ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

সিলেট-৫

‘জামায়াতের ঘাঁটি’তে চ্যালেঞ্জে বিএনপির শরিক জমিয়তের প্রার্থী

আহমেদ জামিল | সিলেট | প্রকাশিত: ০৪:৩৩ পিএম, ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

সিলেট জেলার পাঁচটি আসনের মধ্যে বিএনপির একমাত্র বিদ্রোহী প্রার্থী সিলেট-৫ আসনে। জেলার সীমান্তবর্তী জকিগঞ্জ ও কানাইঘাট নিয়ে গঠিত এ আসনে এবার কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে বিএনপি। জোট সঙ্গী জমিয়তকে সিলেট বিভাগে মাত্র একটি আসন ছেড়েছে দলটি। তবে বিএনপি-জমিয়ত দুই দল মিলেও সেই আসনটিতে বিজয় নিশ্চিত করা অনেকটা কঠিন হয়ে পড়েছে। আসনটি জামায়াতে ইসলামীর ‘ঘাঁটি’ হিসেবে পরিচিত।

ভোটারদের তথ্য বলছে, এ আসনে ১১ দলের জোটের শরিক খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মুফতি মোহাম্মদ আবুল হাসান ও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী মামুনুর রশিদ (চাকসু মামুন) বেশ শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন। তবে প্রাণপণ চেষ্টার পরও লড়াইয়ে আসতে পারছেন না বিএনপির জোটের শরিক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম প্রার্থী মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক।

তবে নির্বাচনের সময় যত ঘনিয়ে আসছে ভোটের হিসেব-নিকেষ ততই পাল্টাচ্ছে। দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামে লড়াই করা বিএনপির একটি অংশের ক্ষোভের আগুনে ‌‘বলি’ হতে পারেন উবায়দুল্লাহ ফারুক।

জকিগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকসহ দুই উপজেলার আট নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করলেও দলটির অনেক নেতাকর্মী নীরবে কাজ করছেন বিদ্রোহী প্রার্থী মামুনের পক্ষে। এমনকি দল থেকে যাদেরকে বহিষ্কার করা হয়েছে, তারাও আরও ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাঠে নেমেছেন।

বিএনপির দলীয় ও বিদ্রোহী প্রার্থীর এমন লড়াইয়ের সুযোগটা কাজে লাগাতে পারেন ১১ দলের জোটের শরিক খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মুফতি মোহাম্মদ আবুল হাসান। তিনি অনেকটা এগিয়েও রয়েছেন বলে জানিয়েছেন ভোটাররা। সব মিলিয়ে জটিল সমীকরণ সিলেট-৫ আসনে।

দুই উপজেলার ১৮টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভা মিলিয়ে মোট ভোটার রয়েছেন চার লাখ ২০ হাজার ৮৩৫জন। তারমধ্যে পুরুষ ভোটার দুই লাখ ১৪ হাজার ৩১৭ জন ও নারী ভোটার দুই লাখ ৬ হাজার ৫১৮ জন। দুই উপজেলার মধ্যে কানাইঘোটে ভোটার রয়েছেন দুই লাখ ২৫ হাজার ৪৮৩ জন। জকিগঞ্জে ভোটার এক লাখ ৯৫ হাজার ৩৫২জন।

এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন চারজন প্রার্থী। তারা হলেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের প্রার্থী মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক (খেজুর গাছ), খেলাফত মজলিসের মোহাম্মদ আবুল হাসান (দেওয়াল ঘড়ি), বাংলাদেশ মুসলিম লীগের বিলাল উদ্দিন (হারিকেন) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মামুনুর রশীদ (ফুটবল)।

দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় সিলেট জেলা বিএনপির সহসভাপতির পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে মামুনুর রশীদকে। এলাকায় তিনি ‘চাকসু মামুন’ হিসেবে বেশ পরিচিত। এ আসনে বিএনপি মনোনয়ন দিয়েছে জমিয়তের প্রার্থী মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুককে। আর খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মুফতি মোহাম্মদ আবুল হাসানকে সমর্থন দিয়েছে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট।

নির্বাচনে উবায়দুল্লাহর পক্ষে কাজ করতে বিএনপির স্পষ্ট নির্দেশনা থাকলেও এ আসনে বিএনপির একটি বড় অংশ মামুনের পক্ষে। এ অভিযোগে সম্প্রতি জকিগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন সেলিমসহ আট নেতাকে বহিষ্কার করেছে দলটি। তবুও বিএনপিতে ফেরেনি ঐক্য।

উল্টো বহিষ্কারের পর বিএনপির এই অংশ মামুনকে জেতাতে চ্যালেঞ্জ নিয়ে মাঠে নেমেছে। তাছাড়া বিএনপির একটি অংশ এখনো গোপনে মামুনের হয়ে কাজ করছেন বলে জানা গেছে। জাতীয় পার্টিও কাজ করছে মামুনের পক্ষে। যে কারণে উবায়দুল্লাহ ফারুক আলোচনা থেকে বেশ পিছিয়ে।

অন্যদিকে এ আসনে আলোচনায় রয়েছেন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মুফতি মোহাম্মদ আবুল হাসান। জকিগঞ্জ উপজেলায় তার শক্ত অবস্থান রয়েছে। জামায়াতের ইসলামীর ‘শক্ত ঘাঁটি’ হিসেবে পরিচিত এ আসনে নিজেদের প্রার্থী না থাকলেও জোটের প্রার্থীকে জেতাতে মরিয়া দলটি। এ অবস্থায় হাড্ডাহাডি লড়াই হবে মামুনুর রশিদ ও আবুল হাসানের মধ্যে।

আবার এ আসনে বড় একটি ফ্যাক্টর প্রখ্যাত আলেম আল্লামা আব্দুল লতিফ চৌধুরী (ফুলতলী ছাহেব নামে পরিচিত) প্রতিষ্ঠিত আঞ্জুমানে আল ইসলাহ’র ভোট। এবার এই ফ্যাক্টরে যোগ হয়েছে আওয়ামী লীগের ভোট। শেষ পর্যন্ত আল ইসলাহ ও আওয়ামী লীগের ভোটেই ভাগ্য নির্ধারিত হতে পারে মামুন ও আবুল হাসানের—এমন ধারণা ভোটারদের।

জানতে চাইলে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী মামুনুর রশীদ (চাকসু মামুন) জাগো নিউজকে বলেন, ‌‘সাধারণ মানুষ আমাকে চায়। আমি যে সাড়া পাচ্ছি তাতে কারও সঙ্গে আমার প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলেও মনে হয় না।’

এ বিষয়ে সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি ও বিএনপির সিলেট জেলার নির্বাচনের সমন্বয়ক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের প্রার্থীর প্রচারণায় গতি আনা ও বিজয় নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করতে দুই উপজেলা ও পৌরসভার সব স্তরের নেতকর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদি কেউ এর ব্যত্যয় ঘটায় তাহলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এরইমধ্যে কয়েকজনকে বহিষ্কারও করা হয়েছে।’

আহমেদ জামিল/এসআর/এএসএম