ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. ক্যাম্পাস

১২ থেকে ১৫ লাখ টাকায় ইবিতে শিক্ষকতার চাকরি!

প্রকাশিত: ০৮:৫২ এএম, ০২ এপ্রিল ২০১৭

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের সাবেক সভাপতি মো. রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্যের চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। নিজ বিভাগসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি বিভাগে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেয়ার আশ্বাস দিয়ে প্রার্থীদের সঙ্গে লেনদেন চূড়ান্ত করেছেন তিনি। তার ঘনিষ্ঠজনদের মাধ্যমে এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন রুহুল আমিন।

এ সংক্রান্ত মোবাইল ফোনে কথোপকথনের একটি অডিও রেকর্ড জাগো নিউজের হাতে এসেছে। এতে রুহুল আমিন তার এক বন্ধুকে প্রার্থীর সঙ্গে যোগাযোগের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিচ্ছেন।

তিনি বলেছেন, শিক্ষাজীবনের চারটি সনদের (মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক, স্নাতক ও স্নাতকোত্তর) সবকটিতে প্রথম শ্রেণি থাকলে ১২ লাখ টাকা হলেই প্রার্থীকে নিয়োগের জন্য চূড়ান্ত করা হবে। তিনটিতে প্রথম শ্রেণি থাকলেও চলবে। সেক্ষেত্রে লাগবে ১৫ লাখ টাকা। আর যারা টাকা দিতে চাইবে না, তাদের জন্য ভীষণ কঠোর তিনি। হুমকি দিয়ে বলেছেন, তার চাকরি যাতে জীবনে না হয়, সেই ব্যবস্থা আমি করে দেব।

প্রার্থী খুঁজে দেয়ার জন্য তার ওই বন্ধুকে নানা প্রলোভন দিয়েছেন রুহুল আমিন। আশ্বাস দিয়েছেন লেনদেনের একটি অংশ তাকে দেবেন, পিএইচডি ডিগ্রি সম্পন্নে সহযোগিতা করবেন এবং তাকেও বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিতে ব্যবস্থা নেবেন।

রুহুল আমিনের ওই বন্ধুর নাম মো. আবদুল হাকিম। তিনি বর্তমানে এশিয়ান ইউনিভার্সিটির হিসাববিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক। আর রুহুল আমিন এখন ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর।

২০১৫ সালের ২০ অক্টোবর ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের শিক্ষক নিয়োগের সার্কুলার হয়। ওইদিনই রুহুল আমিন আবদুল হাকিমের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করেন। ১০ মিনিট এক সেকেন্ডের ওই অডিও রেকর্ডে রুহুল আমিন নিজ বিভাগ ছাড়াও বিভিন্ন বিভাগের জন্য লোক খুঁজতে নির্দেশনা দেন। এর মধ্যে রয়েছে- মার্কেটিং, ফোকলোর স্টাডিজ এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও অর্থনীতি বিভাগ।

রেজিস্ট্রার অফিস সূত্র জানায়, এসব বিভাগের নিয়োগ নির্বাচনী বোর্ডে এখনও অনুষ্ঠিত হয়নি। তবে দ্রুতই এসব বিভাগের নিয়োগ সম্পন্ন করা হবে।

এ বিষয়ে মো. রুহুল আমিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি নিয়োগ বাণিজ্যে সংক্রান্ত বন্ধুর সঙ্গে কথোপকথনের বিষয়টি অস্বীকার করেন। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, এসবের সঙ্গে আমি সম্পৃক্ত নই।

এদিকে, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ বাণিজ্যের অডিও ফাঁস হওয়ার পর ক্যাম্পাসে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই ওই শিক্ষেকর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

রুহুল আমিন ও তার বন্ধু আবদুল হাকিমের কথোপকথনের অডিও শুনতে ক্লিক করুন

ফেরদাউসুর রহমান সোহাগ/আরএআর/জেআইএম