ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

জোট ছাড়া ভোট

ঘরের মাঠে কঠিন বাস্তবতার মুখে জাতীয় পার্টি

নিজস্ব প্রতিবেদক | রংপুর | প্রকাশিত: ০৬:৪৬ পিএম, ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

১৯৮৬ সালের ১ জানুয়ারি প্রয়াত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের হাত ধরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ ঘটেছিল জাতীয় পার্টির। ওই বছরের ৭ মে অনুষ্ঠিত তৃতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৫৩টি আসনে জয় পেয়ে সরকার গঠন করে দলটি।

এর দুই বছরের মধ্যে ১৯৮৮ সালের ৩ মার্চ অনুষ্ঠিত চতুর্থ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ প্রায় সব রাজনৈতিক দল বর্জন করলে জাপা ২৫১টি আসনে জয়লাভ করে। তবে ওই সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে পতন ঘটে এরশাদ শাসনের।

এরপর আর ক্ষমতায় যাওয়া হয়নি দলটির। তবে ক্ষমতা হারালেও বেশিরভাগ সময়ে ক্ষমতাসীন দলের মাঝে নিজেকে বিলিয়ে দিয়ে সুবিধা ভোগ করেছে জাতীয় পার্টি।

গত তিন মেয়াদে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতা করে নির্বাচনে অংশগ্রহণ এবং সংসদে বিরোধীদলের ভূমিকাও পালন করে দলটি। এ কারণে গৃহপালিত বিরোধীদলের তকমাও জোটে কপালে। ফলে জাতীয় পার্টির দুর্গখ্যাত রংপুর অঞ্চলেও প্রভাব কমতে থাকে এক সময়ের একক আধিপত্য বিস্তারকারী দলটির।

বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনগুলোর ফলাফলে দেখা যায়, ক্ষমতা হারানোর পর ১৯৯১ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে এককভাবে অংশ নিয়ে জাতীয় পার্টি সারাদেশে ৩৫টি আসনে জয়ী হয়। এর মধ্যে রংপুর বিভাগের ৩৩টি আসনের বিপরীতে জাপার দখলে ছিল ১৭টি আসন। এছাড়া আওয়ামী লীগ ৯টি, বিএনপি ১টি, সিপিবি ৩টি, জামায়াত ১টি, বাকশাল ও ন্যাপ ১টি করে আসন পেয়েছিল। ওই বছর জাপা প্রার্থীদের জয়ে ভোটের ব্যবধানও ছিল অনেক। দলটির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ কারাগারে বন্দি থাকা অবস্থায় ৫টি আসনে নির্বাচন করে ৫টিতেই জয়লাভ করেন।

১৯৯৬ সালের ১২ জুন অনুষ্ঠিত নির্বাচনেও এককভাবে অংশ নিয়ে সারাদেশে ৩২টি আসনে জয়লাভ করে জাতীয় পার্টি। ওই বছর রংপুর বিভাগে জাতীয় পার্টি পায় ২১টি আসন। আওয়ামী লীগ ৮টি, বিএনপি ৩ ও জামায়াত ১টি আসন পায়। ওই নির্বাচনেও হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ কারাগারে বন্দি থেকে ৫টি আসনে নির্বাচন করে ৫টিতেই জয়লাভ করেন। সেইবার আওয়ামী লীগকে সমর্থন দিয়ে সরকার গঠনে সহায়তা করে জাতীয় পার্টি।

এর তিন বছর পর আওয়ামী লীগ জোট থেকে বেরিয়ে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টি এবং ইসলামী ঐক্য জোট মিলিত হয়ে চারদলীয় ঐক্য জোট গঠন করে। কিন্তু কিছু দিন পরেই জাতীয় পার্টির একটি অংশ এরশাদের নেতৃত্বে জোট থেকে বের হয়ে যায়।

মূলত ১৯৯৬ এর নির্বাচনের পর থেকে এ অঞ্চলে জাপার ছন্দপতন ঘটতে থাকে। আসনগুলোতে সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি করে নিজেদের আধিপত্য জানান দিতে থাকে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জামায়াত। যার প্রভাব পড়ে ২০০১ সালের নির্বাাচনে।

২০০১ সালের নির্বাচনে ইসলামী ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে জোট করে জাতীয় পার্টি পায় মাত্র ১৪টি আসন। যার সবগুলোই ছিল রংপুর বিভাগে। ২০০১ সালে সরকার গঠন করে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট। পরে ২০০৬ সালে জাতীয় পার্টি যোগ দেয় আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটে। আর এই মহাজোটে গিয়েই ধস নামতে শুরু করে জাতীয় পার্টির। আওয়ামী লীগ ঘরনায় আবর্তিত হতে থাকে এরশাদের জাপা, বাড়তে থাকে দুর্গের দুর্দশা।

২০০৮ সালের নির্বাচনে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন জোট থেকে ২৯টি আসন ছাড় পায় এরশাদের জাপা। কিন্তু যে আসনেই জোট ছাড়া নির্বাচন করেছে সেখানেই ধরাশায়ী হয়েছেন দলটির প্রার্থীরা। মহাজোট গঠনে পায় মোট ২৩টি আসন। এরমধ্যে রংপুর বিভাগে ছিল ১২টি। ২০০৯ সালে গঠিত হাসিনা সরকারের মন্ত্রী ছিলেন জিএম কাদের।

২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিদ্রোহী হয়েছিলেন জাতীয় পার্টির তৎকালীন চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদ।

বিএনপির মতো এরশাদও দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু তার স্ত্রী রওশন এরশাদ সে সময় দলের অর্ধেক নেতাকে নিয়ে ভোট করার পক্ষে অবস্থান নেন।

ভোট বর্জন করেও রাজনীতির মারপ্যাঁচে রংপুর-৩ আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হন এরশাদ। অনেক নাটকীয়তার পর তিনি শপথও নেন, সেই সঙ্গে পান প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূতের পদ। সেই বিতর্কিত একতরফা নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ২৩টিসহ মোট ৩৪ আসন নিয়ে প্রধান বিরোধী দল হয় জাতীয় পার্টি। এরমধ্যে রংপুর বিভাগে পায় ৭টি আসন। সেই সংসদে জাপার তিন এমপি মন্ত্রীও হন।

সব দলের অংশগ্রহণে ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে জাপাকে ২৭টি আসন ছাড় দেয় আওয়ামী লীগ। রাতের ভোটখ্যাত সেই নির্বাচনে ২২ আসন পেয়ে ফের প্রধান বিরোধী দল হয় জাপা। এরমধ্যে রংপুর বিভাগে ছিল ৭টি।

২০১৯ সালের জুলাইয়ে এরশাদের মৃত্যুর পর দলের নেতৃত্বে আসেন ছোট ভাই জিএম কাদের। এসময় সাধারণ মানুষ ধারণা করেছিলেন, জিএম কাদের হয়তো প্রয়াত এরশাদের পথে হাঁটবেন না। ২০২৪ সালের নির্বাচন বিএনপি-জামায়াতসহ অধিকাংশ দল বর্জন করলেও জাতীয় পার্ট আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতায় গিয়ে ওই নির্বাচনে অংশ নেয়। এমনকি শেখ হাসিনার ছবি সম্বলিত পোস্টারও সাঁটান জাতীয় পার্টির কয়েকজন শীর্ষ নেতা। সর্বনাশের কফিনে শেষ পেরেকটা ঠুকে যায় ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারির ডামি নির্বাচনখ্যাত ওই ভোটে।

আওয়ামী লীগের কাছ থেকে ২৬টি আসনে ছাড় পায় জাতীয় পার্টি। ১১ আসন পেয়ে টানা তৃতীয় মেয়াদে বিরোধীদল হয় জিএম কাদেরের জাপা। এরমধ্যে রংপুর বিভাগে ছিল মাত্র ৩টি আসন। সমঝোতার বাইরে কোনো আসনে জিততে পারেননি দলের প্রার্থীরা।

বিগত সময়ের প্রাপ্ত ভোট বিশ্লেষণ করে দেখা যায, ১৯৯১ সালের নির্বাচনে মোট যত ভোট পড়েছিল তার ১১.৯২ শতাংশ পেয়েছিল জাতীয় পার্টি। এরপর ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে ১০.৬৭ শতাংশ, ২০০১ সালের ইসলামী জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে নির্বাচনে অংশ নিয়ে পেয়েছে ৭.২৫ শতাংশ। ২০০৮ সালের নির্বাচনে পেয়েছে ৭.৪ শতাংশ। ২০১৪ সালে বিএনপি-জামায়াতবিহীন নির্বাচনে ১১.৩১ শতাংশ, ২০১৮ সালে সব দলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ৫.২২ এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনে পেয়েছে ৩.৪১ শতাংশ ভোট।

২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতা করে জাপা নির্বাচনে অংশ নেয়। ২০১৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সঙ্গে মিলেমিশে মন্ত্রীসভায় থাকে, আবার বিরোধী দলেরও ভূমিকা পালন করে জাতীয় পার্টি। ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনেও সমঝোতার মাধ্যমে আসন পেয়ে সংসদে বিরোধী দল হয় দলটি।

আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতা করে সংসদীয় আসনে কোনো রকমে টিকে থাকা দলটি এবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এককভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। ৩০০ আসনের মধ্যে ২৪৩টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে দলটি। যদিও রংপুর- ১ (গঙ্গাচড়া ও রংপুর সিটি করপোরেশনের ১ থেকে ৯ ন্মরব ওয়ার্ড) আসনের প্রার্থী ব্যারিস্টার মঞ্জুম আলী দ্বৈত নাগরিকের বেড়াজালে আটকে ইতোমধ্যে নির্বাচনি মাঠ থেকে ছিটকে পড়েছেন। তবে বাকি প্রার্থীদের নিয়ে ভালো ফলাফল আশা করছেন দলের চেয়ারম্যান জিএম কাদের।

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নগরীর ‘স্কাই ভিউ’ বাসভবনে দলের সাংগঠনিক অবস্থা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জিএম কাদের বলেন, জাতীয় পার্টি দীর্ঘদিন ধরে নানা ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছে, এখনও হচ্ছে। বিভিন্নভাবে জাতীয় পার্টিকে দুর্বল করা হয়েছে। একটা বল প্রয়োগ করে, মামলা দিয়ে, জোর করে যেকোনো ধরণের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বাধা সৃষ্টি করে, জেল-জুলুম দিয়ে আর দলের মধ্যে ভাগ সৃষ্টি করে। বিএনপি এবং আওয়ামী লীগ কৌশলে আমাদেরকে দুর্বল করেছে।

জিএম কাদের বলেন, এবার যে কোনোভাবেই হোক, প্রতিকূলতার মাঝেই হোক আমরা মাথা তুলে দাঁড়িয়েছি। আমরা আমাদের নিজস্ব রাজনীতি নিয়ে জনগণের কাছে গিয়েছি। তারা যেটা চায়, বিশেষ করে নির্যাতিত, নিপীড়িত মানুষ, বঞ্চিত, বৈষম্যের শিকার, বিভিন্নভাবে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে, বিভিন্নভাবে অত্যাচারিত হচ্ছে- তাদের কণ্ঠস্বর হিসেবে জাতীয় পার্টিকে তারা গ্রহণ করছে। এবং তারা মনে করছে যে, জাতীয় পার্টি আমাদের রক্ষা করছে, আমাদের কথাগুলো বলছে। সেই হিসেবে আমি মনে করি জাতীয় পার্টির রাজনৈতিক অবস্থান অন্য যেকোনো বারের চেয়ে এখন অনেক শক্তিশালী। কাজেই আমরা এককভাবেই নির্বাচন করছি এবং যদি সঠিকভাবে আমাদের গণনা হয়, সঠিকভাবে রেজাল্ট হয়, আমরা ভালো ফলাফলের আশা করছি।

রংপুরসহ সারাদেশে এবার কতগুলো আসন পেতে পারে জাতীয় পার্টি-এমন প্রশ্নে জিএম কাদের বলেন, আমি আসন সংখ্যা এখানে বলতে চাই না। জোটে না গিয়ে আমরা এবার যেটা লক্ষ্য করেছি- এর আগে আমাদের রাজনীতি যেমন ছিল এতে লাভবান হয়েছে শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের। তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মী, যারা দীর্ঘদিন থেকে দলের জন্য অনেক ত্যাগ স্বীকার করছেন, অনেক কষ্ট স্বীকার করে রাজনীতি করছেন, দলটাকে ধরে রেখেছেন- তাদের মূল্যায়ন সঠিকভাবে আমরা করতে পারিনি। এবার জোটের থেকে বাইরে এসে সম্পূর্ণ দলীয় নির্বাচন করছে জাতীয় পার্টি। যদি আমরা এমপি ইলেকশনে ভালো করতে পারি, সামনের দিকে অন্যান্য স্থানীয় সরকার নির্বাচন, যেমন- উপজেলা নির্বাচন, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও আমাদের ভালো ফলাফল আশা আছে।

দলের পরিকল্পনা তুলে ধরে জাপা চেয়ারম্যান বলেন, দলটাকে আমরা ওইভাবে গড়ে তুলতে চাচ্ছি। শুধু ‘টপ হেভি’ নয়, ওপরের দিকে লালন-পালন করা, গোড়ার দিকে খেয়াল নাই- এ ধরনের চিন্তা থেকে দূরে এসে আমরা এখন সত্যিকার অর্থে তৃণমূল থেকে শক্তিশালী করে, ভিত্তি শক্তিশালী করে দলকে এগিয়ে নিতে চাচ্ছি। এখন এর পরিপ্রেক্ষিতে আমরা অনেকটা ঝুঁকি নিয়েছি এবং এককভাবে অনেকটা করছি, যেখানে হয়তো আরেকজনের সঙ্গে আন্ডারস্ট্যান্ডিং করলে সহজে জেতা যেত। কিন্তু আমরা সুযোগ নিতে চাই। জনগণ আমাদেরকে মূল্যায়ন করুক সঠিকভাবে, আমাদের রাজনীতিকে মূল্যায়ন করুক। আমরাও যেন নিজেকে মূল্যায়ন করতে পারি যে, কতটুকু আমরা ভালো পথে আছি, কতটুকু আমরা জনগণের কাছে যেতে পেরেছি। এটা আমরা এই নির্বাচনের মাধ্যমেই দেখতে চাই।

জিএম কাদের বলেন, এমপি নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক, আমরা আশা করবো এই নির্বাচনের পরবর্তীকালে জাতীয় পার্টি শুধু রংপুরভিত্তিক না, সারাদেশে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে আরও বেশি ভালো সুযোগ পাবে, ওপরে বেড়ে ওঠার।

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকসহ সাধারণ ভোটাররা বলছেন ভিন্ন কথা। তাদের মতে, ফ্যাসিবাদী সরকারের সঙ্গে আঁতাত করে জাতীয় পার্টি এতদিন যে রাজনীতি করেছে তার মাশুল এত সহজে শোধ হবে না। এরজন্য তাদের আরও অপেক্ষা করতে হবে। এবার ঘরের মাঠে কঠিন বাস্তবতার মুখে পড়েছে জাতীয় পার্টি। 

রংপুর নগরীর গনেশপুর এলাকার তরুণ ভোটার জিহাদ বলেন, দেশের মোট ভোটার সংখ্যার একটি বড় অংশ তরুণ। যারা এবার প্রথমবারের মতো ভোট দেবেন। এই তরুণ প্রজন্মকে নিয়ে জাতীয় পার্টির ভাবনা কী সেটা জানি না। তাদের রাজনীতি হচ্ছে ব্যক্তি কেন্দ্রিক। বিগত সময়ের কর্মকাণ্ড প্রশ্নবিদ্ধ। এ অবস্থায় নির্বাচনে তারা কতটা ভালো করতে পারবে তা বোঝাই যায়।

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার বাবুরহাট এলাকার ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেন বলেন, এই অঞ্চলের মানুষের আবেগ পুঁজি করে জাতীয় পার্টি এতদিন রাজনীতি করেছে। এখন সেই আবেগ নেই। মানুষ এখন অনেক সচেতন। আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করে কোনোরকমে টিকে ছিল। এবার আওয়ামী লীগ ছাড়া ভোটের মাঠে থাকলেও তাদের কর্মকাণ্ড মানুষ ভুলে যায়নি।

সুশাসনের জন্য নাগরিক সুজনের রংপুর জেলার সভাপতি অধ্যক্ষ ফখরুল আনাম বেঞ্জু বলেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতা করে উপকারের চেয়ে অপকারই বেশি হয়েছে। সাধারণ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছে জাতীয় পার্টি।

তিনি বলেন, জাতীয় পার্টিকে ঘুরে দাঁড়াতে হলে তৃণমূল থেকে কাজ শুরু করতে হবে। লেজুড়বৃত্তি রাজনীতি বাদ দিয়ে ইউনিয়ন পর্যায়ে নেতাকর্মীদের সংগঠিত করে দলের ভেতরে ও বাইরে গণতান্ত্রিক চর্চা করতে হবে। যেটা এত তাড়াতাড়ি সম্ভব নয়, এরজন্য দীর্ঘ সময়ের দরকার।

জিতু কবীর/এনএইচআর/এএসএম