ম্রোদের ওপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন, ৭২ ঘণ্টার আলটিমেটাম
বান্দরবানের আলীকদমে ম্রো জনগোষ্ঠীর ওপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। এসময় দোষীদের আইনের আওতায় আনতে ৭২ ঘণ্টা আল্টিমেটাম দিয়েছে মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে আলীকদম উপজেলা পরিষদ চত্বরে ‘আলীকদমের সর্বস্তরের সচেতন জনসাধারণ’ ব্যানারে এ মানববন্ধনে পাঁচ শতাধিক নারী-পুরুষ অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ডাকাত জাফর আলম কোনো জাতিগোষ্ঠীর পরিচয়ে নয়, সে একজন সন্ত্রাসী হিসেবেই পরিচিত। জানালি পাড়া ও মেরিনচর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সে ম্রো জনগোষ্ঠীর জুমচাষের ফসল চুরি করে আসছে। এতে নিরীহ পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছে। একই সঙ্গে সীমান্তবর্তী মিয়ানমার এলাকা থেকে ইয়াবা পাচারসহ নানা অপরাধে জড়িত এ জাফর।
বক্তারা আরও বলেন, জাফর আলম ও হামলার সঙ্গে জড়িতদের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার করা না হলে আগামীতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। মানববন্ধন থেকে প্রশাসনের প্রতি দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানানো হয়।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন নয়া পাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কফিল উদ্দিন, একই ইউনিয়নের সদস্য জাহাঙ্গীর আলম বাদশা, বাবু পাড়া রিজার্ভ মৌজার হেডম্যান উক্যজাই মার্মা, চাহ্লামং মার্নাসহ ম্রো জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা।
এর আগে আলীকদম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠ প্রাঙ্গণ থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা পরিষদ চত্বরে এসে মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করেন।
উল্লেখ্য, গত ১৭ জানুয়ারি শনিবার রাতে বাগানে কলার ছড়া ও গাছ চুরি করার সময় জাফর নামের একজনকে গ্রামবাসী হাতেনাতে ধরে ফেলেন। থানায় সংবাদ দেওয়ার জন্য তাকে জানালী পাড়ায় আটকে রাখা হয়। কিন্তু পুলিশকে খবর দেওয়ার আগে জাফরের দলের ১২ থেকে ১৪ জন দা, চায়নিজ কুড়াল, লাঠিসোঁটা নিয়ে পাড়াবাসীদের ওপর হামলা চালান। ম্রোদের মারধর ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তারা জাফরকে ছিনিয়ে নিয়ে যান। হামলার ঘটনার পর পাড়াবাসী থানায় অভিযোগ দিয়ে ফেরার পথে সন্ত্রাসীরা আবার হামলা চালায়। এতে অন্তত ১৮ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ৮ জনের অবস্থা গুরুতর।
নয়ন চক্রবর্তী/কেএইচকে/এমএস