ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

ঝালকাঠিতে ১৮ বছরে ইসলামী আন্দোলনের ভোট বেড়েছে ২০ হাজার

জেলা প্রতিনিধি | ঝালকাঠি | প্রকাশিত: ০৩:৪১ পিএম, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সারাদেশে প্রত্যাশার তুলনায় বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। ৩০০ আসনের মধ্যে ২৫৭টিতে প্রার্থী দিয়ে দলটি জয় পেয়েছে মাত্র একটি আসনে।

নির্বাচন কমিশনের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোট প্রদত্ত ভোটের মাত্র ২ দশমিক ৭০ শতাংশ পেয়েছে তারা। এছাড়া প্রার্থীদের প্রায় ৯৬ শতাংশ জামানত রক্ষা করতে পারেননি।

নির্বাচনের আগে দলটির নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম সারাদেশে ১৪৩টি আসনকে ‘এ গ্রেড’ বা নিশ্চিত জয়ের আসন হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন। কিন্তু চূড়ান্ত ফলাফলে সে ঘোষণার প্রতিফলন দেখা যায়নি। জাতীয় পর্যায়ে এ ভরাডুবির মধ্যেও ঝালকাঠির দুটি সংসদীয় আসনে দলটির ভোট বৃদ্ধির চিত্র কিছুটা ব্যতিক্রমী।

তবে বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে পরবর্তী ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত এ ১৮ বছরে ঝালকাঠিতে ইসলামী আন্দোলনের মোট ভোট বেড়েছে মাত্র ২০ হাজার ৪৬৮টি। প্রশ্ন উঠছে, এ সীমিত বৃদ্ধির বাস্তবতায় ১৪৩টি আসনকে ‘এ গ্রেড’ ঘোষণা কতটা বাস্তবসম্মত ছিল।

ঝালকাঠি-১ আসনে ২০০৮ সালে দলটির প্রার্থী মইনুল ইসলাম ভোট পেয়েছিলেন ৫ হাজার ৪০৮টি। ২০১৮ সালে তা কমে দাঁড়ায় ৪ হাজার ৮৪৩ ভোটে। তখন প্রার্থী ছিলেন নুরুল হুদা। ২০২৬ সালে হাফেজ মাওলানা মো. ইব্রাহিম (হাদি) পান ৭ হাজার ৭৪৪ ভোট। ১৮ বছরে এ আসনে ভোট বেড়েছে মোট ২ হাজার ৩৩৬টি।

ঝালকাঠি-২ আসনে ২০০৮ সালে দলটির প্রার্থী ফখরুল ইসলাম পান ৬ হাজার ৪১১ ভোট। ২০১৮ সালের নির্বাচনে ফয়জুল করীম পান ৯ হাজার ৮১২ ভোট। আর ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনীত হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী ডা. সিরাজুল ইসলাম সিরাজী পান ২৪ হাজার ৫৪৩ ভোট।

এ আসনে ১৮ বছরে ভোট বৃদ্ধি পেয়েছে ১৮ হাজার ১৩২টি। যা জেলার মোট বৃদ্ধির বড় অংশ। তবে এখানেও জয়ী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয়ভাবে যেখানে মোট ভোটের অংশীদারিত্ব মাত্র ২.৭০ শতাংশ এবং ৯৬ শতাংশ প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন, সেখানে ১৪৩টি আসনকে মানের দিক দিয়ে ‘এ গ্রেড’ ঘোষণা ছিল অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসের প্রতিফলন।

এ বিষয়ে ইসলামী আন্দোলনের জেলা সেক্রেটারি ইব্রাহিম আল হাদি জাগো নিউজকে বলেন, ‘ঝালকাঠি-২ আসনটি দলীয় মূল্যায়নে ‘এ গ্রেড’ হিসেবে বিবেচিত ছিল। তবে এটি ছিল সাংগঠনিক জরিপের ভিত্তিতে প্রস্তুত একটি অভ্যন্তরীণ তালিকা। এটি দশ দলীয় জোটের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতার আলোচনার অংশ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এটিকে আনুষ্ঠানিক বা যৌথ ঘোষণা হিসেবে উপস্থাপন করা সঠিক নয়।’

তিনি বলেন, ‘দল প্রত্যাশিত আসন না পেলেও ঝালকাঠিতে ভোট বৃদ্ধিকে ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখছি। একই সঙ্গে নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় নানা প্রতিকূলতা ও ‘ষড়যন্ত্রের’ অভিযোগ রয়েছে। আগের কয়েকটি নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্তের কারণে জাতীয় ভোটের পরিসংখ্যানে প্রভাব পড়েছে।’

ঝালকাঠির মতো জেলায় ১৮ বছরে মোট ভোট বৃদ্ধি ২০ হাজারের কিছু বেশি— যা সংখ্যাগতভাবে অগ্রগতি হলেও সরকার গঠন দাবির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ভবিষ্যতে আরও সতর্কভাবে রাজনীতি করার আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন ভোটাররা।

মো. আমিন হোসেন/আরএইচ/এমএস