ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

লক্ষ্মীপুরে ৫০০ হেক্টর আউশ ও সবজি পানির নিচে

প্রকাশিত: ০৩:০২ এএম, ২৪ মে ২০১৬

ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর প্রভাবে লক্ষ্মীপুরে প্রায় ২ কোটি টাকার গাছ-গাছালি ও ফসলের ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। এর মধ্যে ২০০ হেক্টর সবজি ও ৩০০ হেক্টর আউশ পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

আর দুই একদিনের মধ্যে মাঠে জমা পানি না নামলে আউশে পচন ধরবে। এতে চলতি মৌসুমে আউশ ধান উৎপাদন ব্যাহত হবে।

জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ঠ সূত্রে জানা যায়, জেলা সদর, রামগতি, কমলনগর, রায়পুরে ঝড়ে তিন শতাধিক ছোট-বড় বিভিন্ন গাছ উপড়ে পড়েছে। এর মধ্যে চাঁদপুর সেচ প্রকল্পের বেড়িবাঁধের দু’পাশের অন্তত ৩০টি গাছ রয়েছে। ঝড়ের সময় সদরের কসবা গ্রামে গাছ চাপা পড়ে আনোয়ার উল্যা (৫২) নামে এক চা দোকানি নিহত হয়।

জেলায় বিভিন্ন স্থানে ২০০ হেক্টর সবজি ও ৩০০ হেক্টর আউশ পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এর আগে ১০-২০ দিন আগে মাঠ থেকে সয়াবিন ও মরিচসহ অন্যান্য ফসল ঘরে তোলায় বড় ধরনের ক্ষতি হয়নি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,শনিবার ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে সৃষ্ট জোয়ারের পানিতে রামগতির চরআলগী, চরআব্দুল্লাহ, চরগাজী, চরজারিয়া ও মৌলভীর চর, কমলনগরের চর কালকিনি, চর ফলকন, সদরের চর রমনী মোহন ও রায়পুরের দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এর মধ্যে সোমবার অধিকাংশ গ্রামের পানি নেমে গেছে।

চরকাচিয়া গ্রামের কৃষক তোফায়েল আহমেদ ও টুনুরচরের কালাম জানায়, রমজানকে সামনে রেখে তারা ক্ষেতে ডাটা (সবজি) আবাদ করেছেন। সেগুলো হাটু পরিমাণ পানির নিচে রয়েছে।

রায়পুর উপজেলার মেঘনা উপকূলীয় দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. নুরুল মমিন জানান, ফসলের মাঠ থেকে পানি নামছে। আরও দুই একদিন পানি জমা থাকলে আউশ ধানের পুরোপুরি ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

রামগতির চর আবদুল্লাহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বেলাল হোসেন বলেন, মেঘনার বুকে জেগে ওঠা দূর্গম আমার ইউনিয়নে প্রায় ২৬ হাজার মানুষের বাস। এখানে কোনো সাইক্লোনও শেল্টার নেই। ঘূর্ণিঝড়ে কিছু অস্থায়ী ঘর ভেসে গেছে। ঝড়-তুফান হলে আল্লাহকে ডাকা ছাড়া কিছুই করার থাকে না।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. গোলাম মোস্তফা বলেন, রায়পুরের চরাঞ্চলে আউশ ধানের বেশি ক্ষতি হয়েছে। লক্ষ্মীপুর সদরের ভবানীগঞ্জ ও টুমচরসহ কয়েকটি এলাকায় সবজির ক্ষতি হয়েছে।

এ ব্যাপারে লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. সাজ্জাদুল হাসান বলেন, ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর প্রভাবে লক্ষ্মীপুরে প্রায় দুই কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এখন নিশ্চিতভাবে ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ নির্নয় করা যায়নি। এ বিষয়ে জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ঠ কর্মকর্তারা মাঠে কাজ করছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহায়তা দেয়া হচ্ছে।

কাজল কায়েস/এসএস/পিআর

আরও পড়ুন