ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

হাসপাতালে শুয়ে স্কুলে যাওয়ার আকুতি লামিয়ার

প্রকাশিত: ০৩:৪৩ এএম, ২৪ মে ২০১৬

আপনারা আমাকে বাঁচান। হাসপাতালে দম বন্ধ হয়ে আসছে। আমি সুস্থ হয়ে স্কুলে যেতে চাই। আমার ছোট ছোট ছেলে মেয়েদের কাছে ফিরে যেতে চাই। প্লিজ আমাকে বাঁচান।

হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে এভাবেই কাকুতি-মিনতি করছিলেন লামিয়া লাকি (২৩)। লাকি সাভারের রেডিও কলোনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা।

তার গ্রামের বাড়ি মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার জাফরগঞ্জ গ্রামে। তার দুটি কিডনিই নষ্ট হয়ে গেছে। ৪ মাস ধরে ঠাঁই হয়েছে হাসপাতালের বিছানা। বর্তমানে সাভারের এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। সপ্তাহের তিন দিন ডায়ালাইসিসের মাধ্যমে বাঁচিয়ে রাখা হচ্ছে তাকে।

লামিয়া যখন এ প্রতিবেদকের কাছে বেঁচে থাকার আকুতি জানাচ্ছিলেন তখন পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন তার মা ও বড় বোন। ওড়না আর শাড়ির আঁচল দিয়ে তারা চোখ মুছছিলেন বার বার।

লামিয়ার বাবা মৃত মফিজ উদ্দিনও প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক ছিলেন। বাবার আর্দশ বুকে ধারণ করেই অনেক স্বপ্ন নিয়ে লামিয়া শিক্ষকতা পেশা শুরু করেন মাত্র তিন বছর আগে। বিয়ে হয়েছে দুই বছর ধরে।

স্বামী আবু জায়েদ মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার নয়াবাড়ি বাজারের একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। শিক্ষিকা লামিয়ার দুটো কিডনিই নষ্ট হয়ে যাওযায় এখন তিনি মৃত্যু পথযাত্রী। খুব অল্প সময়েই নিজের স্কুলের সহকর্মী আর শিক্ষার্থীদের কাছে প্রিয় হয়ে ওঠেন লামিয়া লাকি।

হাসপাতালে কথা হয় লামিয়ার বড় বোন রাসু আক্তারের সঙ্গে। তিনি জানান, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও কিডনি ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন ক্লিনিক হাসপাতালে বোনের চিকিৎসা করাতে গিয়ে তারা নিঃস্ব হয়ে গেছে।

Manikganj

লামিয়ার সহকর্মী ও সাভারের শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দের সহযোগিতা আর ধারদেনা করে বর্তমানে ডায়ালাইসিসের খরচ মেটানো হচ্ছে। সপ্তাহে তিনদিন ডায়ালাইসিস করা হচ্ছে। কিন্তু তাকে বাঁচাতে হলে কিডনি প্রতিস্থাপনের বিকল্প নেই। যার ব্যয় হবে প্রায় ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা। তবে পরিবারের সদস্যের মধ্য থেকেই কিডনি দিতে রাজি আছেন তারা।

তিনি জানান, কিডনি প্রতিস্থাপনের টাকা কোনো ক্রমেই তাদের পক্ষে যোগার করা সম্ভব নয়। তাই সমাজের বিত্তবানসহ সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা চেয়েছেন তারা।

লামিয়ার মা ডলি বেগম দেশবাসীর কাছে নিজের মেয়ের জীবন ভিক্ষা চেয়েছেন। তিনি বলেন, আমার মেয়ের স্বপ্ন সে সুস্থ হয়ে আবারো স্কুলে ফিরে যাবে। মানুষের সহযোগিতা ছাড়া কিছুতেই মেয়েকে সুস্থ করা সম্ভব নয়।

স্বামী আবু জায়েদ জানান, তার স্ত্রী যখন বলে আমি কি তাহলে এই সুন্দর পৃথিবী ছেড়ে চলে যাচ্ছি। আমার কি বেঁচে থাকা হবে না। তোমরা কি আমাকে বাঁচাতে পারলে না। এসব কথা শুনে আমার বুক ফেটে আসে। কিন্তু কিছুই করতে পারছি না। চোখের সামনে স্ত্রী তিলে তিলে শেষ হয়ে যাচ্ছে।

এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কিডনি ও ডায়ালাইসিস বিভাগের প্রধান ডা. সোলাইমান হায়দার জাগো নিউজকে জানান, লামিয়া লাকির অবস্থা খুব একটা ভাল নয়। তাকে ডায়ালাইসিসের মাধ্যমে বাঁচিযে রাখা হচ্ছে। কিন্তু এটা কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা নয়।পুরোপুরি সুস্থ করতে দ্রুত কিডনি প্রতিস্থাপন করতে হবে।

মানুষ মানুষের জন্য, জীবন-জীবনের জন্য এটি শুধু কথায় সীমাবদ্ধ না থেকে মানুষ গড়ার কারিগর লামিয়া লাকির জীবন বাঁচাতে এগিয়ে আসবে সবাই। এমনটাই প্রত্যাশা লামিয়া লাকি ও তার স্বজনদের।

শিক্ষক লামিয়া লাকিকে সাহায্য পাঠানোর ঠিকানা :
লামিয়া লাকি, অ্যাকাউন্ট নং ০৪৪৩০৩৪৩৩২৮৯৬ সোনালী ব্যাংক, সাভার শাখা। ফোন-০১৭৭৭৪৫০৫২১।

বি.এম খোরশেদ/এসএস/পিআর

আরও পড়ুন