ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. ক্যাম্পাস

জাবিতে ‘ভিডিও করছে’ সন্দেহে সাংবাদিককে পেটালো ছাত্রলীগ

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক | জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় | প্রকাশিত: ০৮:৪৫ এএম, ২২ আগস্ট ২০২৩

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ‘ভিডিও করছে’ সন্দেহে বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত এক সাংবাদিককে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে।

রোববার (২০ আগস্ট) দিনগত রাত ২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের মাঠে মারধরের এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় বিচার চেয়ে হলের প্রাধ্যক্ষ বরাবর অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক।

অভিযুক্তরা হলেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের উপ-পাঠাগার বিষয়ক সম্পাদক মেহেদী হাসান, ছাত্রলীগ কর্মী মোহাম্মদ নাঈম হোসেন, আমিনুর রহমান সুমন, হৃদয় রায় ও শাফায়েত হোসেন তোহা। তারা সবাই বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান লিটনের অনুসারী বলে পরিচিত।

ভুক্তভোগী সাংবাদিক আসিফ আল মামুন বার্তা সংস্থা ইউনাইটেড নিউজ অব বাংলাদেশের (ইউএনবি) জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের (৪৬তম ব্যাচ) ছাত্র।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, হলের দোকানে চা পান করার সময় হলের গেটে কয়েকজন শিক্ষার্থী হঠাৎ একজনকে ‘চোর, চোর’ বলে ধাওয়া করেন। তারা হলের ভেতরে খেলার মাঠের দিকে এগিয়ে এলে সাংবাদিক আসিফ সেখানে দৌড়ে যান। এসময় ধাওয়াকারীরা অন্ধকারের মধ্যে আসিফকে বেধড়ক মারধর ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। আসিফ নিজেকে হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক পরিচয় দেন। তারপরও তাকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তার শার্ট এবং জুতা ছিঁড়ে যায়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের অতিথি কক্ষে ছাত্রলীগের কর্মীদের ‘গেস্টরুম’ করানো হচ্ছিল। গেস্টরুম চলাকালে ‘বাইরে থেকে কেউ ভিডিও করছে’ এমন সন্দেহে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা একজনকে ধাওয়া করেন। তারা সন্দেহজনক ব্যক্তিকে ‘চোর চোর’ বলে ধাওয়া করায় হলের মাঠে হট্টগোল শুরু হয়। তখন আসিফ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে ভিডিও করা সন্দেহে তাকে মারধর করা হয়। তাকে মারধরের একটি ভিডিও এ প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। ভিডিওতে ছাত্রলীগের এক কর্মীকে বলতে শোনা যায়, ‘আপনি সাংবাদিক হলে গেস্টরুমে কী করেন?’

ভুক্তভোগী সাংবাদিক আসিফ আল মামুন বলেন, ‘ঘটনার সময় হলের দোকানে চা পান করছিলাম। হট্টগোল শুনে কৌতূহলবশত হলের মাঠে গিয়েছিলাম। কারণ হল থেকে মাঝেমধ্যে সাইকেলসহ বিভিন্ন জিনিস চুরি হয়। সেখানে আমাকে দেখে হঠাৎ তারা মারধর শুরু করেন। সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পর তারা আরও বেশি মারধর করেছেন। গেস্টরুমের আশপাশে ছিলাম কি না, ভিডিও করছিলাম কি না প্রশ্ন করতে থাকেন।’

তবে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্তরা।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান লিটন বলেন, ‘যতদূর শুনেছি, সাংবাদিক আসিফকে সাধারণ শিক্ষার্থীরা মারধর করেছে। তবে ছাত্রলীগের কেউ যদি জড়িত থাকে, তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের ওয়ার্ডেন ও ভারপ্রাপ্ত প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক এজহারুল ইসলাম বলেন, ‘সাংবাদিক আসিফের সঙ্গে যে ঘটনা ঘটেছে, তা অনাকাঙ্ক্ষিত। লিখিত অভিযোগ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেবো।’

মাহবুব সরদার/এসআর/জিকেএস