ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

ঠাকুরগাঁও

এলপিজি সংকটে সব গ্যাস স্টেশন বন্ধ, ভোগান্তিতে চালক-সাধারণ মানুষ

জেলা প্রতিনিধি | ঠাকুরগাঁও | প্রকাশিত: ০৭:৪২ পিএম, ১২ জানুয়ারি ২০২৬

তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) ভয়াবহ সংকটে ঠাকুরগাঁও জেলার সবকটি অটোগ্যাস ফিলিং স্টেশন বন্ধ হয়ে গেছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজারো এলপিজি চালিত যানবাহনের মালিক ও চালক। এছাড়া রান্নার সিলিন্ডারের ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা দেওয়ায় বিপাকে পড়েছেন সাধারণ গৃহিণীরাও।

জেলার এলপিজি অটোগ্যাস ফিলিং স্টেশন গুলো ঘুরে দেখা যায়, বর্তমানে এলপিজির তীব্র সংকটের কারণে জেলার প্রায় সব এলপিজি অটোগ্যাস স্টেশন কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে হাজারের অধিক এলপিজি চালিত যানবাহনের ওপর। গাড়ির মালিক ও চালকেরা জ্বালানি না পেয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে তারা ঘণ্টার পর ঘণ্টা এক স্টেশন থেকে অন্য স্টেশনে ঘুরেও গ্যাস পাচ্ছেন না। এক্ষেত্রে বিকল্প জ্বালানি হিসেবে পেট্রোল ও অকটেন ব্যবহারে খরচ বেড়ে দাঁড়িয়েছে দ্বিগুণ। যার প্রভাবে হঠাৎ অতিরিক্ত ভাড়ায় ভোগান্তিতে পড়েছে সাধারণ মানুষ। হঠাৎ খরচ বাড়লেও গ্রাহকরা অতিরিক্ত ভাড়া দিতে চাইছে না। এতে করে জেলার এলপিজি চালিত পরিবহন খাত স্থবির হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছে ঠাকুরগাঁওয়ের পরিবহন মালিক ও ড্রাইভাররা।

এলপিজি চালিত গাড়ির ড্রাইভার আলমগীর বলেন, প্রায় ৫ দিন হয়ে গেলো কোথাও এলপিজি গ্যাস পাচ্ছি না। বিকল্প হিসেবে পেট্রোল বা অকটেন দিয়ে গাড়ি চালাতে হচ্ছে। এতে করে জ্বালানি খরচ বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ। দ্রুতই সমস্যার সমাধান না হলে আমরা বেশ বিপাকে পারবো।

এলপিজি সংকটে সব গ্যাস স্টেশন বন্ধ, ভোগান্তিতে চালক-সাধারণ মানুষ

আরেক ড্রাইভার শাকিল বলেন, আমি ভাড়ায় গাড়ি চালাই। তবে বেশকিছু দিন হয় আমি কোনো গ্রাহক পাইনি। জ্বালানি খরচ বেড়ে যাওয়ায় গ্রাহকদের কাছে অতিরিক্ত ভাড়া চাইতে হচ্ছে। কিন্তু হঠাৎ বাড়তি ভাড়া কেউ দিতে চাইছেন না, গ্রাহক ঘুরে যাচ্ছে।

ঠাকুরগাঁওয়ের মন্দির পাড়ার বাসিন্দা রকি আজম বলেন, আমি আজ একটি প্রাইভেট কার ভাড়া করতে গিয়েছিলাম। তবে ২ হাজার টাকার ভাড়া তারা সাড়ে ৩ হাজার টাকা চাইছে। হঠাৎ এভাবে ভাড়া বেড়ে গেলে আমাদের জন্যে সমস্যা হওয়া স্বাভাবিক। দ্রুতই এর সমাধান চাই।

এদিকে গ্যাস স্টেশন গুলোতে কবে নাগাদ গ্যাস পাওয়া যাবে তার কোনো উত্তর দিতে পারছে না ঠাকুরগাঁওয়ের গ্যাস স্টেশন সংশ্লিষ্টরা।

উত্তর বাংলা কনভারসন অ্যান্ড এলপিজি ফিলিংস্টেশনের পরিচালক তাসনিমুল হাসান তাকি বলেন, আমরা বারবার চাহিদা দিলেও গ্যাস পাচ্ছি না। ৬ দিন থেকে আমাদের স্টেশনে এলপিজি নেই। বিধায় গাড়িগুলো বারবার এসে ঘুরে যাচ্ছে। কবে নাগাদ এই সমস্যার সমাধান হবে তা ঠিক বলা যাচ্ছে না।

এলপিজি সংকটে সব গ্যাস স্টেশন বন্ধ, ভোগান্তিতে চালক-সাধারণ মানুষ

চলমান এই এলপিজি গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে ঠাকুরগাঁওয়ে রান্নার কাজে ব্যবহৃত সিলিন্ডারের ক্ষেত্রেও। অধিকাংশ খুচরা দোকানে গ্যাস সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছেনা। কিছু দোকানে পাওয়া গেলেও দাম চাইছে অতিরিক্ত। এতে করে অনেকে বৈদ্যুতিক চালিত চুলার দিকে ঝুঁকছে।

ঠাকুরগাঁও মন্দিরপাড়া এলাকার বাসিন্দা হিমেল তিগ্যা জানান, এদিকে যেহেতু পাইপলাইন গ্যাস ব্যবস্থা নেই। শহরের বহুতল ভবনগুলো রান্নার কাজে এলপিজি সিলিন্ডারের ওপর নির্ভরশীল। তবে এলপিজি সিলিন্ডার এখন পাওয়া যাচ্ছে না। কিছু ক্ষেত্রে পাওয়া গেলেও দাম ক্রয়সীমার বাইরে চলে গেছে।

ঠাকুরগাঁও সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হাসান জানান, হঠাৎ করে পরিবহন খরচ ও ঘরে রান্নার ব্যয় বেড়ে গিয়ে দিশেহারা ঠাকুরগাঁওয়ের জনসাধারণ। এর প্রভাব দৈনন্দিন জীবনে পড়ছে। বিষয়টি সরকারের গুরুত্ব সহকারে দেখা উচিত এবং দ্রুতই সমস্যার সমাধানের পথ বের করা উচিত।

তানভীর হাসান তানু/কেএইচকে/এএসএম