খুলনা চেম্বার অব কমার্সের ফি বাড়ায় বিপাকে ব্যবসায়ীরা
খুলনা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ/ফাইল ছবি
খুলনা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (কেসিসিআই) সদস্য নবায়ন ও নতুন সদস্য ভর্তি ফি অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ ব্যবসায়ীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবসার মন্দার সময়ে এই বর্ধিত ফি তাদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। এতে চেম্বারে সাধারণ ব্যবসায়ীদের নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ কমে আসার শঙ্কা করছেন তারা।
কেসিসিআই সূত্রে জানা গেছে, দুই শ্রেণিতে ব্যবসায়ীরা চেম্বার অব কমার্সের সদস্য হতে পারেন। একটি সাধারণ সদস্য শ্রেণি এবং অন্যটি সহযোগী শ্রেণি। আগে সাধারণ শ্রেণির বার্ষিক নবায়ন ফি ছিল এক হাজার টাকা এবং সহযোগী শ্রেণিতে ছিল ৬০০ টাকা। তবে বর্তমানে উভয় শ্রেণিতে নবায়ন ফি করা হয়েছে পাঁচ হাজার টাকা। এছাড়া পূর্বে নতুন সদস্য হতে দুই হাজার টাকা লাগলেও বর্তমানে তা বেড়ে উভয় শ্রেণিতে ২০ হাজার টাকা করা হয়েছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, সাধারণ ব্যবসায়ীদের বর্ধিত ফি পরিশোধের সক্ষমতা নেই বললেই চলে। ফলে চেম্বারে সাধারণ ব্যবসায়ীদের নেতৃত্বে দেওয়ার সুযোগ থাকবে না। ফলে সাধারণ ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। বর্তমানে সব ধরনের ব্যবসার অবস্থা খারাপ। ক্ষুদ্র ব্যবসায় মন্দা চলছে। এই পরিস্থিতিতে বর্ধিত ফি পরিশোধে অনেক ব্যবসায়ী বাড়তি চাপের মুখে পড়বে। আর এ সময়ে হঠাৎ চেম্বার অব কমার্সের ফি বৃদ্ধি অযৌক্তিক।
খুলনা চেম্বার অব কমার্স ও ইন্ডাস্ট্রিজের সদস্য মো. মহিজদ্দীন রাজু বলেন, প্রায় এক বছর ধরে ব্যবসায় মন্দা যাচ্ছে। ব্যবসায়ীদের নতুন গতি শুরু হয়নি। এ পরিস্থিতিতে বর্ধিত ফি পরিশোধে অনেকটা কঠিন অবস্থার মুখোমুখি হতে হবে।
তিনি বলেন, বর্ধিত ফি’র কারণে অনেক ব্যবসায়ী নতুন করে সদস্য হতে চাইবে না। সদস্য সংখ্যা কমে যাবে। প্রতি বছর লাইসেন্স নবায়নের সময়টা ব্যবসায়ীদের ট্রেড লাইসেন্সসহ আনুষঙ্গিক কাগজপত্র নবায়ন করতে একটা বড় ধরনের খরচ হয়। একই সময় চেম্বারের বর্ধিত ফি পরিশোধে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের হিমশিম খেতে হবে। এই মুহূর্তে ফি বাড়ানোটা যৌক্তিক না বলে তিনি মন্তব্য করেন।
খুলনা চেম্বার অব কমার্স ও ইন্ডাস্ট্রিজের আরেক সদস্য মো. ইকবাল হোসেন বলেন, চেম্বার অব কমার্সে বর্ধিত ফি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাছে একটি বাড়তি চাপ। নবায়ন ফি ৫-৭ গুণ বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ ব্যবসাীরা বিপাকে পড়েছেন। প্রতি বছর অনেক ব্যবসায়ী সদস্য হন। কিন্তু বর্ধিত ফির কারণে সদস্য হতে চাইবে না অনেক ব্যবসায়ী।
ডাকবাংলো মার্কেটের পাদুকা ব্যবসায়ী তাইব ট্রেডার্সের মালিক তেীহিদুল ইসলাম বলেন, আমি একজন নতুন ব্যবসায়ী। এ বছর চেয়েছিলাম চেম্বার অব কমার্সের সদস্য হবো। কিন্তু এখন সদস্য হতে গেলে ২০ হাজার টাকা লাগবে। এককালীন এত টাকা খরচ করা অনেক কঠিন আমাদের জন্য।
রেলওয়ে সুপার মার্কেটের কাপড় ব্যবসায়ী আসাদুজ্জামান বলেন, খুচরা বাজারের ব্যবসার অবস্থা খুবই খারাপ। ছোট ব্যবসায়ীদের দোকানভাড়া আর কর্মচারীদের বেতন দিতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। এরপর রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ খাজনার টাকা তিনগুণ বাড়িয়েছে। সবদিক থেকে এ অঞ্চলের ব্যবসায়ীরা চাপে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে চেম্বারের নতুন করে ২০ হাজার টাকা খরচ করে কেউ সদস্য হতে চাইবে না।
মশিউর রহমান বিপণি কেন্দ্র দোকান মালিক সমিতির সভাপতি শেখ মো. জুয়েল বলেন, বর্ধিত ফি দিয়ে চেম্বারের সদস্য হয়ে আমাদের কোনো লাভ হয় না। প্রেসিডেন্ট আর সেক্রেটারির লাভ হয়। তারা বিদেশ ভ্রমণে যায়, বিভিন্ন জায়গায় সুযোগ সুবিধা পায়।
খুলনা চেম্বার অব কমার্সের সচিব নূর রুকসানা বানু জানান, এই ফি বৃদ্ধি ‘বাণিজ্য সংগঠন বিধিমালা ২০২৫’ অনুসারে করা হয়েছে। তবে তিনি দাবি করেন, ফি বৃদ্ধি সত্ত্বেও চলতি সময়ে নতুন করে অনেক ব্যবসায়ী চেম্বারের সদস্য হচ্ছেন।
আরিফুর রহমান/কেএইচকে/জিকেএস