ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. ক্যাম্পাস

ঢাবিতে বিভাগীয় চেয়ারম্যান হলেন জুলাই গণহত্যা মামলার আসামি

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ০২:৫৩ পিএম, ১১ জানুয়ারি ২০২৬

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার আসামি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সাবেক প্রক্টরকে বিভাগীয় চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর ও ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষক প্রফেসর এ কে এম গোলাম রব্বানী।

শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাতে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রফেসর গোলাম রব্বানীর সই করা একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হলে বিষয়টি সামনে আসে। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরপরই শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ এ নিয়োগের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে।

গত ৭ ডিসেম্বর ওই বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আতাউর রহমান বিশ্বাসের মৃত্যুতে পদটি শূন্য হয়। সেই শূন্যপদেই বর্তমানে প্রফেসর গোলাম রব্বানীকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

প্রফেসর গোলাম রব্বানীর বিরুদ্ধে জুলাই অভ্যুত্থানে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় দায়ের হওয়া একটি মামলায় তিনি ঢাকা মহানগর মুখ্য হাকিম আদালতের মামলার ৮ নম্বর আসামি। মামলাটির প্রধান আসামি হিসেবে রয়েছেন পলাতক মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শেখ হাসিনা। এছাড়া, একই মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সেতু ও যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, পুলিশের সাবেক আইজিপি মো. জাবেদ পাটোয়ারী এবং সাবেক ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়াসহ একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম রয়েছে।

এছাড়াও, প্রফেসর গোলাম রব্বানীর বিরুদ্ধে অতীতে আরও একাধিক মামলা রয়েছে। ২০২২ সালে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের দ্বারা ছাত্রদলের ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের হওয়া একটি হত্যাচেষ্টা মামলায়ও তার নাম রয়েছে। পাশাপাশি সাবেক ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুর ও ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলাগুলোতেও তিনি অভিযুক্ত।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ৫ আগস্টের পর শিক্ষার্থীরা তার বিরুদ্ধে আন্দোলন ও একাডেমিক বয়কট শুরু করলে তিনি শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চেয়ে বিভাগে উপস্থিত হন। তবে এরপরও জুলাই গণঅভ্যুত্থান বিষয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল শাখার এক নেতাকে গোপনে পরীক্ষায় অংশগ্রহণে সহায়তার অভিযোগও রয়েছে।

এই নিয়োগকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ডাকসুর সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ বলেন, জুলাই গণহত্যার মামলার আসামি এবং হাজারো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ ধ্বংসের অভিযোগ থাকা গোলাম রব্বানীকে বিভাগীয় চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের চরম ব্যর্থতার পরিচয়। ফ্যাসিস্ট শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো তাদের পুরস্কৃত করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যদি দ্রুত এই রাব্বানীসহ ফ্যাসিবাদের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়, তাহলে যে কোনো উদ্ভূত পরিস্থিতির সম্পূর্ণ দায় প্রশাসনকেই নিতে হবে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশার বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তার কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

এদিকে প্রশাসনের নেওয়া এমন সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে কালবিলম্ব না করে তাকে চেয়ারম্যানের পদ থেকে অপসারণের দাবিতে ভিসি বরাবর স্মারকলিপি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ডাকসু।

গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে ডাকসু উল্লেখ করেছে, জুলাই গণহত্যার মামলার আসামি হাজারো শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার ধ্বংসের কারিগর ডাকাত খ্যাত প্রক্টর গোলাম রব্বানীকে চেয়ারম্যান নিয়োগের প্রতিবাদ, তাকে চেয়ারম্যান পদ থেকে অপসারণসহ সব ফ্যাসিস্টদের বিরুদ্ধে কালবিলম্ব না করে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে ভিসি বরাবর স্মারকলিপি দেওয়া হবে বিকেল ৩টায়।

এফএআর/এএমএ/জেআইএম