ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

সেই ভিক্ষুক মুনসুরের মনোনয়ন বাতিল

জেলা প্রতিনিধি | ময়মনসিংহ | প্রকাশিত: ১০:৪৮ এএম, ০৪ জানুয়ারি ২০২৬

ময়মনসিংহ-৭ ত্রিশাল আসনে এমপি পদে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া আলোচিত ভিক্ষুক আবুল মুনসুরের (৭১) মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।

শনিবার (৩ জানুয়ারি) বিকেলে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে তার মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করেন জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. সাইফুর রহমান।

জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে এই আসনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র মিলিয়ে ৯ প্রার্থী মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন। যাচাই-বাছাইয়ে হলফনামায় মামলার সংখ্যা কম দেখানোসহ নানান ত্রুটি থাকায় ৬ জনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। এরমধ্যে আবুল মুনসুরের মনোনয়নও বাতিল করা হয়।

এই আসনে বৈধ প্রার্থী হিসেবে ৩ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। তারা হলেন- জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মো. আছাদুজ্জামান, জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী মো. জহিরুল ইসলাম ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী মো. ইব্রাহীম খলিল উল্লাহ।

নির্বাচন কমিশনে আবুল মুনসুরের জমা দেওয়া হলফনামায় দেখা গেছে, আবুল মুনসুর তার কাছে থাকা সম্ভাব্য অর্থের পরিমাণ দেখিয়েছেন ৫ লাখ টাকা। বাৎসরিক আয় দেখিয়েছেন ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। আয়ের উৎস হিসেবে ‘সামাজিক কর্মকাণ্ড’ উল্লেখ করেছেন।

আরও পড়ুন:
ইউপি নির্বাচনে পান ৩৭৭ ভোট, এবার এমপি পদে দাঁড়ালেন ভিক্ষুক মুনসুর
মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে ভিক্ষুক বললেন, ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি
সেই ভিক্ষুক পেলেন ৩৭৭ ভোট

মনোনয়ন বাতিল হওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল মুনসুর। তিনি বলেন, নির্বাচন করার অধিকার সবারই রয়েছে। আমি হফলনামায় কোনোকিছু গোপন করিনি। সবাই ভোট দেন গোপনে। নিরব ভোটের মাধ্যমে জয়ের ব্যাপারে আমি আশাবাদী ছিলাম। প্রার্থিতা ফিরে পেতে আপিল করব কি না চিন্তাভাবনা করছি।

ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. সাইফুর রহমান বলেন, মনোনয়ন বাতিল হওয়া প্রার্থীরা নির্বাচন কমিশনে আপিল করার সুযোগ পাবেন। নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আবুল মুনসুর ত্রিশাল উপজেলার বইলর ইউনিয়নের বড়পুকুরপাড় গ্রামের মঠবাড়ী এলাকার মৃত চান মিয়ার ছেলে। অল্প বয়সেই দিনমজুরের কাজে নামেন তিনি। বিয়ের পর অন্যের রিকশা ভাড়ায় চালিয়ে রোজগারের পথ বেছে নেন। এর ১০-১২ বছর পর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে বেছে নেন ভিক্ষাবৃত্তি। তার চার ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে দুই ছেলে কর্মজীবী। তারপরও ১৪ বছর ধরে ভিক্ষা করেই চলছে তার সংসার। কিন্তু সরকারি কোনো সুযোগ-সুবিধা জোটেনি তার কপালে। এই ক্ষোভ থেকেই জনপ্রতিনিধি হওয়ার স্বপ্ন জাগে তার মনে।

স্বপ্নপূরণে গত ২০২১ সালে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে অংশ নিয়ে আলোচনায় আসেন ভিক্ষুক আবুল মুনসুর। ওই নির্বাচনে মাত্র ৩৭৭ ভোট পেয়ে ফেল করেন। কিন্তু তাতে তিনি থেমে যাননি। গত বছরের ৭ জানুয়ারি জাতীয় নির্বাচনে এমপি পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হন আবুল মুনসুর।

সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) বিকেলে সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরাফাত সিদ্দিকীর কার্যালয়ে স্বতন্ত্র এমপি প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেন আবুল মুনসুর। ভিক্ষুক হয়েও এমপি হওয়ার ইচ্ছায় মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ায় উপজেলাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়।

কামরুজ্জামান মিন্টু/এনএইচআর/জেআইএম