ফেনী-৩
দ্বৈত নাগরিকত্ব: বিতর্ক পেরিয়ে অবশেষে ভোটের মাঠে বিএনপির মিন্টু
নানা জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ফেনী-৩ আসনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও দলীয় প্রার্থী আবদুল আউয়াল মিন্টুর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। রোববার (৪ জানুয়ারি) নিজ কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে এ তথ্য জানিয়েছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মনিরা হক।
এদিন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে আবদুল আউয়াল মিন্টুর দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে জানতে চান ফেনী জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আবদুর রহিম।
এ প্রসঙ্গে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মনিরা হক বলেন, আবদুল আউয়াল মিন্টুর পূর্বে দ্বৈত নাগরিকত্ব ছিল। ২০২৫ সালের ৯ ডিসেম্বর তিনি দ্বৈত নাগরিকত্ব পরিত্যাগ করেছেন বলে হলফনামায় উল্লেখ করেছেন। প্রমাণ হিসেবে নাগরিকত্ব বাতিলের জন্য মার্কিন দূতাবাসে আবেদন করার তথ্য দাখিল করেছেন। সেক্ষেত্রে সংবিধানের সংশ্লিষ্ট ধারায় যেটি বলা আছে যে, দ্বৈত নাগরিকত্ব গ্রহণের ক্ষেত্রে বিদেশি রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ত্যাগ করলে এ অনুচ্ছেদের উদ্দেশ্য সাধনকল্পে তিনি বিদেশি রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব অর্জন করেছেন বলে গণ্য হবেন না। সেই হিসেবে তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণার পর প্রতিক্রিয়া জানিয়ে আবদুল আউয়াল মিন্টু সাংবাদিকদের বলেন, যারা আমার কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে বৈধ ঘোষণা করেছেন তাদের প্রতি অকুণ্ঠ কৃতজ্ঞতা। কারণ আমাদের মতো লোকদের অনেক কাগজপত্র, অন্তত ১৫টি ব্যাংকে আমার ঋণ রয়েছে। আবার বিভিন্ন স্থানে জায়গা-জমি রয়েছে, সবকিছু উনারা কষ্ট করে যাচাই-বাছাইয়ে সঠিক পেয়েছেন। ফেনীর জনগণের কল্যাণে তাদের প্রত্যাশা ও মান উন্নয়নে কী করা দরকার সেই সম্পর্কে আমি পুরোপুরি অবহিত। এগুলো বাস্তবায়নের জন্যই শেষ বয়সে নির্বাচন করছি।
এদিকে এবারের হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, পেশায় ব্যবসায়ী মিন্টুর মোট সম্পদের পরিমাণ ৫০৭ কোটি ৮০ লাখ ৮ হাজার ১৭১ টাকা। গত অর্থবছরে দেশের ভেতরে তার বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে ১ কোটি ৫০ লাখ ৭৯ হাজার ৮৯০ টাকা।
অন্যদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনী-৩ আসনে ১১ জন প্রার্থীর মধ্যে ৪ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল ও ৭ জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। বৈধ প্রার্থীরা হলেন- বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু, জাতীয় পার্টি থেকে মো. আবু সুফিয়ান, জামায়াতে ইসলামী থেকে মোহাম্মদ ফখরুদ্দিন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে মো. সাইফ উদ্দিন, ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশ থেকে মো. আবু নাছের, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) থেকে আবদুল মালেক ও বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন থেকে মোহাম্মদ খালেকুজ্জামান পাটোয়ারী।
এছাড়া সরকারি পাওনা পরিশোধ না করায় এ আসনে ইনসানিয়াত বিপ্লবের প্রার্থী মো. হাসান আহমদ, হলফনামায় স্বাক্ষর না থাকায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস থেকে মোহাম্মদ আলী, এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরে মৃত ভোটার, উল্লিখিত ভোটারের তথ্য না পাওয়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থী কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ, এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর না থাকায় ও চলমান সরকারি কাজে কার্যাদেশ থাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা বিএনপির সদস্য মাহবুবুল হক রিপনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।
আবদুল্লাহ আল-মামুন/এফএ/এমএস