক্ষ্যে প্রশাসন পরিকল্পিতভাবে ‘সেইফ এক্সিট’ নিশ্চিত করেছে। আন্দোলনের বিরোধিতাকারী সাবেক সহকারী প্রক্টর সহকারী অধ্যাপক শাকিল মাহমুদ শাওনসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং অভিযুক্তদের দেশের বাইরে পাঠিয়ে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে, যার সঙ্গে প্রক্টরের সরাসরি সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে দাবি শিক্ষার্থীদের।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ২৪ সেপ্টেম্বর শিক্ষার্থীদের চাপে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তৎকালীন রেজিস্ট্রার ড. মোহা. তৌহিদুল ইসলামকে সাময়িক অব্যাহতি দেয় এবং আইসিটি বিভাগের অধ্যাপক ড. সাজ্জাদ ওয়াহিদকে অস্থায়ীভাবে দায়িত্ব প্রদান করে। তবে অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা প্রক্টরের ভূমিকা শিক্ষার্থীদের সামনে স্পষ্ট হয়ে ওঠে গত ৮ মার্চ, যেদিন তার পদত্যাগের দাবি প্রথম জোরালোভাবে ওঠে।
পরদিন ৯ মার্চ থেকে জ্বালানি সংকটজনিত কারণে সরকারি নির্দেশে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়ে গেলে আন্দোলন সাময়িকভাবে স্থগিত হয়। ঈদের ছুটি শেষে বিশ্ববিদ্যালয় খোলার পর শিক্ষার্থীরা আবারও আন্দোলন শুরু করে এবং তা ধীরে ধীরে তীব্র আকার ধারণ করে।

অভিযোগপত্র প্রক্রিয়াকরণ নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, প্রক্টর একই অভিযোগপত্রের দুটি কপি রেজিস্ট্রারের কাছে পাঠান—একটি অবিকৃত এবং অন্যটি বিকৃত। বিকৃত কপিতে অভিযুক্ত শিক্ষকের তথ্য আড়াল করা হয়। স্ট্যাপলার দিয়ে অংশবিশেষ ঢেকে ফটোকপি করার মাধ্যমে বিষয়টি গোপন রাখার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ। এর ফলে রিজেন্ট বোর্ডের বৈঠকে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোনো আলোচনা হয়নি; কেবল হলের নাম পরিবর্তনের বিষয়টি আলোচিত হয়।
শিক্ষার্থীরা আরও অভিযোগ করেন, পূর্বে একাধিকবার অভিযোগ দাখিলের চেষ্টা করা হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে তা গ্রহণে গড়িমসি করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীরা প্রক্টরকে অপসারণ এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে আলটিমেটাম দিয়েছিল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি আদায় না হওয়া উপাচার্য অফিসে তালা দিয়েছে। এদিকে অভিযোগ-সংশ্লিষ্ট নথি সংগ্রহে সহায়তার অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি জামিলকে উপাচার্য জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন এবং তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে ব্যক্তিগত কারণে চার দিনের ছুটিতে থাকা প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. ইমাম হোসেন নথি বিকৃতির বিষয়টি স্বীকার করলেও একে ‘ভুল বোঝাবুঝি’ বলে দাবি করেছেন। তিনি জানান, একটি কপি ‘ফর্মালি’ এবং অন্যটি ‘ইনফর্মালি’ ফরওয়ার্ড করা হয়েছিল। তবে তার বিরুদ্ধে আনা অন্য সব অভিযোগকে তিনি ‘ভিত্তিহীন ও বানোয়াট’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
উপাচার্য কার্যালয়ের সামনে চলমান কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব উপস্থিত ছিলেন। বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা এতে অংশ নেন, ফলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি সাগর নাইম বলেন, আমরা প্রশাসনের কাছে প্রক্টর স্যারের অসংগতি তুলে ধরে তার নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের জন্য পদত্যাগের দাবি জানাই। প্রশাসন আমাদের দাবি না মানায় আমরা প্রশাসনিক ভবন তালাবদ্ধ করে দিই।
মাভাবিপ্রবি ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক সাজিদুল ইসলাম দিপু বলেন, প্রক্টর যেই মতাদর্শেরই হোক না কেন দুর্নীতি করলে অবশ্যই তাকে শাস্তি পেতে হবে।
বৈষম্যবিরোধী আহ্বায়ক তুশার আহমেদ বলেন, প্রক্টরকে অপসারণ না করলে আমাদের আন্দোলন চলমান থাকবে।
এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ারুল আজীম জানান, আমরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের চেষ্টা করছি। যদি কেউ দোষী প্রমাণিত হয় তাকে অবশ্যই শাস্তি পেতে হবে।
আব্দুল্লাহ আল নোমান/কেএইচকে/এমএস