২৩ বছরেও আলোর মুখ দেখেনি ভোরাঘাট সিমেন্ট ফ্যাক্টরি
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় ভোরাঘাট সিমেন্ট ফ্যাক্টরি স্থাপন প্রকল্প দীর্ঘ ২৩ বছরেও আলোর মুখ দেখেনি।
জানা গেছে, ১৯৯৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি উপজেলার শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের ভোরাঘাট গ্রাম সংলগ্ন সরকারি জায়গায় একটি সিমেন্ট ফ্যাক্টরি স্থাপনের জন্য বিসিআইসিকে (বাংলাদেশ রাসায়নিক শিল্প করপোরেশন) নির্দেশ দেয় শিল্প মন্ত্রণালয়। তৎকালীন সময়ে বিসিআইসি সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য একটি টিম গঠন করে। ওই কমিটি উক্ত স্থান পরিদর্শন শেষে যে প্রতিবেদন পেশ করে তার ভিত্তিতে ১৯৯৩ সালের মার্চে শিল্প মন্ত্রণালয় আরেকটি কমিটি গঠন করে।
দ্বিতীয় দফায় ওই কমিটিও পরিদর্শন শেষে উপযুক্ত স্থান হিসেবে ভোরাঘাট এলাকাকে চিহ্নিত করে সিমেন্ট ফ্যাক্টরি স্থাপনের জন্য একটি লিখিত সুপারিশনামা পেশ করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে। কিন্তু আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটির সুপারিশের কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় প্রকল্প স্থাপনের কাজটি চাপা পড়ে আছে আজ পর্যন্ত।
এ প্রসঙ্গে স্থানীয় শ্রীপুর গ্রামের বাসিন্দা দুলাল পাল আকাশ, সাহাজ উদ্দিন সাজন এবং তরং গ্রামের বাসিন্দা শামছুল আলম আখঞ্জীসহ অনেকেই বলেন, প্রকল্পটি স্থাপন হলে স্থানীয়দের বেকারত্ব অনেকাংশেই কমে যেত। এ ব্যাপারে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছেন তারা।
সুনামগঞ্জ-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নজির হোসেন বলেন, ফাজিলপুর মহালের বালি পরিকল্পিতভাবে উত্তোলন করে গাস ফ্যাক্টরি ও সিমেন্ট তৈরির উপযোগী পাথর ব্যবহার করে এখানে সিমেন্ট ফ্যাক্টরি স্থাপন করলে হাজার হাজার মানুষের যেমন কর্মসংস্থান হবে, তেমনি অবহেলিত এ জনপদের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।
বিসিআইসি কর্মকর্তা ছাতক সিমেন্ট ফ্যাক্টরির ম্যানেজিং ডাইরেক্টর (এমডি) আবুল হাসনাত চৌধুরী বলেন, ছাতক সিমেন্ট ফ্যাক্টরিকে আধুনিকায়ন করার কাজ হাতে নিয়েছে সরকার। আপাতত ওই প্রকল্পের বিষয়টি স্থগিত রয়েছে। তবে পাশ্ববর্তী টেকেরঘাট চুনাপাথর খনিজ প্রকল্প এলাকায় একটি ক্লিংকার ফ্যাক্টরি করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার।
সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতন বলেন, বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাপ করবো।
এসএস/এমএস