অশুভ চক্রের ফাঁদে পা না দেওয়ার আহ্বান ইবি বঙ্গবন্ধু পরিষদের
ফাইল ছবি
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) কার্যক্রম চালানো বঙ্গবন্ধু পরিষদ শিক্ষক ইউনিটের অনুমোদন নেই বলে জানা গেছে। একইসঙ্গে পরিষদের কেন্দ্র ঘোষিত বিশ্ববিদ্যালয় কমিটির কাছেও স্বীকৃত নয় সংগঠনটি।
কেন্দ্র ঘোষিত কমিটির নেতাদের দাবি, সুচতুরতার সঙ্গে ‘বঙ্গবন্ধু পরিষদ’ নাম ব্যবহার করে কতিপয় শিক্ষক উদ্দেশ্যমূলকভাবে শিক্ষক ইউনিট নামে নতুন সংগঠন খুলেছেন। দেশের কোথাও শিক্ষক ইউনিট নামে বঙ্গবন্ধু পরিষদের কোনো ইউনিট নেই।
শনিবার সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষদ ভবনের শিক্ষক লাউঞ্জে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি করেন কেন্দ্র ঘোষিত কমিটির নেতারা। সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয় বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মাহবুবুল আরফিন লিখিত বক্তব্য তুলে ধরেন। পরিষদের শাখা সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর হোসেনের সভাপতিত্বে এ সময় কেন্দ্রীয় কমিটির আইন সম্পাদক অধ্যাপক ড. শাহজাহান মন্ডল, ইবি শাখার সহ-সভাপতি অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেনসহ অর্ধশত শিক্ষক-কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তব্যে তারা বলেন, শিক্ষক ইউনিটের সদস্যরা গভীর দুরভিসন্ধি ও অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী তথা মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষ শক্তির মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে তাদেরকে আদর্শচ্যুত করতে তৎপর হয়ে উঠেছে। এরই ধারাবাহিকতায় তারা গত ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসে বিশ্ববিদ্যালয় স্মৃতিসৌধের শহীদ বেদিতে হট্টগোল, গালাগালি ও বিশৃঙ্খল পরিবেশ তৈরি করে মহান স্বাধীনতার মহিমাকে ভূলুণ্ঠিত করেছে। এহেন অপকর্ম করতে তারা অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে ও সুচতুরতার সঙ্গে ‘বঙ্গবন্ধু পরিষদ’ শব্দ ব্যবহার করে একটি সংগঠন গড়ে তুলেছে। যাদের সঙ্গে জড়ো হয়েছে আদর্শচ্যুত, স্বীকৃত দুর্নীতিবাজ, সর্বমহলে ধিক্কৃত অনুপ্রবেশকারী, মধ্যস্বত্বভোগী একদল ব্যক্তি।
বক্তারা বলেন, শেখ হাসিনার অর্জিত উন্নয়নের গতিধারা ও অর্জনসমূহ নস্যাৎ ও প্রশ্নবিদ্ধ করতে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক পরিবেশ বিনষ্ট করার হীন উদ্দেশ্যে ক্যাম্পাস পরিমন্ডলে এই অনুপ্রবেশকারী-সুবিধালোভী চক্র যে অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে, তা একদিকে যেমন বঙ্গবন্ধু পরিষদের নীতি-আদর্শের সঙ্গে সম্পূর্ণরূপে সাংঘর্ষিক অন্যদিকে বাঙালি জাতীয়তাবাদ ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শের পরিপন্থি এবং শেখ হাসিনার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বিরোধী। ফলে জাতির পিতার নামাঙ্কিত ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় বঙ্গবন্ধু পরিষদের পক্ষ থেকে আবারো এ সব চক্রের অশুভ ফাঁদে পা না দিতে সবার প্রতি আহ্বান জানাই।
এদিকে, গত ২৭ মার্চ পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি ডা. এস এ মালেক স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্র ঘোষিত কমিটিই বিশ্ববিদ্যালয়ে একমাত্র বৈধ কমিটি। নিয়ম মাফিক মেয়াদ থাকা পর্যন্ত এ কমিটি কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বঙ্গবন্ধু পরিষদ শিক্ষক ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. তপন কুমার জোদ্দার বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু পরিষদ শিক্ষক ইউনিট নতুন কোনো সংগঠন নয়। ২০১৪ সাল থেকে শিক্ষকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৫ সালে এটি গঠিত হয়। এখানে চতুরতার কিছু নেই। ‘বঙ্গবন্ধু পরিষদ’ একটি ইন্টেলেকচুয়াল ফোরাম। আমাদের কলেবর বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে, শিক্ষকদের দাবি ও আদর্শের জায়গা থেকে তাদের স্বকীয়তা বজায় রেখেই শিক্ষক ইউনিট কাজ করে যাচ্ছে। আজ যারা অভিযোগ করছেন তাদের অনেকেই আমাদের সঙ্গে ছিলেন। ফলে আমরা যা করছি সেটি প্রত্যাশিত আর আমাদের বিরুদ্ধে তারা যে হুমকি-ধমকিসহ নানান কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন সেটিই অপ্রত্যাশিত।
রুমি নোমান/এসজে/জেআইএম