ঈদে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়ায় নিরাপত্তা জোরদার
দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের প্রবেশদ্বার হিসাবে খ্যাত পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে ঈদ যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে ব্যাপক প্রস্ততি নেয়া হয়েছে। যাত্রী ও যানবাহন পারাপারে নিয়োজিত থাকবে ছোট বড় ১৮টি ফেরি এবং ৩২টি লঞ্চ।
ঈদের তিনদিন আগে ও পরে বন্ধ থাকবে সাধারণ পণ্যবাহী ট্রাক পারাপার। ঘাটের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় ৬ শতাধিক পুলিশসহ থাকবে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
বিআইডব্লিউটিসির সূত্র মতে, পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ঘাট দিয়ে সাধারণ সময়ে প্রতিদিন সাড়ে ৩ থেকে ৪ হাজার যানবাহন পারাপার করে। ঈদের সময় এর সংখ্যা বেড়ে যায় প্রায় দ্বিগুণ।
গত ঈদের সময় এ ঘাট দিয়ে ২৪ ঘণ্টায় ৯ হাজার যানবাহন পারাপারের রেকর্ড রয়েছে। যানবাহনের এ বাড়তি চাপ সামাল দিতে পুলিশ ও বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষকে যেমন হিমশিম খেতে হয়, তেমনি যাত্রীদের পোহাতে হয় চরম দুর্ভোগ আর ভোগান্তি।
তবে গত কয়েক বছর ধরে নানা পরিকল্পনার কারণে ঘাটে যাত্রী ভোগান্তি কিছুটা কমেছে। পরিবহন চালক ও যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আগে যানবাহনগুলোকে দীর্ঘ লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষায় থাকতে হতো। যানবাহনগুলো থাকতো এলোমেলো। কিন্তু বর্তমানে যানবাহনগুলো ওয়ানওয়ে পদ্ধতিতে চলাচল করায় যানজটের ভোগান্তিতে পড়তে হয় না।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন সংস্থার (বিআইডব্লিউটিসি) ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার শেখ মোহাম্মদ নাসিম জাগো নিউজকে জানান, ঈদ প্রস্তুতি হিসেবে এবার ১০টি রো-রো, ৩টি কে-টাইপ, ৫টি ইউটিলিটিসহ মোট ১৮টি ফেরি সচল থাকবে। অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনায় তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে সার্বক্ষণিক থাকবে উদ্ধারকারী জাহাজ আইটি-৩৮৯।
তিনি জানান, নদীতে কিছুটা স্রোত থাকায় ফেরি চলাচলে সময় বেশি লাগছে। তবে নৌ-পথের অবস্থা ভাল। তাই বড় ধরনের প্রাকৃতিক বিপর্যয় না হলে ঘরমুখো মানুষকে ভালভাবেই পারাপার করা সম্ভব বলে আশা করেন তিনি।
ঘরমুখো মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের উদ্যোগে ঘাট সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে হয়েছে একাধিক বৈঠক।
মানিকগঞ্জ পুলিশ সুপার মাহফুজুর রহমান (বিপিএম) জানান, ঘাট এলাকার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং যানবাহন শৃঙ্খল রাখতে সাদা পোশাকিসহ ৬ শতাধিক পুলিশ মোতায়েন থাকবে। ছোট বড় যানবাহনের জন্য এবারো আলাদা লেন করা হবে। রাতে যাত্রীদের নিরাপত্তায় করা হবে আলোক সজ্জা।
এছাড়া যাত্রী পারাপার নিশ্চিত করতে এবারো ঈদের আগের তিনদিন ও পরের তিনদিন সাধারণ পন্যবাহী ট্রাক পারাপার বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক রাশিদা ফেরদৌস জাগো নিউজকে জানান, লঞ্চ ও পরিবহনে যাতে অতিরিক্ত যাত্রী উঠতে না পারে এবং চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনায় তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে ঘাটে সার্বক্ষণিক ভ্রাম্যমাণ আদালত থাকবে। যাত্রীদের জন্য থাকবে ফ্রি-চিকিৎসা ক্যাম্প।
বি.এম খোরশেদ/এসএস/এবিএস