প্রাণ-প্রকৃতি সংরক্ষণের বার্তা ছড়িয়ে জাবিতে প্রজাপতিমেলা
প্রাণ-প্রকৃতি সংরক্ষণের বার্তা ছড়িয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) শুরু হয়েছে দিনব্যাপী প্রজাপতিমেলা। শুক্রবার (২৪ নভেম্বর) বেলা ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান মিলনায়তনের সামনে জীবন্ত প্রজাপতি অবমুক্ত করে মেলার উদ্বোধন করেন জাবি উপাচার্য অধ্যাপক মো. নূরুল ইসলাম।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের কীটতত্ত্ব শাখা ১৩ বছর ধরে এ মেলার আয়োজন করে আসছে। এবার মেলার প্রতিপাদ্য ‘উড়লে আকাশে প্রজাপতি, প্রকৃতি পায় নতুন গতি’।

উদ্বোধনী বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক মো. নূরুল আলম বলেন, প্রজাপতিমেলা সবার কাছে প্রিয় হয়ে উঠেছে। এত সংখ্যক লোকের উপস্থিতিই তার প্রমাণ। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ-প্রকৃতি রক্ষায় আমরা দুটি মাস্টারপ্ল্যানের চেষ্টা করছি। একটি বায়োডাইভারসিটি প্ল্যান অপরটি একাডেমিক। মেলায় প্রজাপতির আদলে যেসব প্রদর্শনী হচ্ছে তা শিশুদের মনে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে।
এ সময় উপাচার্য দর্শনার্থী, প্রজাপতি বিশেষজ্ঞসহ সবাইকে ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি প্রকৃতি সংরক্ষণে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
মেলার আহ্বায়ক ও প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মনোয়ার হোসেন বলেন, মেলার মাধ্যমে আমরা সবার কাছে এ বার্তা দিতে চাই যে, প্রাণ-প্রকৃতি সংরক্ষণ এবং আমাদের অস্তিত্ব রক্ষায় প্রজাপতিকে টিকিয়ে রাখতে হবে। ১৩ বছর ধরে এ মেলার আয়োজনের মধ্য দিয়ে আমরা শিশু-কিশোরদের প্রজাপতি প্রদর্শনের পাশাপাশি প্রকৃতিতে প্রজাপতির গুরুত্ব বোঝাতে কাজ করছি।
তিনি আরও বলেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অতীতে প্রজাপতির ১১০টি প্রজাতি গেলেও ১৩ বছরে তা অর্ধেকে নেমে এসেছে। তাই আমাদের অস্তিত্বের খাতিরে প্রকৃতিতে প্রজাপতিকে অবশ্যই টিকিয়ে রাখতে হবে।
এ সময় প্রকৃতি সংরক্ষণে সার্বিক অবদানের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মো. আনোয়ারুল ইসলামকে ‘বাটারফ্লাই অ্যাওয়ার্ড’, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী মো. জহির রায়হানকে ‘বাটারফ্লাই ইয়াং ইনথুসিয়াস্ট অ্যাওয়ার্ড’ দেওয়া হয়।

এছাড়া প্রজাপতি সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন প্রকাশের জন্য জাগো নিউজের সাভার প্রতিনিধি মাহফুজুর রহমান নিপু, বাংলা ট্রিবিউনের জাবি প্রতিবেদক ওয়াজহাতুল ইসলামসহ মোট ৩জনকে তিন ক্যাটাগরিতে ‘বাটারফ্লাই মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড’ দেওয়া হয়।
মেলার শিশু-কিশোরদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণিপেশার লোকজনের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মত। অন্য আয়োজনের মধ্যে আছে শিশু কিশোরদের জন্য প্রজাপতিবিষয়ক ছবি আঁকা প্রতিযোগিতা, প্রজাপতির আলোকচিত্র প্রদর্শনী, র্যালি, প্রজাপতি বিষয়ক আলোকচিত্র প্রতিযোগিতা, প্রজাপতি হাট দর্শন, প্রজাপতির আদলে ঘুড়ি উড্ডয়ন, অরিগামি প্রজাপতি, বারোয়ারি বিতর্ক, প্রজাপতি চেনা প্রতিযোগিতা ও প্রজাপতি বিষয়ক ডকুমেন্টারি প্রদর্শনী।
মাহবুব সরদার/এসজে/জিকেএস