ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

সড়কের মরা গাছ নিয়ে শঙ্কায় সিদ্ধিরগঞ্জবাসী

প্রকাশিত: ০৭:১৬ এএম, ০৮ জুন ২০১৬

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সিদ্ধিরগঞ্জের পাইনাদী ধনুহাজী রোডের উভয় পাশে মৃত ৭৩টি গাছ নিয়ে আতঙ্কে রয়েছে পথচারীরা। গত ৭ মার্চ ঢাকার ধানমন্ডি এলাকায় সড়কের একটি গাছের ডাল পড়ে চলচিত্র নির্মাতা ও চিত্রশিল্পী খালিদ মাহমুদ মিঠু মারা যাওয়ায় এখনকার পথচারী ও যানবাহন চালকদের মধ্যে এ আতঙ্ক আরো বেড়ে গেছে।

গাছগুলো কয়েক লাখ টাকা মূল্যমানের হলেও সিটি কর্পোরেশনের সিদ্ধান্তহীনতায় এ গাছগুলো রোদে শুকিয়ে ও বৃষ্টিতে ভিজে এখন পঁচে যাচ্ছে। জমির মালিকরাও এ গাছগুলো কাটতে পারছেনা নাসিক বা সংশ্লিষ্ট দফতরের হয়রানির ভয়ে।

সিদ্ধিরগঞ্জের ধনুহাজী রোডের দুইপাশে এ গাছগুলো ঠায় দাঁড়িয়ে রয়েছে। এছাড়াও সিদ্ধিরগঞ্জের অন্যান্য রাস্তাগুলোতেও ৫-১০টি গাছ মৃত অবস্থায় ঠায় দাঁড়িয়ে আছে।

এলাকাবাসী জানায়, ১৯৮৯-১৯৯০ সালে সিদ্ধিরগঞ্জের ধনুহাজী রোডের দুই ধারে জমির মালিক ও তৎকালীন ইউপি মেম্বার প্রয়াত আব্দুল মালেক এলাকাবাসীর সহায়তায় বিভিন্ন জাতের কাঠ জাতীয় বিভিন্ন গাছের চারা রোপন করেন। গাছগুলো বিক্রি করে প্রাপ্ত অর্থ ভাগ করে অর্ধেক জমির মালিক ও অর্ধেক ইউনিয় পরিষদ নেয়ার শর্তে এ গাছগুলো ঐ সময় রোপন করা হয়। জমির মালিকরাও কয়েকটা গাছ নিজ উদ্যোগে রোপন করেছিলেন।

এগাছগুলো গত ২৬/২৭ বছরে দামি কাঠ গাছে রূপান্তরিত হয়। কিন্তু ডিএনডি ক্যানেলে ফেলা ডায়িং ফ্যক্টরীগুলোর দুষিত পানি, ভাইসরাসজনিত আক্রমণ বা দূষিত আবহাওয়ার কারণে এ সড়কের ৭৩টি গাছ মরে গেছে। এ ব্যাপারে নাসিকের সিদ্ধিরগঞ্জের পুলস্থ সিদ্ধিরগঞ্জ জোনাল অফিসের কোনো কর্মকর্তা এবং নাসিকের ফিল্ড অফিসাররাও নাসিকের মেয়র বা সংশ্লিষ্ট দফতর প্রধানকে অবহিত করে কার্য্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।

এ বিষয়ে এলাকাবাসী নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুর রহিম ও ২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সেলিনা ইসলাম বিউটির স্মরণাপন্ন হন। কিন্তু তারা এ ব্যাপারে কোনো প্রকার সিদ্ধান্ত দিতে পারেনি। তারা এলাকাবাসীকে জানায়, আমরা এ ব্যাপারে সিটি কর্পোরেশণ অফিসে যোগাযোগ করেছিলাম। কিন্তু সিটি কর্পোরেশন অফিস আমাদেরকে কোনো সিদ্ধান্ত দেননি। ফলে নাসিকের সিদ্ধান্তহীনতার কারণে এ গাছগুলো আস্তে আস্তে রোদে শুকিয়ে ও বৃষ্টিতে ভিজে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

এলাকাবাসী জানায়, গাছগুলো কাঠ হিসাবে বিক্রি করলেও জমির মালিক এবং নাসিকের ফান্ডে কয়েক লাখ টাকা জমা হতো। যা দিয়ে নাসিক উন্নয়ন কাজ করতে পারতো এলাকায়। আর জমির মালিক আর্থিকভাবে অনেকটা উপকৃত হতো। বর্তমানে গাছগুলো কাঠ হিসাবে বিক্রি করলেও নাসিক এবং জমির মালিক আর্থিকভাবে লাভবান হবে।

এদিকে পঁচে যাওয়ায় এ গাছগুলোর ডাল ভেঙে রাস্তায় পড়ছে। বিশেষ করে ঝড়ের সময় অনেক ছোট-বড় ডাল ভেঙে পড়ছে। এতে করে আতঙ্কের মধ্যে দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে পথচারীদের। পাশাপাশি যানবাহন চালকদেরও আতঙ্কের মধ্য দিয়ে এ সড়ক দিয়ে চলাচল করতে হয়। সব মিলিয়ে এ মৃত গাছ নিয়ে এলাকাবাসী, পথচারী ও যানবাহন চালকদের মধ্যে নানা শঙ্কা কাজ করছে।

হোসেন চিশতী সিপলু/এফএ/আরআইপি