ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

শাপলা কলির কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা, থানা ঘেরাও করলেন হান্নান মাসউদ

জেলা প্রতিনিধি | নোয়াখালী | প্রকাশিত: ১২:২৯ এএম, ৩১ জানুয়ারি ২০২৬

নোয়াখালীর হাতিয়ায় বিএনপি কর্মীদের হামলায় শাপলা কলির ২১ কর্মী-সমর্থক আহত হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে ১৫ জনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

এ ঘটনার প্রতিবাদে শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী আবদুল হান্নান মাসউদ হামলাকারীদের গ্রেফতারের দাবিতে নেতাকর্মীদের নিয়ে থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন। এতে সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। দুই ঘণ্টা পর সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের আশ্বাসে কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন তিনি।

১১ দলীয় জোটের আহত কর্মীদের মধ্যে মো. ইউসুফ (২৮), মো. মিরাজ (২২), বাহার উদ্দিন (২০), আবদুল হাই ফারুক (৪১), আবদুর রহিম (৩৫), মহসিন (২৫), জসিম উদ্দিন (৩২), জাহিদুল ইসলাম (১৮), মো. রাকিব (২৬), মো. রাজিব (১৮), রবিউল হোসেন (২৫), মহিবুর রহমান (৪৬), আলাউদ্দিন (৪২), মাহমুদুল হাসান (২৫) ও আকবর হোসেনকে (৫২) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

এর আগে দুপুরে ফেরিঘাট উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

বিএনপির দাবি, ওই সময় তাদের সাতজন কর্মী আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে খন্দকার সোহেল (৩৫) ও মো. জাহের (৩২) নামের দুজনকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সন্ধ্যায় বিএনপির প্রার্থী মাহবুবের রহমান শামিমের বাসভবনে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিকেলে দ্বীপের নলচিরা-চেয়ারম্যান ঘাট নৌপথে ফেরি সার্ভিসের উদ্বোধন করেন নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নুরুন্নাহার চৌধুরী। এসময় বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান, প্রধান প্রকৌশলী, বিআইডব্লিউটিসির বাণিজ্যিক পরিচালক উপস্থিত ছিলেন।

উদ্বোধন শেষে ফেরি আনার পেছনে অবদান নিয়ে পৃথকভাবে স্লোগান দিতে থাকেন এনসিপি ও বিএনপির নেতাকর্মীরা। স্লোগানকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। এরপর শুরু হয় পাল্টাপাল্টি ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া। একপর্যায়ে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

আবদুল হান্নান মাসউদ অভিযোগ করে বলেন, আওয়ামী লীগের অস্ত্রধারী কুখ্যাত সন্ত্রাসীদের বিএনপির প্রার্থী নিজের দলে ভিড়িয়ে আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর আক্রমণ করেছেন। এ ঘটনায় থানা ঘেরাও করলে প্রশাসন ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের আশ্বাস দিলে কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়।

তিনি আরও বলেন, ‌‘আমরা অতীতে গুলির মুখে দাঁড়িয়ে খালি হাতে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছি। বর্তমানে অনেক সন্ত্রাসী এবং লাঠিয়ালদের এলাকায় ঢোকানো হয়েছে। সাধারণ মানুষ এখন তাদের আর গ্রহণ করছে না। তাই তারা চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে গোপন মিটিং করছেন। প্রশাসন এসব সন্ত্রাসীদের সহযোগিতা করছে।’

এ বিষয়ে জানতে বিএনপির প্রার্থী মাহবুবুর রহমান শামিমকে বারবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।

তবে ধানের শীষের মিডিয়া বিভাগের সদস্য জহির উদ্দিন তুহিন বলেন, বিএনপির প্রার্থী মাহবুবের রহমান শামীমের ওসখালীর বাসায় হামলা করেছেন শাপলা কলির প্রার্থীর লোকজন।

হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল আলম বলেন, হান্নান মাসউদ লোকজন নিয়ে দুই ঘণ্টা থানার সামনে অবস্থান নেন। পরে সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের আশ্বাস দিলে তারা চলে যান।

তিনি আরও বলেন, এখনো কেউ অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন স্থানে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্ক রাখা হয়েছে।

ইকবাল হোসেন মজনু/এসআর