টানা ৮ ঘণ্টার বিদ্যুৎ বিভ্রাট, শিক্ষার্থীদের রাস্তা অবরোধ
বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ নম্বর গেটের সামনের রাস্তা অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) টানা আট ঘণ্টার বিদ্যুৎ বিভ্রাটের প্রতিবাদে রাস্তায় অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার (২৩ মে) রাত ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত ঘণ্টাব্যাপী বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ নম্বর গেটের সামনে ঢাকা-রংপুর-কুড়িগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন তারা। এ সময় সৃষ্ট যানজটে দুর্ভোগে পড়েন চালক ও যাত্রীরা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিকেল ৩টায় ঝড়ের সময় চলে যায় বিদ্যুৎ, রাত ৮ টায় বিদ্যুৎ এলেও ৫-১০ মিনিটের মাথায় চলে যায়। নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানির (নেসকো) দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের একাধিকবার ফোন করলেও কোনো সাড়া পাননি শিক্ষার্থীরা। রাত ১১টা বাজলেও ক্যাম্পাসে বিদ্যুৎ আসেনি। অথচ ক্যাম্পাসের আশপাশে আবাসিক এলাকায় বিদ্যুৎ দেখা যায়। ফলে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবিতে বাধ্য হয়ে রাস্তায় নামেন শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থী ইমরান ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, ‘আমার বুধবার ফাইনাল পরীক্ষা। রাত ১১টা বাজে বিদ্যুৎ আসার কোনো নাম নেই। এভাবে চললে তো আমার মতো অনেক শিক্ষার্থী আছে ফেল করবে।’
রাস্তা অবরোধ করে রাখা আরেক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ চাই। ক্যাম্পাসে ঘন ঘন লোডশেডিং আমাদের পড়াশোনার ক্ষতি হয়। যা মোটেও কাম্য নয়। প্রয়োজনে জেনারেটরের ব্যবস্থা রাখতে হবে। দাবি একটাই ২৪ ঘণ্টাই বিদ্যুৎ চাই।
এদিকে রাত ১২টার দিকে পুনরায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হলে মহাসড়ক থেকে অবরোধ তুলে নেয় শিক্ষার্থীরা। বর্তমানে যান চলাচল স্বাভাবিক আছে।
নেসকোর দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, মঙ্গলবার বিকেলে ঝড়ের কারণে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ হয়ে যায়। পরে সমস্যা চিহ্নিত করতে অনেক সময় লাগার কারণে পুনরায় বিদ্যুৎ সংযোগ স্থাপন করতে সময় লেগে যায়।

বিদ্যুৎ ভোগান্তির বিষয়ে বেরোবি শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজার রহমান শামীম জাগো নিউজকে বলেন, ছাত্রলীগ সবসময় সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশে ছিল ভবিষ্যতেও থাকবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি বিষয়টি দেখবেন দ্রুত সমাধান করবেন।
শিক্ষার্থীদের সমস্যা ও আন্দোলনের বিষয়ে কথা বলতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর গোলাম রব্বানী ও ছাত্র উপদেষ্টা সৈয়দ আনোয়ারুল আজিমের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল দিলেও রিসিভ করেননি।

এ বিষয়ে তাজহাট মেট্রোপলিটন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম নাজমুল কাদের জাগো নিউজকে বলেন, দুপুরে ঝড়-বৃষ্টিতে বিদ্যুতের থ্রেট ফেল করেছিল। শিক্ষার্থীদের পরদিন পরীক্ষা থাকায় তারা রাস্তায় এসে বিদ্যুতের দাবি জানায়। কথা বললে বিদ্যুৎ চলে আসে। তখন শিক্ষার্থীদের বুঝিয়ে ক্যাম্পাসে পাঠানো হয়।
বিদ্যুৎ বিভ্রাটের বিষয়ে বেরোবি উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. সরিফা সালোয়া ডিনা জাগো নিউজকে বলেন, এটি আসলেই আমাদের জন্য দুঃখজনক। তবে বিষয়টি আমরা আমলে নিয়েছি। দ্রুত সমাধান করবো।
এসজে/জেআইএম