ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

রাখাইনে রাতভর ড্রোন হামলা-গোলাগুলি, পড়ছে এপারে

উপজেলা প্রতিনিধি | টেকনাফ (কক্সবাজার) | প্রকাশিত: ১১:০৩ এএম, ১১ জানুয়ারি ২০২৬

কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গা সশস্ত্র গ্রুপ, আরাকান আর্মি ও দেশটির সেনাবাহিনী ত্রিমুখীর ড্রোন হামলা ও গুলিবর্ষণের শব্দে আতঙ্কিত এপারের মানুষ। এরই মধ্যে এপারে গুলি এসে পড়ার ঘটনাও ঘটেছে।

শনিবার (১০ জানুয়ারি) সন্ধ্যা থেকে রোববার (১১ জানুয়ারি) সকাল পর্যন্ত টেকনাফের হোয়াইক্যং সীমান্তের খুব কাছে রাখাইনে এ সংঘর্ষ হচ্ছে। এখনো বোমা বিস্ফোরণ এবং শত-শত গোলাগুলির ফায়ার চলমান। খুব থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

স্থানীয় আরেক বাসিন্দা রফিক বলেন, রোববার সকালেও প্রচুর গোলাগুলি হয়েছে। এসময় একটি বুলেট আমার পায়ের সামনে মাটিতে পড়ে। অল্পের জন্য রক্ষা পেলাম।

স্থানীয় বাসিন্দা আলমগীর হোসেন বলেন, হোয়াইক্যং সীমান্তের ওপারে যে হারে বোমা বিস্ফোরণ ও গোলাগুলি হচ্ছে, সারারাত পরিবারের সদস্যরা জেগে ছিল। একেকটা বিস্ফোরণে বাড়িঘর কেঁপে উঠছে। নারী ও শিশুরা ভয়ে কাঁদছে।

আরেক বাসিন্দা মো. ছৈয়দ হোসেন বলেন, হোয়াইক্যং সীমান্তের কাছে পরিস্থিতি ভয়াবহ। এপারের সাধারণ মানুষ অনিরাপদ মনে করছে। বাড়ি-ঘর থেকে বের হতে ভয় পাচ্ছে।

হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য সিরাজুল মোস্তফা লালু বলেন, গত তিনদিন হোয়াইক্যংয়ের ওপারে রাখাইন সীমান্তে দিনে-রাতে গোলাগুলি ও বোমা বিস্ফোরণ হচ্ছে। শনিবার সন্ধ্যা থেকে রোববার ভোর পর্যন্ত শত শত রাউন্ড গুলির ফায়ার ও একের পর বোমা বিস্ফোরণের শব্দে এপারের বাসিন্দাদের স্বাভাবিক চলাফেরা ব্যাঘাত ঘটছে। সেখান থেকে ছোড়া গুলি এপারে এসে পড়ছে। মানুষের চিংড়ি ঘেরে ও চাষের জমিতে গুলি এসে পড়ছে।

তিনি আরও বলেন, রোববার সকাল থেকে এখনো গোলাগুলি ও বোমার বিস্ফোরণ হচ্ছে।

রোববার সকালে রাখাইন থেকে পালিয়ে আসা এক রোহিঙ্গা আরমান বলেন, রাখাইন সীমান্তের কাছে রোহিঙ্গাদের সশস্ত্র গ্রুপের সঙ্গে আরাকান আর্মির মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ চলছে। আমি সেখানে থাকতে না পেরে চলে আসছি। মাঝে মধ্যে জান্তা বাহিনীও আক্রমণ করছে।

উখিয়া ব্যাটালিয়ন ৬৪ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল জহিরুল ইসলাম বলেন, সীমান্তের ওপারে গোলাগুলির বিষয়টি আমরা অবগত আছি।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইনামুল হাফিজ নাদিম বলেন, সীমান্তের ওপারে গোলাগুলির ঘটনার বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিতভাবে বিজিবির সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে সতর্কতার সঙ্গে অবস্থান করতে বলা হয়েছে। এছাড়া বিষয়টি নিয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে উপজেলা প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে।

জাহাঙ্গীর আলম/এফএ/জেআইএম