কুড়িগ্রামে রেলের মহাপরিচালককে আটকে বিক্ষোভ
রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চল পরিদর্শনে এসে কুড়িগ্রামের রাজারহাটে স্থানীয় বাসিন্দাদের ক্ষোভের মুখে পড়েছেন বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক আফজাল হোসেন।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) রাজারহাট রেলওয়ে স্টেশনে তার পরিদর্শন গাড়ি আটকে দিয়ে এলাকাবাসী বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন। পরে স্টেশন সংস্কারসহ একাধিক উন্নয়নকাজের তাৎক্ষণিক নির্দেশ দেন মহাপরিচালক।
শনিবার সকালে তিস্তা-রমনা বাজার সেকশন পরিদর্শনে যাওয়ার পথে রাজারহাট স্টেশন অতিক্রম করছিলেন মহাপরিচালকের নেতৃত্বাধীন একটি প্রতিনিধি দল।
এসময় এলাকাবাসী ও রেল-নৌ যোগাযোগ ও পরিবেশ উন্নয়ন গণকমিটির নেতাকর্মীরা তাকে থামিয়ে দেন। শুরুতে ফুল দিয়ে স্বাগত জানালেও অল্প সময়ের মধ্যেই স্টেশনের জরাজীর্ণ অবস্থা ও অবহেলার প্রতিবাদে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন তারা।
এসময় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী রাজারহাট রেলওয়ে স্টেশনে নতুন আধুনিক ভবন নির্মাণ, যাত্রীদের জন্য মানসম্মত ছাউনি ও প্ল্যাটফর্ম স্থাপন এবং দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা লুপলাইন পুনরায় চালুর দাবি জানান। এ ছাড়া সিগন্যাল ব্যবস্থার অচলাবস্থার কথাও তুলে ধরেন তারা।
এসময় গণকমিটির পক্ষ থেকে সাংগঠনিক সম্পাদক খন্দকার আরিফ, সদস্য শামসুজ্জামান সরকার (সুজা) ও মোহাম্মদ আলী মন্ডল(এটম), হামিদুল ইসলাম মহাপরিচালকের হাতে একটি লিখিত স্মারকলিপি তুলে দেন।
এলাকাবাসীর দাবিকে যৌক্তিক উল্লেখ করে ও স্টেশনের বর্তমান অবস্থা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করে মহাপরিচালক আফজাল হোসেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ঘটনাস্থলেই নির্দেশ দেন।
নির্দেশনায় স্টেশন ভবন সংস্কার, নতুন যাত্রী ছাউনি ও প্ল্যাটফর্ম নির্মাণ এবং সিগন্যাল ব্যবস্থা দ্রুত সচল করার কথা বলা হয়।
মহাপরিচালকের তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
রেল-নৌ যোগাযোগ ও পরিবেশ উন্নয়ন কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক খন্দকার আরিফ বলেন, রাজারহাট স্টেশনে ৬টি ট্রেনের যাত্রাবিরতি থাকলেও নেই প্লাটফর্ম। ফলে নারী শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্রেনে উঠতে হয়। প্লাটফর্ম ও যাত্রী ছাউনি হলে স্টেশনটি যাত্রী বান্ধব হয়ে উঠবে।
রোকনুজ্জামান মানু/এমএন