ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

তদন্ত প্রতিবেদন

ভয়াবহ অগ্নিঝুঁকিতে শাহ মখদুম বিমানবন্দর

জেলা প্রতিনিধি | রাজশাহী | প্রকাশিত: ০৪:১৯ পিএম, ০৮ জানুয়ারি ২০২৬

নানা অব্যবস্থাপনা, ত্রুটিপূর্ণ যন্ত্রপাতি ও অনিরাপদ বৈদ্যুতিক কাঠামোর কারণে ভয়াবহ অগ্নিঝুঁকিতে রয়েছে রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দর। সম্প্রতি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সদর দপ্তরে জমা দেওয়া একটি তদন্ত প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে। পরিদর্শন শেষে গত ১৭ নভেম্বর প্রতিবেদন জমা দেন উপসহকারী প্রকৌশলী মো. শফিউজ্জামান এবং সহকারী প্রকৌশলী (অটো)।

বেবিচকের রেড অ্যালার্ট জারির পর ইলেকট্রিক্যাল ও মেকানিক্যাল (ই/এম) বিভাগের এই দুই প্রকৌশলী বিমানবন্দরের উচ্চ ভোল্টেজ প্যানেল, ট্রান্সফরমার, জেনারেটর, জরুরি ফিডার প্যানেলসহ বেশ কয়েকটি মূল স্থাপনা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে বলে উল্লেখ করেন। তারা সতর্ক করেন, দ্রুত সংস্কার বা প্রতিস্থাপন না হলে যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

প্রতিবেদনে তারা দাবি করেছেন, ই/এম বিভাগভুক্ত ১১ কেজি এইচ পোল থেকে এলটি প্যানেল পর্যন্ত বহু সরঞ্জাম বছরের পর বছর অবহেলিত থাকায় পুরো টার্মিনাল ভবনের বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থা বিপর্যস্ত হতে পারে। এইচ পোলের ড্রপ আউট ফিউজ, আইসোলেটর ও লাইটিং অ্যারেস্টর স্বাভাবিক থাকলেও প্রধান ত্রুটিগুলো রয়েছে এইচটি প্যানেল, ট্রান্সফরমার ঘর এবং এলটি প্যানেলে। এইচটি প্যানেলের দুটি ডিসিবির মধ্যে একটি সম্পূর্ণ অকেজো, অন্যটি সচল হলেও স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করে না এবং ম্যানুয়ালি চার্জ করতে হয়। যা কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা দুটোকেই ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে।

গত ৬ নভেম্বর পরিদর্শনে ওই সচল ডিসিবিতে সরাসরি ইলেকট্রিক ডিসচার্জ দেখা যায়, যার অর্থ হলো যে কোনো সময় আগুনের সূত্রপাত ঘটতে পারে। ট্রান্সফরমার ঘরে সিলিকা জেলের অনুপস্থিতি, পুরোনো সরঞ্জাম, অরক্ষিত কন্ডিশন ও দুর্বল নিরাপত্তাব্যবস্থার কারণে ট্রান্সফরমারও উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। অতিরিক্ত লোড বা শর্টসার্কিট হলে আগুন ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

শুধু তাই নয়, এলটি ও ইমারজেন্সি এলটি প্যানেল বহু পুরোনো। বেশিরভাগ অ্যাম্পিয়ার মিটার, ভোল্ট মিটার এবং ফেজ ইন্ডিকেটর সম্পূর্ণ অচল। ক্যাবল সংযোগ এতটাই কনজাস্টেড (জট) যে, সামান্য শর্টসার্কিটও পুরো টার্মিনালের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা অচল করতে পারে। এসব প্যানেল অবিলম্বে প্রতিস্থাপন বা সংস্কারের সুপারিশ করা হয়েছে।

জেনারেটর-২ সচল থাকলেও এর অটো চার্জিং সিস্টেম পুরোপুরি অকেজো। ব্যাটারি সচল রাখতে আলাদা চার্জার ব্যবহার করতে হচ্ছে। দুটি জেনারেটরের সবশেষ ফিল্টার মজুত করা হয়েছিল ২০২২ সালের ২১ জুন। তিন বছর ধরে নতুন ফিল্টার মজুত না হওয়ায় ফিল্টার পরিবর্তন এবং নতুন স্টক জরুরি হয়ে পড়েছে। এটিএস প্যানেল ও সিসিআর ইউনিট আংশিক সচল হলেও সিসিআর ইউনিটে ফিউজ, ফিউজ বেস ও ম্যাগনেটিক কন্টাক্টরের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্পেয়ার নেই। রানওয়ের এজিএল সিস্টেম সচল হলেও ব্যাকআপ স্পেয়ার না থাকায় ভবিষ্যতে বড় সংকট দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

রেস্ট হাউজ-সংলগ্ন জরাজীর্ণ ইমারজেন্সি ফিডার প্যানেলকে ‌‘অত্যন্ত উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই প্যানেল থেকেই ডিভিওআর (দূরপাল্লার নেভিগেশন সিস্টেম) এবং রেস্ট হাউজে বিদ্যুৎ সরবরাহ হয়। যে কোনো সময় প্যানেলটি বিস্ফোরণ বা শর্টসার্কিটের মাধ্যমে বড় দুর্ঘটনা ঘটাতে পারে বলে প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে।

পিটিবি সুইচরুমের পুরোনো এলটি প্যানেল ও কনজাস্টেড ক্যাবলের বহু পয়েন্টে হটস্পট তৈরি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। ডিএজিআর ক্যাবল নতুন অ্যাপ্রোন সম্প্রসারণ কাজের সময় আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ায় ইনসুলেশন দুর্বল হয়ে পড়েছে; মাঝেমধ্যে ত্রুটি দেখা দিচ্ছে। নতুন ক্যাবল স্থাপন বা ক্ষতিগ্রস্ত অংশ সংস্কারের সুপারিশ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিমানবন্দরের কিছু বৈদ্যুতিক সিস্টেম সচল থাকলেও বেশিরভাগ জরুরি অংশ নাজুক অবস্থায় রয়েছে। দ্রুত রক্ষণাবেক্ষণ, স্পেয়ার মজুত, প্যানেল প্রতিস্থাপন ও ট্রান্সফরমার টেস্টিং না করলে বিমানবন্দরের সার্বিক নিরাপত্তা ভয়াবহ রকমের বিঘ্নিত হতে পারে। আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইকাও) মান বজায় রাখা এবং অগ্নিঝুঁকি কমাতে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন পরিদর্শনকারী প্রকৌশলীরা।

রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দরের ম্যানেজার দিলারা পারভীন জাগো নিউজকে বলেন, ‌‘এমন কোনো রিপোর্টের কথা আমার জানা নেই। এমন কোনো পরিদর্শন আমাদের এখানে হয়নি।’

এ বিষয়ে জানতে উপসহকারী প্রকৌশলী মো. শফিউজ্জামানের সঙ্গে ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

বেসিকের পরিচালক (অগ্নিনির্বাপণ) আবু সালে মোহাম্মদ খালেদ বলেন, এখন এই বিষয় নিয়ে কথা বলা সম্ভব নয়।

সাখাওয়াত হোসেন/এসআর/এএসএম