জঙ্গল ছলিমপুর
মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে র্যাবের ওপর হামলা, পেছনে ইয়াছিন বাহিনী
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের গহীন পাহাড়ি এলাকা জঙ্গল ছলিমপুরে বিশেষ অভিযানে যায় র্যাবের পতেঙ্গা ব্যাটালিয়নের একটি দল। এসময় ইয়াছিন বাহিনীর সদস্য কালা ইয়াছিন, নুরুল হক ভান্ডারী, ওমর ফারুক, মো. কাজী ফারুকসহ একটি সন্ত্রাসী দল র্যাবের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। তারা মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে র্যাব সদস্যদের মারধর করে ও একটি মাইক্রোবাস ভাঙচুর করে।
এসময় তারা র্যাবের একজন সোর্সসহ তিনজনকে আলী নগরের পাহাড়ে তুলে নিয়ে যায়৷ পরে তাদের ওপর ব্যাপক নির্যাতন চালানো হয়। একপর্যায়ে থানা পুলিশ গিয়ে তাদেরকে উদ্ধার করে। এসময় র্যাবের ডিএডি (উপ-সহকারী পরিচালক) আব্দুল মোতালেবকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় এক সোর্সসহ আরও তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদেরকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
নিহত র্যাব কর্মকর্তার নাম মোতালেব। তিনি ডিএডি পদমর্যাদায় র্যাবের পতেঙ্গা ব্যাটালিয়নে কর্মরত ছিলেন। আহতরা হলেন- ল্যান্সনায়েক এমাম, কনস্টেবল রিফাত ও নায়েক আরিফ।
আরও পড়ুন-
প্রথমে অস্ত্র ছিনিয়ে র্যাব কর্মকর্তার পায়ে গুলি, পরে পিটিয়ে হত্যা
জঙ্গল সলিমপুরে অভিযানকালে গুলিতে র্যাব কর্মকর্তা নিহত, জিম্মি ৩
অভিযোগ উঠেছে, জঙ্গল ছলিমপুরের শীর্ষ সন্ত্রাসী ইয়াছিনের অনুসারীরাই এ হামলার নেতৃত্ব দিয়েছে৷ বর্তমানে সন্ত্রাসীদের ধরতে ছিন্নমূল, আলীনগর ও লিংক রোড এলাকায় বিপুল সংখ্যক র্যাব, পুলিশ ও বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়াও জঙ্গল ছলিমপুরের ভেতরে সাঁড়াশি অভিযান চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
এদিকে স্থানীয় সূত্রের সত্যতা মিলেছে র্যাবের দেওয়া তথ্যে। সোমবার রাতে র্যাব-৭ থেকে দেওয়া সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ‘১৯ জানুয়ারি বিকেল চারটায় অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার অভিযানে গেলে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে ৪০০-৫০০ জন সন্ত্রাসী হামলা করে র্যাবের ওপর। এসময় তারা র্যাব সদস্যদের মারধর করে৷ এতে একজন নিহত ও ৩ জন গুরুতর আহত হন। তারা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে।’
জঙ্গল ছলিমপুরের এক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করে জানান, ‘সোমবার সেখানে একটি বিএনপি কার্যালয় উদ্বোধন করার কথা ছিল৷ বিকেল ৩টা থেকে সেখানে রাজনৈতিক সভা শুরু হয়৷ তবে চারটার দিকে র্যাবের সদস্যরা ওই সভায় প্রবেশ করে আসামি খুঁজতে থাকে। এসময় ইয়াছিনের লোকজন হামলা করে। তারা র্যাবের মাইক্রোবাস ভাঙচুর করে এবং তাদের ৩ জনকে অপহরণ করে দুর্গম পাহাড় আলীনগরে নিয়ে নির্যাতন চালায়৷’
স্থানীয়রা জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় জঙ্গল ছলিমপুর এলাকাটি নিয়ন্ত্রণ করতেন শীর্ষ সন্ত্রাসী মশিউর ও গফুর মেম্বার বাহিনী। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর জঙ্গল ছলিমপুর নিয়ন্ত্রণে নেন স্থানীয় যুবদল নেতা রোকন উদ্দিন মেম্বার। পরে গত বছরের বছরের জুলাইয়ে রোকন উদ্দিন বাহিনী ও ইয়াছিন বাহিনীর আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়৷ এতে অন্তত ২ জন মারা যায়। পরে ৩১ আগস্ট সেনাবাহিনী অভিযান পরিচালনা করে রোকন বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড রেদোয়ানকে গ্রেফতার করে। পরের দিন ইয়াছিন বাহিনী প্রায় দুই হাজার অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী নিয়ে জঙ্গল ছলিমপুর নিয়ন্ত্রণে নেয়।
মূলত বছরের পর বছর ইয়াছিন আলী নগরের অঘোষিত রাজা হিসেবে রাজত্ব করে আসছিলেন৷ রোকন বাহিনীর পতনের পর ইয়াছিন তার সাম্রাজ্য বাড়িয়ে জঙ্গল ছলিমপুর নিয়ন্ত্রণে রাখে। এরপর আরও অন্তত ২ দফায় রোকন বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ হয় ওই এলাকায়৷ এসময় সংবাদ সংগ্রহে যাওয়া একটি বেসরকারি টেলিভিশনের ২ সাংবাদিকের ওপর হামলা করে তাদের অন্তত ১৫ লাখ টাকার মালামাল ছিনিয়ে নেয় সন্ত্রাসীরা। সেসময় সংঘর্ষে ২ জন নিহত হয়৷
সূত্র জানায়, মূলত জঙ্গল ছলিমপুর ও আলীনগরে সরকারি খাস পাহাড় কেটে প্লট বাণিজ্য করাই ইয়াছিনের কাজ। এছাড়া পানি, বিদ্যুৎ, পরিবহন, দোকানপাট থেকে মাসিক কয়েক কোটি টাকার চাঁদাবাজি করেন ইয়াছিন।
এম মাঈন উদ্দিন/এফএ/জেআইএম
সর্বশেষ - দেশজুড়ে
- ১ চালের দাম ২০ টাকা বেড়ে গেছে পদ্মা সেতুর দায় পরিশোধ করতে গিয়ে
- ২ উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আগুনে পুড়লো সাড়ে চার শতাধিক ঘর
- ৩ অনিয়মে বাধা, এলজিইডির দুই প্রকৌশলীকে হুমকি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের
- ৪ মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে র্যাবের ওপর হামলা, পেছনে ইয়াছিন বাহিনী
- ৫ কুমিল্লায় যাত্রীবাহী বাসে তল্লাশি, বিদেশি পিস্তলসহ দুই যুবক আটক