ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

শুধু ভাষার মাসেই গুরুত্ব পায় ফেনীর শহীদ আবদুস সালাম নগর

আব্দুল্লাহ আল-মামুন | ফেনী | প্রকাশিত: ০৫:১৫ পিএম, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ভাষা শহীদ আবদুস সালামের গ্রামের বাড়ি ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার লক্ষ্মণপুর (বর্তমানে সালাম নগর) গ্রামে। গ্রামটি প্রান্তিক জনপদে হওয়ায় সারাবছর কেউ সালাম পরিবার ও এলাকার খোঁজ রাখে না। ভাষার মাস ফেব্রুয়ারি শুরু হলেই কদর বাড়ে এ গ্রামের। এ মাসেই গ্রামটিতে পা রাখেন দেশের বিশিষ্টজন ও প্রশাসনিক কর্তারা। খবরের সন্ধানে ঘুরে ফেরেন ফেনীসহ দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যম কর্মীরাও।

ভাষা শহীদ সালামের নামে তার বাড়ির দরজায় ভাষা শহীদ আবদুস সালাম গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করা হলেও সেখানে বছরজুড়ে থাকে সুনসান নীরবতা। ভাষা শহীদ সালাম সম্পর্কে আগামী প্রজন্মকে জানাতে ঢাকা-চট্টগ্রাম জাতীয় মহাসড়ক ও ফেনী-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কে তোরণ নির্মাণ, গ্রামের বাড়ির সামনে উচ্চ বিদ্যালয় স্থাপন, জাদুঘরে স্মৃতি সংরক্ষণ ও গ্রন্থাগারে নতুন নতুন বই সংযোজন এবং একটি বিনোদন কেন্দ্র গড়ে তোলার দাবি করেছেন স্থানীয়রা। এছাড়াও শহীদ সালামদের রক্তের ভাষা বাংলাকে সকল স্তরে চালু করার দাবি জানিয়েছেন বিশিষ্টজনরা।

স্থানীয় ও বিশিষ্টজনদের সবগুলো দাবিই পূরণের সম্ভাব্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন ফেনী জেলা পরিষদ ও জেলা প্রশাসন।

শুধু ভাষার মাসেই গুরুত্ব পায় ফেনীর শহীদ আবদুস সালাম নগর

সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার মাতুভূঞা ইউনিয়নের লক্ষণপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ভাষা শহীদ আবদুস সালাম। বাংলা ভাষা রক্ষার আন্দোলনে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেন তিনি। সেখানে গুলিবিদ্ধ হন আবদুস সালাম। পরে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭ এপ্রিল মৃত্যুবরণ করলে তাকে আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়।

পরিবার ও স্বজনদের দাবির প্রেক্ষিতে ভাষা আন্দোলনের ৬৫ বছর পর ২০১৭ সালে আজিমপুর কবরস্থানে আবদুস সালামের কবর শনাক্ত করা হয়।

ভাষা শহীদ আবদুস সালামকে স্মরণীয় করে রাখতে তার গ্রামের বাড়ি লক্ষণপুরের নাম পরিবর্তন করে সেটিকে সালাম নগর গ্রাম করা হয়েছে। সালামের বাড়ির সামনে লক্ষণপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করে ভাষা শহীদ আবদুস সালাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় করা হয়েছে। ২০০০ সালে ফেনীতে ভাষা শহীদ সালাম স্টেডিয়ামের নামকরণ করা হয়। ২০০৭ সালে দাগনভূঞা উপজেলা অডিটরিয়ামের নাম করণ করা হয় ভাষা শহীদ সালাম মিলনায়তন।

২০০৮ সালে সালামের বাড়ির দরজায় নির্মাণ করা হয় ভাষা শহীদ আবদুস সালাম গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর। নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে হলের নামকরণ করা হয় ভাষা শহীদ আবদুস সালাম। সালামকে স্মরণীয় করে রাখতে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর অন্যতম যুদ্ধ জাহাজের নামকরণ করা হয় বানৌজা সালাম। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে ২০০০ সালে ভাষা শহীদ সালামকে মরণোত্তর একুশে পদক প্রদান করা হয়।

ভাষা শহীদ আবদুস সালামের ছোট ভাই আবদুল করিম জানান, আমাদের বাড়ির দরজায় স্থাপিত গ্রন্থাগারকে প্রাণচাঞ্চল্যকর রাখতে পাশের স্কুলটিকে উচ্চ বিদ্যালয়ে রূপান্তর করা গেলে পাঠক সৃষ্টি হবে। এছাড়া এটিকে স্মৃতি জাদুঘর নাম দেওয়া হলেও মূলত এখানে সালামের কোনো স্মৃতি সংরক্ষণ করা হয়নি।

শুধু ভাষার মাসেই গুরুত্ব পায় ফেনীর শহীদ আবদুস সালাম নগর

সরেজমিনে ভাষা শহীদ সালাম স্মৃতি পাঠাগার ও জাদুঘরে গিয়ে দেখা যায়, কয়েকদিন আগেই ভবনটিকে পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে। সেখানে কয়েকজন পাঠক বিভিন্ন রকমের বই পড়ছেন।

গ্রন্থাগারের গ্রন্থাগারিক মো. লুৎফর রহমান বাবলু জানান, গন্থাগারে সাড়ে ৩ হাজার বই রয়েছে। বছরজুড়ে গ্রন্থাগারটিতে পাঠকের আনাগোনা কম থাকে। পাশের রাস্তাটি সংস্কার হওয়ায় বর্তমানে পাঠকের সংখ্যা কিছুটা বাড়লেও নতুন বই না থাকায় পাঠকরা এখানে আসতে আগ্রহ পাচ্ছেন না।

তিনি জানান, পাঠাগারে বর্তমানে দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্য, ভাষা আন্দোলনসহ গুরুত্বপূর্ণ অনেক বই রয়েছে। তবে ভাষা শহীদ সালামের উপর বাংলা একাডেমি প্রকাশিত বইটি এখনো সরবরাহ করা হয়নি। এছাড়া ২০২৪ এর বন্যায় পাঠাগারটি পানিতে নিমজ্জিত হওয়ার পর সবগুলো বইয়ের আলমিরা ও বই নষ্ট হয়ে গেছে। কয়েকদিন টানা রাদে শুকিয়ে কিছু বই পাঠযোগ্য করা গেলেও বেশিরভাগ বই নষ্ট হয়ে গেছে। আলমিরা না থাকায় বইগুলো টেবিলের উপরই রাখতে হয়। চলতি বছর অনেকগুলো বই ও বুকসেলফ সংযোজন করা হয়েছে।

ভাষা শহীদ আবদুস সালাম স্মৃতি পরিষদের সভাপতি মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন জানান, ভাষা আন্দোলনের গৌরব গাথা ইতিহাস পাঠ্যপুস্ককে অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন। সালামদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত বাংলা ভাষা দেশের সর্বস্তরে চালু করার উদ্যোগ নিতে হবে। সালাম নগরে জনসমাগম নিশ্চিত করার জন্য সেখানে একটি পার্ক অথবা বিনোদন কেন্দ্র গড়ে তোলার দাবি জানান সালাম পরিষদের এ নেতা।

ফেনী জেলা প্রশাসক মনিরা হক বলেন, ভাষা শহীদ সালামের গ্রামের বাড়ি দাগনভূঞার মাতুভূঞা ইউনিয়নে অবস্থিত। গ্রামটিকে জনসম্পৃক্ত করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এমএন/এমএস