তারেক রহমান
একটি দল শুধু মানুষকে ঠকাচ্ছেই না, মুসলমানদের শেরেকিও করাচ্ছে
ফেনী সরকারি পাইলট হাই স্কুল মাঠে বিএনপির নির্বাচনি জনসভায় বক্তৃতা করেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান
জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করতে পারলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও দুর্নীতিরোধে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলে ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, এ দুটি কাজ করতে কে কোন দল বা মতের সেটি বিবেচনা করা হবে না।
একটি দলকে সমালোচনা করে তারেক রহমান বলেন, নির্বাচনের আগে একটি দল শুধু সমালোচনা ও মিথ্যাচার করে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। তারা শুধু মানুষকে ঠকাচ্ছেই না, যারা মুসলমান তাদেরকে শেরেকিও করাচ্ছে।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) রাতে ফেনী সরকারি পাইলট হাই স্কুল মাঠে বিএনপির নির্বাচনি জনসভায় বক্তৃতায় এসব কথা বলেন তারেক রহমান।
সালাম দিয়েই ‘কেমন আছেন’ সবাইকে প্রশ্ন করে জনসভায় বক্তব্য শুরু করেন বিএনপি চেয়ারম্যান। শুরুতে তিনি বলেন, ফেনীর সঙ্গে আমার আত্মীয় সর্ম্পক। তিনি বলেন, বিএনপির কাছে আপনাদেন যেমনি চাওয়া আছে তেমনি আমাদেরও দাবি আছে। সেটি হলো ধানের শীষে ভোট দিয়ে বিএনপি প্রার্থীদের জয়ী করা।

ফেনীতে মেডিকেল কলেজ স্থাপনের আশ্বাস দিয়ে তারেক রহমান বলেন, স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দিতে কাজ করবে বিএনপি।
এসময় ফেনীতে ইপিজেড গড়ে তোলার কথাও বলেন বিএনপি চেয়ারম্যান। জনসংখ্যাকে জনসম্পদে পরিণত করার পরিকল্পনা তুলে ধরেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, আপনাদের অর্থাৎ জনগণের সামনে প্রতিপক্ষ দলের বিরুদ্ধে অনেক কথা বলতে পারি, কিন্তু তাতে জনগণের কোনো লাভ হবে না। বিএনপি জনগণের সরকার গঠন করতে চায়। জনগণকে সঙ্গে নিয়েই সবার জন্য কাজ করতে চায়।
ধানের শীষকে জয়যুক্ত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রিয় ভাই-বোনেরা, আপনারা কি আছেন আমার সঙ্গে এই অবস্থার পরিবর্তন করতে? প্রিয় ভাই-বোনেরা আমরা সারা বাংলাদেশের কৃষক ভাইদের পাশে দাঁড়াতে চাই। যদি আপনারা আগামী ১২ তারিখে ধানের শীষকে জয়যুক্ত করেন, করতে পারেন—আমরা ইনশাআল্লাহ সারা বাংলাদেশের কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে পারবো।’

তারেক রহমান বলেন, ‘আপনাদের মনে আছে—কয়েক বছর আগে কীভাবে ওইপাশ থেকে পানি ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। সারা ফেনী ডোবে বন্যার পানিতে। মনে আছে? সে জন্যই আমরা বলেছি, একটি কথা। আমরা দেখেছি গত ১৫-১৬ বছর কীভাবে এই দেশকে অন্য দেশের কাছে বন্ধক দিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সেজন্যই আমি বলেছি—দিল্লি নয়, পিণ্ডি নয়, নয় অন্য কোনো দেশ। সবার আগে বাংলাদেশ।’
তিনি বলেন, ‘গত ১৫-১৬ বছরে আমরা দেখেছি, কীভাবে একের পর এক নির্বাচনে ব্যালট বক্স ছিনতাই হয়েছে; কীভাবে আমি-ডামির নির্বাচন হয়েছে; কীভাবে নিশি রাতের নির্বাচন হয়েছে। এবং এই নির্বাচনগুলোর মাধ্যমে, তথাকথিত নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষের ভোটের অধিকার তথা রাজনৈতিক অধিকারকে কেড়ে নেয়া হয়েছিল।
বক্তৃতার এক পর্যায়ে উপস্থিতির উদ্দেশে তারেক রহমান প্রশ্ন করেন, ‘আমি কে?’ উত্তরে জনতা উচ্চস্বরে স্লোগান ধরেন, ‘ভাগিনা-ভাগিনা’। ‘ফেনীর মেয়ে খালেদা, গর্ব মোদের আলাদা’ স্লোগানও দিতে থাকে উপস্থিত জনতা। এসময় কিছুটা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তারেক রহমান।
আবদুল্লাহ আল-মামুন/এসআর/এমএস