শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
শহরের বুকে যেন একটি সবুজ-হলুদ গ্রাম
পরিকল্পিত বনায়ন ও ল্যান্ডস্কেপিংয়ের ফলে বদলে গেছে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (শেকৃবি) প্রাঙ্গণ। কিছুদিন আগেও যেখানে ছিল গর্ত, ময়লার স্তূপ, বহুদিনের অব্যাবহারযোগ্য পুরোনো বাসভবন, সেখানে এখন বেড়ে উঠেছে ছোট ছোট নানা রকম ফুল ও ফলের গাছ। যেন সবুজে ছেয়ে গেছে পুরো ক্যাম্পাস। বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্যের এমন আমূল পরিবর্তনের প্রশংসা করছেন সাবেক ও বর্তমান শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
বিশ্ববিদ্যালয় ঘুরে দেখা যায়, ক্যাম্পাসের প্রায় সবখানেই পরিবর্তনের ছোঁয়া। রাস্তার ধারে লাগানো হয়েছে হরেক রকমের ফুলের গাছ, যা প্রকৃতি প্রেমীদের নজর কারতে বাধ্য। প্রশাসনিক ভবনের পূর্ব পাশ ও নতুন নির্মিত লুৎফর হলের পিছনের পাশ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কোথাও আগের মতো ঝোপঝাড়। কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে দীর্ঘদিনের অব্যাবহৃত ভবন ভেঙে করা হয়েছে দৃষ্টিনন্দন মাঠ। একই সঙ্গে উপাচার্যের ভবনের পিছনের ময়লার ভাগাড় পরিষ্কার করে করা হয়েছে শিশুদের জন্য খেলার মাঠ।

ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য বাড়াতে একটি সৌন্দর্য বর্ধন কমিটি করা হয়েছে। সেই কমিটি নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে বদলে দিয়েছে পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ের চিত্র। কমিটির সভাপতি করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শহীদুর রশীদ ভূঁইয়াকে। সদস্যসচিব হিসেবে আছেন উদ্ভিদ ও রোগতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম। কমিটিতে আরও রয়েছেন অধ্যাপক হাসানুজ্জামান আকন্দ, কৃষিবিদ ইব্রাহিম খলিলসহ অন্যরা। সৌন্দর্য বর্ধন কমিটির পরিকল্পিত ল্যান্ডস্কেপিংয়ে (গাছ লাগানোর নকশা) বিশ্ববিদ্যালয়ের দৃশ্যপটই বদলে গেছে। সৌন্দর্য বৃদ্ধি করতে দীর্ঘদিন ধরে পুরোনো বিল্ডিং, ময়লার স্তূপ অপসারণ, বিভিন্ন গর্ত ভরাট করে সেখানে বিভিন্ন ধরনের বনজ, ফলজ, ঔষধি এবং বিলুপ্ত প্রায় বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগিয়েছে কমিটি।
আরও পড়ুন>> সব দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস, কাল থেকে ক্লাস-পরীক্ষা শুরু
ক্যাম্পাসের এ পরিবর্তনের বিষয়ে কৃষি অনুষদের শিক্ষার্থী ফাহমিদা খাতুন জাগো নিউজকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে আগের যে দৃশ্য ছিল তার পুরোটাই পরিবর্তন হয়েছে। আগে রাস্তার চারপাশে নোংরা পরিবেশ ছিল। রাস্তাটাও অনেক সরু ছিল। এখন চওড়া রাস্তার দুপাশের গাছ ছাড়াও বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন প্রজাতির গাছ বুঝিয়ে দেয় এটা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। যেদিকে তাকাই সেদিকেই বিচিত্র সব রঙ-বেরঙের ফুলের সমারোহ। সবুজের ভেতর ফুটে আছে বিচিত্র সব ফুল। উপর থেকে পাখির চোখে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় দেখলে মনে হবে যেন শহরের বুকে সবুজ-হলুদ একটি গ্রাম। সারাদিনের ক্লাস-পরীক্ষা শেষে ফুলে ঘেরা শোভা ছড়ানো বাগান দেখলেই শরীরের কিছুটা ক্লান্তি দূর হয়। মনটা শীতল হয়ে যায়।

কমিটির সদস্যসচিব অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, শেকৃবি প্রাঙ্গণকে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ, ঔষধি ও শোভাবর্ধক মৌসুমি ফল ও ফুল গাছের সমারোহে একটি নান্দনিক ও নৈসর্গিক ক্যম্পাস করার লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করছে সৌন্দর্য বর্ধন কমিটি। আমাদের এ কমিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান দুটি প্রবেশ গেট, শেখ কামাল ভবনের সম্মুখভাগ, কৃষি অনুষদের ভেতর ও সম্মুখস্থ চত্বর, কৃষি অনুষদের পশ্চিম পাশের হর্টিকালচার পুকুরের চারপাশ বিশেষ করে এর সামনের দৃষ্টিনন্দন ফুলের বাগান, শহীদ মিনার চত্বর, নবনির্মিত ছাত্র-শিক্ষক মিলনায়তন চত্বর, শেখ লুৎফর রহমান হলের চত্বর এবং উপাচার্য ভবনের উত্তর পাশের ময়লার ভাগাড়কে পরিষ্কার করে সেখানে শিশু-কিশোরসহ সবার জন্য পার্ক-খেলার মাঠে পরিণত করেছে।
‘এছাড়াও ক্যাম্পাসের খালি জায়গাসমূহে পরিকল্পিতভাবে কৃষিশিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ, ঔষধি ও অর্নামেন্টাল প্রকৃতির গাছ-গাছরা রোপন করে ও নিয়মিত পরিচর্যার মাধ্যমে একটি অনন্য সুন্দর ক্যাম্পাস তৈরি করার আপ্রাণ চেষ্টা করছি আমরা।’ যোগ করেন তিনি।
আরও পড়ুন>> ১৬ জনের পদত্যাগের নেপথ্যে উপাচার্য-প্রক্টর দ্বন্দ্ব!
তবে কেউ যেন ক্যাম্পাসে লাগানো ফল-ফুলের গাছ নষ্ট করতে না পারে সে ব্যাপারে তিনি সাধারণ শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শ্রমিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে কমিটির সদস্য ইবরাহিম খলিল জাগো নিউজকে বলেন, প্রায় ৫০০ ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছ লাগিয়েছি। শোভাবর্ধক গাছ আছে ৩০০টি। এছাড়াও রাস্তার ধারে প্রায় ৯০টি টবে গাছ লাগিয়েছি। বিভিন্ন জায়গায় হেজ প্ল্যান্টও লাগিয়েছি। ক্যাম্পাসজুড়ে পলাশ, কাঞ্চন, জাকারান্ডা, ছাতিম, হিজল, তমাল, নীল পারুল, নীল মনিলতা, মাধবীলতা, জুঁই, ঝুমকোলতাসহ সব ধরনের ফলজ, বনজ, ঔষধি এবং ফুলের গাছ লাগানোর চেষ্টা করেছি।
তিনি আরও বলেন, সব গাছে নাম (নেমপ্লেট) যুক্ত করা হবে যেন আমাদের শিক্ষার্থীরা দেখেই চিনতে পারে। ছোটবেলা থেকেই আমি গাছ নিয়ে ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিয়ে কাজ করতে ভালোবাসি। আগামী ১-২ বছরের মধ্যে আমাদের সাধ্য অনুযায়ী শেকৃবিকে একটি মডেল বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করতে চাই। একটি বিশ্ববিদ্যালয় যে কতটা সাজানো-গোছানো রাখা সম্ভব সেটা করতে চাই।
তাসনিম আহমেদ তানিম/ইএ/এমএস