ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

ঝিনাইদহে ফেস্টুন ভাঙচুর-হামলা, আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগ

জেলা প্রতিনিধি | ঝিনাইদহ | প্রকাশিত: ০৯:৫৮ পিএম, ২৫ জানুয়ারি ২০২৬

ঝিনাইদহে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের প্রচার-প্রচারণা জমে উঠেছে। তবে প্রচার-প্রচারণা শুরু পর গত তিনদিনে নির্বাচনি আচরণবিধি ভঙ্গের ঘটনাও ঘটেছে। এ ছাড়া প্রতিদ্বন্দ্বীি প্রার্থীর ফেস্টুন, বিলবোর্ড ভাঙচুরের মতো ঘটনাও ঘটেছে। সেই সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বীি প্রার্থীর সমর্থকদের হাতে শিক্ষক সহ মারধরের শিকার হয়েছেন বেশ কয়েকজন। এসব ঘটনায় থানায় অভিযোগ দিলেও মামলা রেকর্ড করা হয়নি বলেও অভিযোগ উঠেছে।

রোববার (২৫ জানুয়ারি) সকাল থেকেই জেলার ৪টি সংসদীয় আসনে প্রার্থীরা প্রচার-প্রচারণা শুরু করেছেন। গত ২২ জানুয়ারি থেকেই চলছে পুরোদমে প্রচারণা। ধানের শীষ, দাঁড়িপাল্লা, হাতপাখা, কাপ-পিরিচ, লাঙল, মই, কাঁচি সহ বিভিন্ন প্রতীকে ভোট চাইছেন প্রার্থীরা।

তবে গত ২২ জানুয়ারি নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা শুরু পর থেকেই ঝিনাইদহ-৪ (কালীগঞ্জ-সদর আংশিক) আসনে দুটি হামলার ঘটনা ঘটেছে। ওই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের ওপর হামলার চালানোর অভিযোগ উঠেছে। পৃথক দুটি ঘটনায় কালীগঞ্জ থানায় অভিযোগ দায়ের করলেও থানা থেকে মামলা রেকর্ড করা হয়নি বলেও অভিযোগ স্বতন্ত্র প্রার্থীর।

ঝিনাইদহ-৪ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর নির্বাচনি এজেন্ট ইলিয়াস রহমান মিঠু বলেন, আমাদের কর্মীদের বাড়িতে গিয়ে মারধর ও হুমকি-ধামকি দেওয়া হচ্ছে। দুই সমর্থককে মেরে হাসপাতালে পাঠিয়েছে ধানের শীষের সমর্থকরা। একজন কলেজ শিক্ষককে তার বাড়িতে গিয়ে মারধর করেছে প্রতিপক্ষ প্রার্থীর সমর্থকরা। এসব নিয়ে থানায় অভিযোগ দিলেও তারা মামলা রেকর্ড করছে না। এভাবে চলতে থাকলে ভোটের মাঠে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড থাকবে না।

এ ব্যাপারে ঝিনাইদহ-৪ আসনে (কালীগঞ্জ-সদর আংশিক) ধানের শীষের প্রার্থী রাশেদ খান বলেন, কে বা কারা এ ধরনের কাজ করেছে, তা আমার জানা নেই।

এ ব্যাপারে কালীগঞ্জ থানার ওসি মো. জেল্লাল হোসেন বলেন, আমরা একজনের কাছ থেকে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। যিনি অভিযোগ করেছেন, তাকে থানায় আসতে বলা হয়েছে।

কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদ বলেন, কিছু অভিযোগ পেয়েছি। সেগুলো সমাধানে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের টিম মাঠে আছে। অভিযোগ পাওয়া মাত্রই তা সমাধানের চেষ্টা করছি। এখানে পক্ষপাতের কোনো সুযোগ নেই। প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের উচিত, একে অপরের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ করা।

এদিকে ঝিনাইদহ-৩ (কোটচাঁদপুর-মহেশপুর) আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থীর ফেস্টুন ভেঙে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রার্থীর পক্ষ থেকে উপজেলা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মৌখিক ভাবে অভিযোগ জানানো হয়েছে বলেও জানা গেছে।

এব্যাপারে মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা খাদিজা আক্তার বলেন, মৌখিক ভাবে একজন প্রার্থী অভিযোগ জানিয়েছিলেন। আমি তাকে লিখিত অভিযোগ দায়েরের জন্য বলেছিলাম। লিখিত অভিযোগ তিনি করেছেন কিনা, আমি নিশ্চিত নই। আমি নির্বাচনি কর্মকর্তাদের ট্রেনিংয়ে আছি। সংক্ষুব্ধ যে কোনো প্রার্থীর লিখিত অভিযোগ পাওয়া মাত্রই আমরা শুনানি গ্রহণ করব।

এদিকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে জনমত তৈরিতে জোরেশোরে প্রচারণা শুরু হয়েছে। জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা সহ সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে গণভোটের জনমত তৈরিতে নানা কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে। একই ভাবে ‘গণভোট ও তারুণ্য ভাবনা’ শীর্ষক সংলাপ, মাইকিং, লিফলেট বিতরণ, বিলবোর্ড প্রদর্শনসহ নানাভাবে গণভোটের প্রচারণা চলছে।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আবুল হোসেন বলেন, প্রচার-প্রচারণা শুরুর পর থেকেই জেলার ৪টি আসনেই ভোটের মাঠ বেশ স্বাভাবিক রয়েছে। দুয়েকটি বিচ্ছিন্ন ছোট-ছোট ঘটনা ঘটেছে। আমরা সেগুলো তাৎক্ষণিক ভাবে প্রার্থীদের সঙ্গে বসে সমাধান করেছি। আমরা কোনো অভিযোগ পাওয়ার সাথে সাথেই প্রার্থী ও তাদের এজেন্টদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করে যাচ্ছি। প্রার্থীরাও আমাদের সহযোগিতা করছেন।

গণভোটের প্রচারণা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা গণভোটের বিষয়ে কোনো পক্ষ নই। তবে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, রাজনৈতিক দল ও অন্যান্য পক্ষগুলো গণভোটের প্রচারণা করছে। আমরা সার্বিক পরিবেশটা নির্বাচনমুখী করার চেষ্টা করে যাচ্ছি। ভোটের মাঠে এরই মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ ফিরে এসেছে।

এম শাহজাহান/আরএইচ/এমএস