ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

কক্সবাজারে সংসদ সদস্যের গাড়িবহরের চাপায় শিশুর মৃত্যু

জেলা প্রতিনিধি | কক্সবাজার | প্রকাশিত: ১২:৩৬ এএম, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

কক্সবাজারের মহেশখালী-চকরিয়ার সীমান্ত এলাকা বদরখালীতে সংসদ সদস্যের গাড়িবহরের ধাক্কায় খালেদ বিন ওয়ালিদ (৮) নামে এক মাদরাসাছাত্রের মৃত্যু হয়েছে।

রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে চকরিয়ার বদরখালী ইউনিয়নের আহমদ কবিরের ঘাটা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন।

নিহত শিশু খালেদ বিন ওয়ালিদ (৮) বদরখালী ইউনিয়নের আহমদ কবিরের ঘাটা এলাকার প্রবাসী আমান উল্লাহর ছেলে। সে স্থানীয় একটি নুরানি মাদরাসায় দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ত।

ওসি মনির জানান, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হন বিএনপির আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ রোববার তিনি কুতুবদিয়া সফরে যান। সফর শেষে বিকেলে সড়কপথে পেকুয়া দিয়ে চকরিয়ার বদরখালী হয়ে মহেশখালী ফিরছিলেন। এ সময় তার গাড়িবহরে ৮-১০টি গাড়ি ছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

ওসি আরও জানান, বিকেল পাঁচটার দিকে গাড়িবহর বদরখালীর আহমদ কবিরের ঘাটা পার হবার সময় বহরের একটি গাড়ি শিশুটিকে চাপা দেয়। গুরুতর আহত শিশুটিকে তার মা সুমাইয়া স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

স্থানীয়রা জানায়, ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন বদরখালী মাদ্রাসা গেট এলাকায় সড়কের মাঝখানে একটি ডাম্প ট্রাক দিয়ে এমপির গাড়িবহরের কয়েকটি গাড়ি আটকে দেন। এ সময় এমপিকে বহনকারী গাড়িটি বদরখালী নৌ পুলিশ ফাঁড়ি পর্যন্ত চলে যায়। সেখান থেকে গাড়ি ঘুরিয়ে আটকে পড়া গাড়িগুলো স্থানীয় কয়েকজন বিএনপি নেতার সহযোগিতায় ছাড়িয়ে নিয়ে চলে যান।

এদিকে, সন্ধ্যায় শিশুটির মায়ের আহাজারির একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এতে দেখা যায়, হাসপাতালের বিছানায় নিথর পড়ে আছে মৃত শিশুটি। মা তাকে বুকের সঙ্গে জড়িয়ে ধরে রেখেছেন। কখনো মুখে হাত বোলাচ্ছেন, কখনো গায়ে। বারবার ডেকে বলছেন, ‘উঠ বাবা…উঠ…।’

বিষয়টি সম্পর্কে জানতে যোগাযোগ করা হলেও এমপি আলমগীর ফরিদ কোনো মন্তব্য করেননি।

চকরিয়া থানার ওসি মনির হোসেন বলেন, বাচ্চাটিকে চাপা দেওয়া গাড়িটি জব্দ করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রণে আছে। ঊর্ধ্বতন মহলের নির্দেশনায় পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


সায়ীদ আলমগীর/কেএইচকে