চার মাস সভাপতি শূন্য ইবির অর্থনীতি বিভাগ
প্রায় চার মাস ধরে সভাপতি ছাড়াই চলছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগ। গত ১৩ মার্চ অধ্যাপক আব্দুল মুঈদ সভাপতি পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তার পদত্যাগ পত্রটি গ্রহণ করা হয়নি। তবে পদত্যাগকারী সভাপতি তার দায়িত্বও আর পালন করছেন না। এতে বিভাগের ক্লাস-পরীক্ষা ও অফিস কার্যক্রমে চরম স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। এ দিকে ওই পদে দায়িত্বপ্রাপ্ত কেউ না থাকায় বিভাগটিতে বিভিন্ন জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে।
রেজিস্ট্রার অফিস ও বিভাগ সূত্র জানায়, গত ৫ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক নিয়োগ নির্বাচনী বোর্ড অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত বোর্ডের সদস্যরা পাঁচ জন প্রার্থীকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগের সুপরিশ করে সিন্ডিকেটে পাঠায়। নিয়োগ বোর্ডের সুপারিশক্রমে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৩৮তম সিন্ডিকেট সভায় ৫ জনকেই শিক্ষক হিসেবে অনুমোদন দেয়। পরে কর্তৃপক্ষ ৪ জনকে যোগদানপত্র দিলে তারা যোগদান করে। কিন্তু আরিফ নামের এক প্রার্থীর বিরুদ্ধে শিবির সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠলে কর্তৃপক্ষ তাকে যোগদানের অনুমতি পত্র না দেয়ায় তিনি যোগদান করতে পারেনি।
এ ঘটনার জেরে গত ১৩ মার্চ পদত্যাগ করেন অর্থনীতি বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক আব্দুল মুঈদ। রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে উপাচার্য বরাবর পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি। পদত্যাগের কারণ হিসেবে পদত্যাগ পত্রে উল্লেখ করেন, নিয়োগ বোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত এবং নিয়োগ পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকারী এক প্রার্থীকে যোগদান পত্র দেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ফলে তারা সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অসম্মানও করেছে। এ দিকে পদত্যাগ পত্র জমা দেয়ার প্রায় চার মাস পার হলেও কোনো সিন্ধান্ত গ্রহণ করেনি কর্তৃপক্ষ। ফলে সভাপতি ছাড়া বিভাগের ক্লাস ও অফিস কার্যক্রমে চরম স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। শিক্ষার্থীরা বিভাগের প্রত্যায়ন পত্র, সনদপত্র উত্তোলন করতে পারছে না। দুই মাস ধরে পরীক্ষা শেষ হলেও দুইটি ব্যাচের কোর্স বন্টণ না হওয়ায় তাদের ক্লাস শুরু হয়নি। এছাড়া অর্থ সংশ্লিষ্ট সকল কাজও আটকে আছে বলে বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।
এ বিষয়ে অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী তৌফিক এলাহী জানান, অনার্সের (সম্মান) কাগজপত্র উত্তোলন করার জন্য বেশ কয়েকদিন যাবৎ অপেক্ষা করতেছি। কিন্তু সভাপতির স্বাক্ষর ছাড়া কোনোভাবে সম্ভব হচ্ছে না। অনেক চাকরি আবেদনের সময় শেষ হচ্ছে যাচ্ছে। আমার বন্ধুরাও একই সমস্যার সম্মুখীণ হচ্ছে।
বিভাগের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের বিপ্লব এবং ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের আ. রহিম বলেন, পরীক্ষা শেষ হয়েছে প্রায় দেড় মাস। কিন্তু একাডেমিক কমিটির মিটিং না হওয়ায় পরের ইয়ারের কোর্স বন্টণ আটকে আছে। ফলে এখনো আমাদের ক্লাস শুরু হয়নি।
বিভাগের শাখা কর্মকর্তা মো. মারফত আলী জানান, সভাপতি ছাড়া বিভাগের কার্যক্রম পরিচালনায় জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। কোনো প্রকার চিঠি পত্রের জবাব ও অর্থের আদান প্রদান করা সম্ভব হচ্ছে না।
অর্থনীতি বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক আব্দুল মুঈদ বলেন, আমার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করছে না কর্তৃপক্ষ। তবে পদত্যাগপত্র জমা দেয়ার পর থেকে আমি সভাপতির দায়িত্ব পালন করছি না।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) এস এম আব্দুল লতিফ বলেন, অধ্যাপক আব্দুল মুঈদ পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে ছিলেন তবে পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেনি কর্তৃপক্ষ। তাকে বিভাগের সভাপতি পদে পুনরায় ফিরে যাওয়া জন্য বোঝানো হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক হারুন-উর-রশিদ আসকারী বলেন, পদত্যাগ পত্র জমা দেয়ার পরে আমি তার সঙ্গে কয়েকবার কথা বলেছি। যেহেতু সমস্যার সমাধান হয়নি তাই বিষয়টি আজই সমাধানের চেষ্টা করা হবে। সভাপতি যেহেতু কোনো কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন না তাই আমি বলেছি ওই বিভাগের যেকোন সমস্যা সরাসরি আমিই দেখব।
ফেরদাউসুর রহমান সোহাগ/আরএ/জেআইএম
আরও পড়ুন
সর্বশেষ - ক্যাম্পাস
- ১ হাইকোর্টের রিটের বিরুদ্ধে শাবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ মিছিল
- ২ সনদ জালিয়াতি করে চাকরির অভিযোগে বেরোবিতে দুদকের অভিযান
- ৩ রাকসুর জিএস আম্মারের মানসিক চিকিৎসার দাবি রাবি ছাত্রদলের
- ৪ নিরাপত্তার বলয়ে ঢাকা থাকবে ক্যাম্পাস, প্রস্তুত প্রক্টরিয়াল বডি
- ৫ ঢাবি ও খুবির ভাস্কর্য বিভাগের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর