হো চি মিনকে অনুষ্ঠানে অংশ নিতে বাধা, নর্থ সাউথকে ইউজিসির চিঠি
নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (এনএসইউ) উইমেন্স ক্যারিয়ার কার্নিভ্যালে অধিকারকর্মী হো চি মিন ইসলামকে অংশ নিতে না দেওয়ার ঘটনায় ব্যাখ্যা চেয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। বুধবারের (২৯ নভেম্বরের) মধ্যে নর্থ সাউথ কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। হো চি মিন ইসলাম লিঙ্গ রূপান্তরিত নারী (ট্রান্সজেন্ডার)।
মঙ্গলবার (২৮ নভেম্বর) ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. বিশ্বজিৎ চন্দ এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, হো চি মিনের সঙ্গে যা ঘটেছে, তা জানার সঙ্গে সঙ্গে এ বিষয়ে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছি। তাদের তিনদিন সময় দেওয়া হয়েছে।
ইউজিসি সূত্র জানায়, রোববার (২৬ নভেম্বর) ইউজিসি এ ঘটনার ব্যাখ্যা চেয়ে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়কে চিঠি পাঠিয়েছে। এতে সই করেন ইউজিসির বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার পরিচালক মো. ওমর ফারুখ।
এতে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয় মুক্তচিন্তা ও মুক্তবুদ্ধিচর্চার সূতিকাগার। এরূপ চর্চা ও বিশ্ববিদ্যালয় একে অপরের পরিপূরক। নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এরূপ আচরণ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১০, মুক্তচিন্তার বিকাশ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, বাংলাদেশের সংবিধান এবং সর্বোপরি বিশ্ববিদ্যালয় ধারণার পরিপন্থি।
চিঠিতে আরও বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের বক্তব্য আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে ইউজিসিতে পাঠানোর অনুরোধ করা হলো।
২৪ নভেম্বর আই সোশ্যাল আয়োজিত ক্যারিয়ার কার্নিভাল অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালের সেবিকা এবং ট্রান্সজেন্ডার নারী হো চি মিন। তবে বাধার মুখে ওই অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া হয়নি ট্রান্সজেন্ডার হো চি মিন ইসলামের।
নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থীর আন্দোলনের মুখে অনুষ্ঠানে হো চি মিনের সেশনটি বাতিল হয়ে যায়। বিষয়টি নিয়ে নিজের ফেসবুকে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান হো চি মিন। এরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে সমালোচনার ঝড় ওঠে।
এএএইচ/জেডএইচ/জেআইএম