আমি কে, তুই আমাকে চিনিস?
সাব্বির রহমান বিশাল ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আইন বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জুয়েল রানা হালিমের অনুগত কর্মী। দেখতে বিশাল না হলেও কাজকর্মে তিনি নেতাগিরি দেখাতে কোনো অংশে পিছিয়ে নেই। মারামারি কিংবা নারী নিয়ে ফুর্তি কোনোটাই বাদ পড়েনি তার কর্মকাণ্ড থেকে। ক্লাস না করে শিক্ষকদের ম্যানেজ করা কিংবা হুমকি ধামকি দিতে পটু তিনি।
প্রতক্ষ্যদর্শী ও আনসার সদস্যরা জানায়, মেয়েদের হলগুলোতে সাধারণত সন্ধ্যার সঙ্গে সঙ্গে গেট বন্ধ হয়ে যায়। এরপর কেউ হল থেকে বের হতে বা প্রবেশ করতে চাইলে প্রাধ্যক্ষের অনুমতির প্রয়োজন হয়।
কিন্তু গতকাল শনিবার (২১ এপ্রিল) রাতে বিশালের প্রেমিকা আইন ও ভূমি ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী নুসরাত নওরিনের সঙ্গে ডেটিং শেষে রাত ৮টার পর বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব হলে ঢোকার সময় বাধে বিপত্তি।
এ সময় দায়িত্বরত আনসার সদস্য হলে প্রবেশে বাধা দিলে বিশাল তাকে দেখে নেয়ার হুমকি দেন। বিশাল বলেন, ‘তোর ডিউটি কখন শেষ হবে বল। তুই বের হ, তারপর তোকে দেখতেছি। আমি কে? তুই আমাকে চিনিস? আমি হালিম ভাইয়ের ছোট ভাই। আমি একটাও ক্লাস করি না, তাও স্যাররা আমার প্রেজেন্ট দিয়ে দেয়।
পরে বিশালের প্রেমিকাকে হলে ঢুকতে দিলে বিশাল চলে যান এবং কিছুক্ষণ পর আরও ১০-১৫ জনকে নিয়ে আনসার সদস্যকে মারতে আসেন। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের সিকিউরিটি অফিসার এসে তাকে নিয়ন্ত্রণ করে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. আহসান-উল হক আম্বিয়া বলেন, আমি ঘটনাটি শুনেছি। এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বিষয়টি জানতে চাইলে বিশাল বলেন, আসলে আমার ভুল হয়েছে। পরে বিষয়টি বুঝতে পেরেছি যে আমার এমন করা উচিৎ হয়নি।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জুয়েল রানা হালিম বলেন, অসুস্থতার কারণে আমি গতকাল ক্যাম্পাসের বাইরে ছিলাম। এ বিষয়ে আমার জানা নেই।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিশালের বাড়ি বগুড়া জেলায়। বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার মাত্র এক বছরের মাথায় টাকার জোরে ছাত্রলীগে নেতাদের প্রিয় পাত্র হন তিনি। এরপর সাধারণ সম্পাদকের গ্রুপের মাধ্যমে হলে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় তার অপকর্ম। বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীকে মারধর, মদ, গাঁজাসহ বিভিন্ন প্রকার মাদকে আসক্ত বলে একাধিক অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ক্লাসে তার উপস্থিতি একেবারেই শূন্যের কোঠায়।
এএম/আরআইপি