জাবিতে সাংবাদিককে মারধরের বিচার দাবিতে মানববন্ধন
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) সাংবাদিককে মারধরের ঘটনায় জড়িতদের বিচার দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২৩ আগস্ট) কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার সংলগ্ন সড়কে এ মানববন্ধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিকরা।
মানববন্ধনে ছাত্র ইউনিয়ন জাবির সাংগঠনিক সম্পাদক আলিফ মাহমুদ বলেন, স্বাধীন সাংবাদিকতা এখন কঠিন হয়ে গেছে। গণরুম, গেস্টরুম প্রথা জিইয়ে রাখতে ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠন বদ্ধপরিকর। অতীতে সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনার যথাযথ বিচার না হওয়া ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে কার্যকরী কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় ছাত্রলীগ বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক শামছুল আলম বলেন, আমরা একটি ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রে বসবাস করছি, যেখানে বিচারহীনতা রাষ্ট্রের মূল অবস্থা। আগেও বহু সাংবাদিককে মারধরের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, অথচ সুষ্ঠু বিচার হয়নি।
আরও পড়ুন: জাবিতে ‘ভিডিও করছে’ সন্দেহে সাংবাদিককে পেটালো ছাত্রলীগ

দর্শন বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকদের কারণে নিরাপদে চলাচল করতে পারি। সাংবাদিকরা এখনো প্রতিবাদের জায়গা ধরে রেখেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল্যবোধের অবক্ষয়ের সময়ে সাংবাদিকেরা টানেলের শেষ প্রান্তের আলো হয়ে আছে। জাহাঙ্গীরনগরকে কেবল বিশ্ববিদ্যালয় নয়, একটি মতাদর্শ মনে করি। সাংবাদিককে মারধরের প্রতিবাদ তারই প্রমাণ। সুষ্ঠু বিচার না হওয়া পর্যন্ত সাংবাদিকদের সব প্রতিবাদের পাশে থাকবো।
জাবি সাংবাদিক সমিতির সভাপতি ও দৈনিক ইত্তেফাকের সংবাদদাতা আরিফুজ্জামান উজ্জ্বল বলেন, সাংবাদিকদের ওপর হামলা মানে গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করার পাঁয়তারা। বিগত কয়েকবছর সাংবাদিক মারধরকারীদের বিচারের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের গড়িমসি দেখা যায়। শুধু সাংবাদিককে মারধরের ক্ষেত্রে নয়, সাধারণ শিক্ষার্থীদের নির্যাতনের ক্ষেত্রেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এখন গড়িমসি করে। তারা জড়িতদের সবাইকে শাস্তি না দিয়ে গুটি কয়েকজনকে শাস্তি দিয়ে দায়মুক্তি নিচ্ছে। ফলে সাংবাদিকসহ শিক্ষার্থী নির্যাতন বাড়ছে। তাই প্রশাসনকে বলতে চাই, সাংবাদিককে মারধরের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত সময়ের মধ্যে সুষ্ঠু তদন্ত করে বিচারের আওতায় আনতে হবে।
দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের জাবি প্রতিনিধি হাসিব সোহেলের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে দৈনিক জনকণ্ঠ প্রতিনিধি ইমন মাহমুদ, দৈনিক ভোরের কাগজ প্রতিনিধি নুর হাছান নাঈম, দৈনিক যায়যায়দিন প্রতিনিধি শিহাব উদ্দিন, দৈনিক মানবকণ্ঠ প্রতিনিধি নাছির উদ্দিন শিকদার প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
এছাড়া মানববন্ধনে সংহতি জানিয়ে জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মৃধা মো. শিবলী নোমানসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে রোববার দিনগত রাত ২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের গেস্টরুমের ভিডিও ধরণ নিয়ে সন্দেহে হলের মাঠে গিয়ে বার্তা সংস্থা ইউনাইটেড নিউজ অব বাংলাদেশের (ইউএনবি) জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আসিফ আল মামুনকে মারধর করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।
মাহবুব সরদার/আরএইচ/জিকেএস