ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

যশোরে বিএনপির দুই গ্রুপে উত্তেজনা, ১৪৪ ধারা জারি

জেলা প্রতিনিধি | যশোর | প্রকাশিত: ০৮:৪১ পিএম, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

যশোরের বাঘারপাড়ায় বিএনপির দুই গ্রুপের বিরোধকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। পৌর বিএনপির সভাপতি আব্দুল হাই মনার অনুসারীদের পূর্বনির্ধারিত বিক্ষোভ সমাবেশের স্থলে পাল্টা সমাবেশ ডাক দিয়েছে আরেক পক্ষ।

মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) পৌর শহরের চৌরাস্তা এলাকায় এ কর্মসূচি হওয়ার কথা ছিল। সংঘাত এড়াতে সেখানে ১৪৪ ধারা জারি করে উপজেলা প্রশাসন।

এ নিয়ে উত্তেজনা থাকলেও সকাল ৯টা থেকে বিকেল পর্যন্ত চলা বিধিনিষেধে কোথাও অপ্রীতিকর কোনো ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। তবে এখনো নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সন্ধ্যার পরেও মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ।

বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান, বাঘারপাড়া উপজেলা বিএনপি দুটি গ্রুপে বিভক্ত। একটি পক্ষের নেতৃত্ব দেন কৃষকদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার টি এস আইয়ুব। অন্যটির নেতৃত্বে পৌর বিএনপির সভাপতি আব্দুল হাই মনা। সম্প্রতি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে আসনটিতে দলীয় মনোনয়ন পান টি এস আইয়ুব। কিন্তু নির্বাচন কমিশন ঋণখেলাপির দায়ে তার মনোনয়ন বাতিল করে। পরে তার মনোনয়ন পরিবর্তন করে অভয়নগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মতিয়ার রহমান ফরাজীকে দেওয়া হয়। যদিও বিএনপির এই প্রার্থী জামায়াতের প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন।

আইয়ুব পক্ষের ভাষ্য, টি এস আইয়ুবকে ঋণখেলাপিতে মনোনয়ন বাতিল করতে নেপথ্যের কারিগর ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল ও ঢাকা দক্ষিণ যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নূরে আলম সিদ্দিকী সোহাগ। ফলে ক্ষুব্ধ হয়ে সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে আইয়ুবের অনুসারীরা ঝাড়ু মিছিল করে দলীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা ও বহিষ্কারের দাবি জানান। এই ঝাড়ু মিছিলের প্রতিবাদে মঙ্গলবার দুপুরে পৌর শহরে বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেন আব্দুল হাই মনার অনুসারীরা।

এই পক্ষের কর্মসূচির খবর ছড়িয়ে পড়লে পাল্টা সমাবেশের ডাক দেন টি এস আইয়ুবের অনুসারীরা। উভয়পক্ষের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি আহ্বানকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে শহরে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শহরে ১৪৪ ধারা জারি করে প্রশাসন।

বাঘারপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ভুপালী সরকার সই করা আদেশে বলা হয়, বাঘারপাড়া পৌরসভার স্বর্ণপট্টি মোড় থেকে চৌরাস্তাসহ তৎসংলগ্ন এলাকা এবং উপজেলা মোড় ও এর আশপাশে সব ধরনের সমাবেশ, বিক্ষোভ মিছিল, গণজমায়েত, মাইক ব্যবহার নিষিদ্ধ থাকবে। আদেশ জারির পর মোড়ে মোড়ে ব্যাপক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়। উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে বাজারের বেশিরভাগ দোকান বন্ধ করে দেন ব্যবসায়ীরা।

এ বিষয়ে বিএনপি নেতা টি এস আইয়ুবের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি রিসিভ করেননি। তবে তার অনুসারী হিসেবে পরিচিত উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামসুর রহমান বলেন, ‘আমি অসুস্থ। সমাবেশ হওয়ার কথা থাকলেও আমি যাইনি।’

তিনি বলেন, ‘টি এস আইয়ুব মনোনয়ন পেলেও সেটি বাতিল করতে ষড়যন্ত্র করে সোহাগ। তার প্রতিবাদে নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ করতে চেয়েছিল। কিন্তু ১৪৪ ধারা জারি করায় সেটি হয়নি।’

পৌর বিএনপির সভাপতি আব্দুল হাই মনা বলেন, ‘কেন্দ্রীয় নেতাদের বিরুদ্ধে টিএস আইয়ুব কিছু লোক ডেকে শহরে ঝাড়ু মিছিল করেছে। এতে আমাদের নেতাদের মানহানি হয়েছে। তার প্রতিবাদে আমরা বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেই। কিন্তু আমাদের কর্মসূচির বিরুদ্ধে তারা পাল্টা কর্মসূচি দিয়েছে। এতে সংঘর্ষ হতে পারে বলে উপজেলা প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করে।’

এসময় একটি পক্ষ দলে বিভেদ সৃষ্টি করে নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ভুপালী সরকার বলেন, ‘বাজারে একই স্থানে দুটি পক্ষ সমাবেশ ডাকে। এ কারণে জননিরাপত্তার স্বার্থে এবং অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পৌর সদরের নির্দিষ্ট এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। এখন পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।’

যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু বলেন, ‘এসব অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। সবাইকে সংযত হতে হবে। কোনো অভিযোগ বা বক্তব্য থাকলে জেলা বা দায়িত্বশীল নেতাদের শরণাপন্ন হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। বিভেদ সৃষ্টি করে এ ধরনের কর্মসূচি যারা করছে, তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মিলন রহমান/এসআর/এমএস