ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

মেহেরপুরে মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭ ডিগ্রি রেকর্ড

জেলা প্রতিনিধি | মেহেরপুর | প্রকাশিত: ০৯:০৮ এএম, ০৭ জানুয়ারি ২০২৬

হাড় কাঁপানো শীত ও উত্তরের হিমেল হাওয়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে মেহেরপুর জেলার জনজীবন। টানা শৈত্যপ্রবাহ, ঘন কুয়াশা ও কম তাপমাত্রার কারণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। চলতি শীত মৌসুমে জেলায় আজ সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।

চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (আজ) সকাল ৬টায় মেহেরপুর জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এসময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৭ শতাংশ, যা শীতের তীব্রতা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার ব্যবধান কমে যাওয়ায় শীত অনুভূত হচ্ছে মারাত্মকভাবে। সঙ্গে রয়েছে উত্তরের হিমেল বাতাস ও ঘন কুয়াশা। অনেক সময় গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির মতো কুয়াশা ঝরতে দেখা যাচ্ছে।

তীব্র শীতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষ। দিনমজুর, ভ্যানচালক, রিকশাচালক ও পথচারীরা জীবিকার তাগিদে শীত উপেক্ষা করেই বাইরে বের হতে বাধ্য হচ্ছেন। অনেকেই শীত থেকে বাঁচতে খড়-কাঠ জ্বালিয়ে আগুন পোহানোর চেষ্টা করছেন, যা ঝুঁকিপূর্ণও হয়ে উঠছে।

দিনমজুর শাহাজাহান আলী বলেন, শীতের কাপড় একাধিক স্তরে পরেও শরীর গরম থাকে না। কোনো অংশ খোলা থাকলেই হিম শীত লাগছে। কাজের খোঁজে সকাল থেকে বের হলেও শীতের কারণে কাজ পাওয়া যাচ্ছে না।

অন্যদিকে স্কুলগামী শিক্ষার্থী তাহমিদ জানায়, সকালে পানিতে হাত দেওয়া যায় না। বরফের মতো ঠান্ডা লাগে। পড়াশোনার জন্য বাইরে যাওয়া খুব কষ্টকর হয়ে গেছে।

মেহেরপুরে মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭ ডিগ্রি রেকর্ড

শীত ও কুয়াশার কারণে সড়ক যোগাযোগেও ঝুঁকি সৃষ্টি হয়েছে। দুর্ঘটনা এড়াতে চালকরা দিনের বেলায়ও হেডলাইট জ্বালিয়ে অতিরিক্ত সতর্কতার সঙ্গে যানবাহন চালাচ্ছেন।

এদিকে তীব্র শীতের প্রভাবে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা সর্দি-কাশি, জ্বর ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছেন।

চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান জানান, বুধবার সকাল ৬টায় মেহেরপুর ও চুয়াডাঙ্গা অঞ্চলে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা চলতি মৌসুমে জেলায় সর্বনিম্ন।

তীব্র শীতে বিপর্যস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, বিভিন্ন এনজিও এবং সামাজিক সংগঠন শীতবস্ত্র ও কম্বল বিতরণ কার্যক্রম চালাচ্ছে। তবে শীতার্ত মানুষের সংখ্যার তুলনায় এসব সহায়তা এখনো অপর্যাপ্ত বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

আসিফ ইকবাল/এফএ/এমএস