ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

যুবদলের হামলার খবরে স্ট্রোকে মায়ের মৃত্যুর দাবি জামায়াত সমর্থকের

জেলা প্রতিনিধি | ফেনী | প্রকাশিত: ০৩:৫৫ পিএম, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ফেনী-৩ আসনে যুবদল নেতাকর্মীদের হামলার ঘটনা শুনে স্ট্রোক করে মায়ের মৃত্যুর দাবি করেছেন এক জামায়াত সমর্থক। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দাগনভূঞা উপজেলার জায়লস্কর ইউনিয়নের হীরাপুরে এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।

ভুক্তভোগী ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, দাগনভূঞা উপজেলার জায়লস্কর ইউনিয়নের সিলোনীয়া বাজারে জয়নাল আবেদীন দুলাল নামে দাঁড়িপাল্লার এক সমর্থকের ওপর হামলা চালিয়েছে যুবদল নেতাকর্মীরা। আহত দুলাল ওই ইউনিয়নের হীরাপুর গ্রামের জামাল উদ্দিনের ছেলে। তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন স্থানীয়রা। খবর পেয়ে তাকে দেখতে তাৎক্ষণিক সেখানে ছুটে যান জামায়াতের প্রার্থী ডা. ফখরুদ্দিন মানিক। এসময় হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

এ ঘটনায় একই ইউনিয়নের উত্তর জায়লস্কর গ্রামের অহিদুর রহমানের ছেলে মোহম্মদ হাসানসহ স্থানীয় যুবদল নামধারী আরও কয়েকজনকে আসামি করে থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

জয়নাল আবেদীন দুলালের দাবি, হামলার ঘটনা শুনে রাতে স্ট্রোক করেন দুলালের মা রৌশন আরা বেগম। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) তিনি মা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে বলে জানা গেছে।

দাগনভূঞা উপজেলা জামায়াতের আমির গাজী সালাহ উদ্দিন বলেন, হামলার ঘটনায় থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

জানা যায়, ক্যানসার আক্রান্ত রৌশন আরা বেগম আগে থেকেই হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। ছেলে আহত হওয়ার খবর শুনে তিনিই হৃদরোগে আক্রান্ত হন। শনিবার দুপুর ১২টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। শনিবার বাদ মাগরিব সিলোনীয়ার পূর্ব হীরাপুর পুরাতন জামে মসজিদের সামনে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।

ফেনী-৩ আসনে জামায়াতের প্রার্থী ডা. ফখরুদ্দিন মানিক বলেন, নির্বাচনের আগে, নির্বাচনের দিন ও নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা চলছে। এ বিষয়ে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি। যুবদল কর্মী মোহম্মদ হাসান, মামুন ও জয়ের নেতৃত্বে প্রবাস ফেরত জামায়াত কর্মী দুলালকে বেদম মারধর করে তার এক হাত থ্যাঁতলে দিয়েছে। আমরা এই জঘন্য সন্ত্রাসী কার্যক্রমের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। প্রশাসনের কাছে এদের গ্রেফতার ও শাস্তি দাবি করছি।

তিনি আরও বলেন, বিএনপির বিজয়ী প্রার্থী আবদুল আউয়াল মিন্টুর সঙ্গে কথা বলেছি। কর্মীদেরকে নিয়ন্ত্রণ করার আহ্বান করেছি। আমি জানি না তিনি কী পদক্ষেপ নিচ্ছেন। কর্মীদেরকে নিয়ন্ত্রণ ও একটি সম্প্রীতির পরিবেশ বজায় রাখার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি। এ অন্যায় আচরণের বিচার দাবি করছি।

এ ব্যাপারে জানতে অভিযুক্ত মোহাম্মদ হাসানের মুঠোফোনে বারবার কল দিলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

জানতে চাইলে ফেনীর পুলিশ সুপার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, জামায়াত কর্মীকে মারধরের বিষয়টি আমরা জেনেছি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আবদুল্লাহ আল-মামুন/এমএন/এএসএম