ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

দুই মাস পর স্কুলে যোগদান শিক্ষক শ্যামল কান্তির

প্রকাশিত: ১২:০১ পিএম, ১০ জুলাই ২০১৬

নারায়ণগঞ্জ বন্দরের পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চ বিদ্যালয়ে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ও ছাত্রকে মারধরের অভিযোগে লাঞ্ছিত সেই আলোচিত প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্ত দুই মাস পর নিজ কর্মস্থলে যোগদান করেছেন।

রোববার পুলিশি প্রহরায় নারায়ণগঞ্জ শহরের খানপুর মোকরবা রোডের ছয়তলা ভবনের ভাড়া বাসা থেকে স্কুলের উদ্দেশ্যে রওনা দেন তিনি। তবে শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্ত স্কুলে যোগদান করবে এমন সংবাদে বেশ কিছু শিক্ষার্থী বিক্ষোভ শুরু করলেও পরে স্থানীয়দের বাধায় তা পণ্ড হয়ে যায়।

এদিকে স্কুলশিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্ত তার কর্মস্থলে যোগদান করবেন এমন সংবাদে সকাল থেকে নারায়ণগঞ্জ সদর থানা পুলিশ তার বাড়ির চারপাশ ঘেরাও করে রাখে। পরে পুলিশের একটি দল কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে স্কুলে নিয়ে যায়।

পরে তাকে বন্দর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করলে ওই থানা পুলিশ নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে স্কুলে পৌঁছে দেয়। আর যোগদানের সময় তার সঙ্গে ছিলেন বন্দর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৌসুমী হাবীব, বন্দর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আ ক ম নুরুল আমিন, বন্দর থানার ওসি আবুল কালাম। নিরাপত্তার স্বার্থে শিক্ষক শ্যামল কান্তির সঙ্গে সব সময় পুলিশ প্রহরায় দেখা যায়।  

অন্যদিকে শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগকারী আলোচিত দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী রিফাতের নিরাপত্তাহীনতার অজুহাতে তার মা তাকে স্কুল থেকে নিয়ে যান। তবে এ বিষয়ে রিফাতের পরিবারের সঙ্গে কথা বলা যায়নি। এছাড়া শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্ত স্কুলের দায়িত্ব বুঝে নিয়ে শিক্ষকদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। এসময় অন্য শিক্ষকরাও তাকে স্বাগতম জানান। পরে তিনি ক্লাস নেন।

এ ব্যাপারে প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্ত জানান, আমি এখন সম্পূর্ণ সুস্থ। গত ১৩ মে স্কুলে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য আমাকে দেড় মাস হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। আর রমজান ও গ্রীষ্মকালীন ছুটির কারণে দুই মাস পর স্কুলে যোগদান করি।

মিডিয়ার কারণে আমি আমার ন্যায্য অধিকার ফিরে পেয়েছি। তবে অনেক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর আমার কর্মস্থলে ফিরে এলেও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি না। কারণ পুলিশ প্রহরায় আমি যোগদান করতে পেরে নিজেকে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছি। আমি স্কুলের সকল কাজকর্ম আন্তরিকভাবে পালন করবো। শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের বিরুদ্ধে আমার কোনো অভিযোগ নেই।
 
এ ব্যাপারে স্কুলের অভিভাবক প্রতিনিধি সালাউদ্দিন জানান, সকালে প্রধান শিক্ষক স্কুলে যোগদানের ফলে এলাকায় ও অভিভাবকদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। আর প্রধান শিক্ষক পুলিশ নিয়ে স্কুলে আসায় অনেক শিক্ষার্থীর মাঝে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
 
নারায়ণগঞ্জ সদর থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) সরাফত জানান, তিনি সারারাত পাহারা দেওয়ার পর সকালে এএসআই মাহবুবুরের নেতৃত্বে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে বন্দর থানা পুলিশের কাছে শিক্ষকে তুলে দেওয়া হয়। পরে বন্দর থানা পুলিশ শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে স্কুলে পৌঁছে দেয়। স্কুল ছুটি না হওয়া পর্যন্ত বন্দর থানা পুলিশ শিক্ষকের নিরাপত্তার জন্য স্কুলে অবস্থান করবে এবং তাকে পুনরায় বাসায় পৌঁছে দেবে।

প্রসঙ্গত, গত ১৩ মে বন্দরের পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে ধর্মী অনুভূতিতে আঘাত এবং দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী রিফাতকে মারধরের অভিযোগে এলাকাবাসী গণপিটুনি দেয়। এ ঘটনাটি আরো ভয়াবহ রূপ ধারণ করলে বিকেলে স্থানীয় সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান এসে তাকে জনগণের সামনে কান ধরে উঠবস করান। এরপর তাকে উদ্ধার করে নিয়ে যান তিনি। পরে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগসহ সারা বিশ্বে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে।

শাহাদাত হোসেন/এআরএ/এবিএস

আরও পড়ুন