ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

অ্যাম্বুলেন্স থেকে শিশু রোগী নামিয়ে দিলেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা

জেলা প্রতিনিধি | মাগুরা | প্রকাশিত: ১০:৩০ এএম, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

মাগুরার শ্রীপুরে সাত বছর বয়সী এক অসুস্থ শিশুকে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স থেকে নামিয়ে দেওয়া এবং ব্যক্তিগত কাজে অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহার করার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আশরাফুজ্জামান লিটনের বিরুদ্ধে।

সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে শ্রীপুর উপজেলার দারিয়াপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ ঘটনা ঘটে। অসুস্থ শিশুটির নাম আফিয়া খাতুন (৭)। সে মাগুরা সদর উপজেলার শেখ পাড়া গ্রামের বাসিন্দা ইলিয়াস আলীর মেয়ে।

জানা গেছে, সোমবার সকালে (১৬ ফেব্রুয়ারি) মাগুরা সদরের শেখপাড়া এলাকা থেকে শিশু আফিয়া একটি অনুষ্ঠান উপলক্ষে তার মামা বাড়ি শ্রীপুর উপজেলার দারিয়াপুর ইউনিয়নের চরচৌগাছি গ্রামে যায়। মামা বাড়ির ঘরের কোণে কৃষিজমিতে ব্যবহৃত কীটনাশক রাখা ছিল। খেলার ছলে শিশুটি অসাবধানতাবশত ওই কীটনাশক হাত-পায়ে মাখে এবং ভুলবশত
খেয়ে ফেলে।

এরপর শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে স্বজনরা দ্রুত তাকে দারিয়াপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটির শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় তাকে দ্রুত মাগুরা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালে রেফার্ড করেন।

চিকিৎসার জন্য দ্রুত মাগুরার হাসপাতালে নেওয়ার উদ্দেশ্যে রোগীর স্বজনেরা সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের চালক আকিদুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলে অ্যাম্বুলেন্সে ওঠেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, প্রায় ২০ মিনিট অ্যাম্বুলেন্সে অপেক্ষার পর চালক রোগীর স্বজনদের অসুস্থ শিশুটিসহ তাদের নেমে যেতে বলেন।

রোগীর স্বজনদের ভাষ্য, তারা চালকের কাছে এর কারণ জানতে চাইলে চালক জানান উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জরুরি কাজে অ্যাম্বুলেন্সটি ব্যবহার করবেন এবং রোগীকে অন্য যানবাহনে করে যেতে বলেছেন।

রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের ডাক্তার শিশু অফিয়াকে মাগুরা সদর হাসপাতালে রেফার্ড করেন। সরকারি অ্যাম্বুলেন্স রোগী পরিবহনের জন্য। অথচ টিএইচওর নির্দেশে অসুস্থ শিশুটিসহ আমাদের নামিয়ে দেওয়া হয়। বাধ্য হয়ে আমরা ইজিবাইকে করে শিশুটিকে মাগুরা হাসপাতালে নিয়ে যাই। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।

এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আশরাফুজ্জামান লিটন বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে মাগুরা সদর হাসপাতাল খুব বেশি দূরে নয়। সে কারণে বিকল্পভাবে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। আমার জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি গাড়িটির দুই বছর ধরে জ্বালানি বরাদ্দ বন্ধ রয়েছে। কিছু জরুরি প্রশাসনিক কাজে হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহার করতে হয়।

এদিকে ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হলে ডা. আশরাফুজ্জামান লিটনের বিরুদ্ধে সমালোচনার ঝড় ওঠে।

এ বিষয়ে শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সালেক মূহিদ বলেন, দারিয়াপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অ্যাম্বুলেন্স সংক্রান্ত ঘটনাটি সম্পর্কে আমরা অবগত হয়েছি। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট জেলা কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে। ভবিষ্যতে যাতে অ্যাম্বুলেন্স সাধারণ রোগীদের সেবায় সর্বদা ব্যবহৃত হয়, সে বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মাগুরার সিভিল সার্জন ডা. মো. শামীম কবির সাংবাদিকদের বলেন, অসুস্থ শিশুটিকে অ্যাম্বুলেন্স থেকে নামানো কোনোভাবেই উচিত হয়নি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মিনারুল ইসলাম জুয়েল/এফএ/এমএস