ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

কোনো প্রতিশ্রুতিই বাস্তবায়নের মুখ দেখছে না

প্রকাশিত: ১০:৩৩ এএম, ২৯ জুন ২০১৬

একশ বছরের পুরনো ও দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রেলওয়ে জংশন ঈশ্বরদী স্টেশনকে আধুনিকায়ন করার ঘোষণা ছিল ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারাভিযানের সময় ও পরবর্তী পার্লামেন্টে। কিন্তু এই ঘোষণা আর বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি। ফলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ঈশ্বরদী জংশনটি যাত্রীদের ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে।
 
সেই ব্রিটিশ আমলে যখন পাকশীতে হার্ডিঞ্জ ব্রিজ নির্মাণের কাজ শুরু হয়, তখন ঈশ্বরদীতে রেলওয়ে স্টেশন গড়ে ওঠে। স্টেশন ঘিরে রয়েছে বিশাল আয়তনের ইয়ার্ড। জাতীয় সংসদে পাবনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শরিফ একাধিকবার এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন, প্রতিশ্রুতিও মিলেছে, কিন্তু অগ্রগতি হয়নি।

ঈশ্বরদী জংশন ইয়ার্ডে কোটি কোটি টাকার রেলওয়ে মালামাল অরক্ষিত পড়ে রয়েছে। স্লিপার, রেললাইন, মালামাল ভর্তি গাড়ি, তেলের ট্যাংকিসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র প্রায়ই চুরি হয়ে যাচ্ছে।

ISHURDI-Station

১৯১৫ সালে হার্ডিঞ্জ ব্রিজের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলে দেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের জন্য ঈশ্বরদী রেলওয়ে জংশন স্থাপিত হয়। ২ কিলোমিটার দীর্ঘ ইয়ার্ড ও স্টেশনটিতে ১৭টি রেললাইন স্থাপন করা হয়। এরপর থেকে এই ইয়ার্ডের অথবা স্টেশনের কোনো উন্নয়ন করা হয়নি।

অন্যদিকে স্টেশন দাঁড়িয়ে আছে সেই একশ বছর আগের তৈরি যাত্রীদের বিশ্রামাগার নিয়ে যেখানে বাথরুমগুলো যেমন নষ্ট তেমনি পানি সরবরাহও সঠিকভাবে হয় না। প্লাটফরমে ফ্যান ঝোলানো আছে কিন্তু অধিকাংশ সময় সেগুলো ঘোরে না। আশপাশে রয়েছে প্রচণ্ড দুর্গন্ধ।
 
স্টেশনে আসা যাওয়ার জন্য যে ওভারব্রিজটি রয়েছে, তার অবস্থাও ভালো নয়। সিমেন্টের তৈরি পাটাতনগুলোর কিছু ভেঙে গেছে, অনেকগুলোর রড বের হয়ে গেছে। বর্তমানে এই স্টেশন দিয়ে ২৪ ঘণ্টায় ১৮টি যাত্রীবাহী ট্রেন ও ১২টি মালবাহী ট্রেন চলাচল করে। একই সঙ্গে স্টেশনে প্রতিদিন দুই থেকে আড়াই হাজার যাত্রী যাওয়া আসা করে। অথচ সেই তুলনায় স্টেশনটি হয়ে পড়েছে সেকেলে।

এ বছরের ২ জানুয়ারি বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ও রেলওয়ে শ্রমিক লীগের মধ্যে অনুষ্ঠিত দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় ঈশ্বরদী স্টেশন রিমডেলিংকরণের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। কিন্তু সেটাও বাস্তবায়নের কোনো লক্ষণ নেই।

এফএ/পিআর