খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক কে এই মঞ্জু
খুলনা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও খুলনা মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নজরুল ইসলাম মঞ্জু ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে খুলনা-২ আসন থেকে নির্বাচন করেন। প্রায় ৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে জামায়াতের প্রার্থীর কাছে হেরে যান তিনি।
এদিকে সরকার নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে খুলনা সিটির প্রশাসক নিয়োগ দেওয়ার পর জেলায় আবারও আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছেন তিনি।
প্রজ্ঞাপন সূত্রে জানা যায়, গত ২২ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে দেশের ৬টি সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ করা হয়। ওই চিঠিতে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে খুলনা সিটি করপোরেশনের পূর্ণকালীন প্রশাসকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
কে এই নজরুল ইসলাম মঞ্জু:
খুলনা বিএনপির নেতাকর্মীরা বলেন, নজরুল ইসলাম মঞ্জু বেগম খালেদা জিয়ার একজন বিশ্বস্ত কর্মী হিসেবে পরিচিত। দক্ষিণাঞ্চলের বিএনপির ভ্যানগার্ড হিসেবে মঞ্জু দলের জন্য ও সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করেছেন। ১৯৭৯ সালে ছাত্রদল কর্মী হিসেবে রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন নজরুল ইসলাম মঞ্জু। ১৯৮৭ সালে তিনি খুলনা মহানগর বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক মনোনীত হন। ১৯৯২ সালের দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদক হয়ে দায়িত্ব পালন করেন একটানা ১৭ বছর। ২০০৯ সালের ২৫ নভেম্বর সম্মেলনে সভাপতি নির্বাচিত হন। ২০২১ সালের ৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত এক যুগ মহানগর বিএনপির সভাপতি ছিলেন।

২০২১ সালের ডিসেম্বরে নজরুল ইসলাম মঞ্জুর রাজনৈতিক জীবনে ছন্দপতন ঘটে। ওই বছরের ৯ ডিসেম্বর মহানগর বিএনপির তিন সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। কমিটি থেকে বাদ পড়েন মঞ্জু ও তার অনুসারীরা। ১২ ডিসেম্বর দলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৪ ডিসেম্বর শোকজ করা হয় তাকে। পরে ২৫ ডিসেম্বর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ থেকেও অব্যাহতি দেওয়া হয় তাকে।
নজরুল ইসলাম মঞ্জুর প্রায় ৪৩ বছরের রাজনৈতিক জীবনের এমন পরিণতি মানতে পারেননি দলটির নেতাকর্মীদের অনেকেই। এক দিন পরই শুরু হয় গণপদত্যাগ। ওই সময় খুলনা মহানগর বিএনপি, পাঁচ থানা ও ওয়ার্ড কমিটি থেকে প্রায় ছয় শতাধিক নেতা পদত্যাগ করেন। এরপর থেকে বিএনপির সব ধরনের পদ-পদবির বাইরে নজরুল ইসলাম মঞ্জু ও তার অনুসারীরা। কিন্তু বিএনপির কেন্দ্র ঘোষিত প্রতিটি কর্মসূচি ও বড় সমাবেশে তিনি কর্মীদের নিয়ে নিয়মিত অংশ নেন। জুলাই অভ্যুত্থানেও তিনি রাজপথে সরব ছিলেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নজরুল ইসলাম মঞ্জু বিএনপির দলীয় মনোনয়ন নিয়ে খুলনা-২ আসন থেকে নির্বাচন করেন। মাত্র পাঁচ হাজার ভোটের ব্যবধানে জামায়াত প্রার্থী জাহাঙ্গীর হোসেন হেলালের কাছে পরাজিত হন তিনি। দলীয় কোন্দলের কারণে হারলেও নজরুল ইসলাম মঞ্জু কোনো অভিযোগ করেননি।
খুলনা মহানগর বিএনপির সাবেক প্রচার সম্পাদক আসাদুজ্জামান মুরাদ বলেন, পদ ছিল না, কিন্তু নজরুল ইসলাম মঞ্জু রাজপথেই ছিলেন। এমনকি দলের কর্মসূচিতে গিয়ে তার গাড়িতে হামলা হয়েছে, ভাঙচুর হয়েছে। তারপরও তিনি মাঠ ছাড়েননি। আবারও প্রমাণ হলো রাজপথ কখনও বেঈমানি করে না।
আরিফুর রহমান/এমএন/জেআইএম