ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. ক্যাম্পাস

হল ছেড়েছে যবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা

প্রকাশিত: ০৮:৫০ এএম, ২৭ এপ্রিল ২০১৬

ছাত্র আন্দোলনের জের ধরে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি) বন্ধ ঘোষণার পর শিক্ষার্থীরা হল ছেড়ে চলে গেছেন। মঙ্গলবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ গ্রীষ্মকালীন ছুটি ঘোষণার পর সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে ছাত্ররা এবং বুধবার সকাল ৯টার মধ্যে ছাত্রীরা হল ত্যাগ করে।

যবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুস সাত্তার জানান, উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে গ্রীষ্মকালীন ছুটি এগিয়ে এনে ২৭ এপ্রিল থেকে ১১ মে পর্যন্ত ঘোষণা করা হয়েছে। এই ছুটি ২৬ মে হতে ১০ জুন পর্যন্ত হওয়ার কথা ছিল।

এর আগে মঙ্গলবার দুপুরে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ ও প্রশাসন ভবন অবরোধের ঘটনায় সেখানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এ সময় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে এবং ২৭ জনকে আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মঙ্গলবার রাতে পুলিশ ২৫ জনকে ছেড়ে দিয়েছে। আর যবিপ্রবি কর্তৃপক্ষের দায়েরকৃত মামলার আসামি হওয়ায় শিক্ষার্থী বাদলসহ দু’জনকে আটক রাখা হয়েছে।

যশোর কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইলিয়াস হোসেন জানান, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মঙ্গলবার বিকেলে ২৭ শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়। এর মধ্যে ৬/৭ জনকে রেখে বাকীদের ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালের ৮ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ে এক ছাত্রীকে মারপিট ও লাঞ্ছিত করে কর্মচারী বদিউজ্জামান বাদলের ভাই শরীফ। এ নিয়ে শিক্ষার্থী ও বাদল সমর্থকরা ১০ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তদন্ত কমিটি গঠন করে।

তদন্ত প্রতিবেদনে কর্মচারী বদিউজ্জামান বাদল ও শিক্ষার্থী নাসির উদ্দিন বাদলকে স্থায়ী বহিষ্কার এবং আরও ৪ শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তির সুপারিশ করা হয়েছে। বিষয়টি জানাজানির পর দুই পক্ষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। ১০ এপ্রিল শিক্ষার্থীরা বাদলের স্থায়ী বহিষ্কার ও পাঁচ শিক্ষার্থীর বহিষ্কার প্রত্যাহারের দাবিতে আন্দোলনে নামে। ১৬ দিন ধরে ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে।

অপরদিকে, কর্মকর্তা কর্মচারীরা বদিউজ্জামান বাদলের আজীবন বহিষ্কার প্রত্যাহার ও পাঁচ শিক্ষার্থীর শাস্তির দাবিতে পাল্টা কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে। দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিতে অচল হয়ে পড়ে ক্যাম্পাস। এরই মধ্যে রোববার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৪ জন শিক্ষার্থীসহ ২৮ জনের নামে তথ্য প্রযুক্তি আইনে দুটি মামলা করা হয়। এরপর মঙ্গলবার বিক্ষোভের জেরে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হলো।

মিলন রহমান/এসএস/পিআর