ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. ক্যাম্পাস

সভার কার্যবিবরণীতে নিজ সিদ্ধান্ত অন্তর্ভুক্তি, পদ থেকে অব্যাহতি

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক | কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় | প্রকাশিত: ১০:০৫ পিএম, ০১ জুন ২০২১

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) অর্থকমিটির সভায় সিদ্ধান্ত হয়নি এমন একটি বিষয় কার্যবিবরণীতে যোগ করে বাস্তবায়ন এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অমান্য করার অভিযোগে অর্থ ও হিসাব দফতরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালককে অব্যাহতি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

মঙ্গলবার (১ জুন) জাগো নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ড. মো. আবু তাহের।

তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার ভারপ্রাপ্ত পরিচালককে শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের মোবাইল ও ইন্টারনেট ভাতা সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা দিলে তিনি তা কার্যকর করেননি। এই কারণে তাকে পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। বিষয়টি তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের একটি প্রজ্ঞাপনের আলোকে গেল বছরের নভেম্বরে অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৬তম অর্থ কমিটির সভায় প্রথম গ্রেড থেকে চতুর্থ গ্রেড পর্যন্ত সব শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের মোবাইল ফোন এবং ইন্টারনেট ভাতা বাবদ ১৫০০ টাকা করে দেয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। কিন্তু সভার কার্যবিবরণীতে পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) কামাল উদ্দিন ভূইয়া নিজ উদ্যোগে পঞ্চম গ্রেডকে ১০০০ টাকা করে দেয়ার সিদ্ধান্ত যুক্ত করে দেন এবং ডিসেম্বর মাস থেকে এ সুপারিশ বাস্তবায়ন করেন।

বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নজরে এলে পুরো প্রক্রিয়াটিই বন্ধ রাখার জন্য মৌখিকভাবে এ কর্মকর্তাকে একাধিকবার নির্দেশনা দেয়া হয়। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ এড়িয়ে গিয়ে ভাতা দেয়া অব্যাহত রাখায় এ কর্মকর্তাকে অব্যাহতি দেয়া হয়।

এ ঘটনা তদন্তে অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জাকির ছায়াদউল্লাহ খানকে আহ্বায়ক, বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. জি. এম. মনিরুজ্জামানকে সদস্য সচিব এবং ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগের অধ্যাপক ড. শেখ মকছেদুর রহমানকে সদস্য করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

এ বিষয়ে পদ হারানো কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, ‘অর্থ কমিটিতে শিক্ষক-কর্মকর্তাদের মোবাইল-ইন্টারনেট ভাতা প্রদানের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছিল। আমি সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেছি। এছাড়া ভাতা প্রদান প্রক্রিয়া বন্ধ রাখার জন্য আমাকে লিখিতভাবে জানানো হয়নি। তাই আমি এটি বন্ধ করিনি।’

এ বিষয়ে রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ড. মো. আবু তাহের বলেন, ‘ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নির্দেশ কার্যকর করাই অধস্তন ব্যক্তির দায়িত্ব। এছাড়া তিনি যদি লিখিত আদেশ চাইতো, তাহলে আমরা অবশ্যই অফিস আদেশ দিতাম।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক. ড. মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘অর্থকমিটির সভায় নতুন সিদ্ধান্ত যোগ করে তা বাস্তবায়ন করায় অর্থপরিচালককে পুরো প্রক্রিয়া বন্ধ রাখার জন্য নির্দেশনা দেয়া হলেও তা অমান্য করায় তাকে পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।’

এসজে/এমএস