ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

বাম্পার ফলনেও হাসি নেই জয়পুরহাটের হলুদ চাষিদের মুখে

জেলা প্রতিনিধি | জয়পুরহাট | প্রকাশিত: ০৯:৪৬ এএম, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

উত্তরের জেলা জয়পুরহাটে চলতি মৌসুমে হলুদের বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে বাজারের বর্তমান পরিস্থিতিতে খুশির বদলে কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে চাষিদের। গত মৌসুমের তুলনায় মণে ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত দাম কমে যাওয়ায় লোকসানের আশঙ্কায় দিন কাটছে তাদের।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উত্তরবঙ্গের অন্যতম বড় কাঁচা হলুদের বাজার জয়পুরহাটের আক্কেলপুরের জামালগঞ্জ হাট। সপ্তাহে দুই দিন (শনিবার ও মঙ্গলবার) বসা এই হাটে বর্তমানে কাঁচা হলুদের ব্যাপক সরবরাহ থাকলেও দাম নিয়ে হাহাকার করছেন কৃষকরা।

জামালগঞ্জ হাট সরেজমিনে দেখা গেছে, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পাইকাররা প্রতি হাটে ১০ থেকে ৩০ ট্রাক কাঁচা হলুদ কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। এই হলুদ ঢাকা, চট্টগ্রাম, পাবনা, দাশুড়িয়া ও রাজবাড়ীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে গত মৌসুমের তুলনায় এবার মণে ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা কম দামে হলুদ বিক্রি হচ্ছে। গত মৌসুমে যে কাঁচা হলুদ প্রতি মণ ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকা দরে বিক্রি হয়েছে, এবার তা ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ। সাধারণ মানের হলুদ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকায়।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে জেলায় মোট ২৮০ হেক্টর জমিতে হলুদের আবাদ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার উৎপাদন ৫ হাজার ২২৫ মেট্রিক টন ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

হাটে ৫ মণ হলুদ নিয়ে আসা কৃষক রহমত আলী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সার, বিষ আর শ্রমিক যে দাম বাড়ছে, তাতে ১ হাজার ৪০০ টাকায় হলুদ বিক্রি করলে লোকসান হবে। গত বছর ২ হাজার টাকা বিক্রয় করা হয়েছিল, এবার দাম নাই।

বাম্পার ফলনেও হাসি নেই জয়পুরহাটের হলুদ চাষিদের মুখে

আরেক কৃষক আসলাম হোসেন বলেন, ১০ মণ হলুদ নিয়ে এসেছিলাম। গত বছরে ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকা দর পেলেও এবার ১ হাজার ৩৫০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। দ্রুত সরকারি হস্তক্ষেপ ও বাজার মনিটরিংয়ের দাবি জানান তিনি।

স্থানীয় ব্যবসায়ী রহিম উদ্দিন বলেন, ভারতের হলুদ আসার কারণে দেশি হলুদের বাজার কম। এখানকার হলুদের মান খুব ভালো, সারা দেশে এর চাহিদাও আছে। কিন্তু আমদানির চাপে ভালো মানের হলুদও ১ হাজার ৫০০ টাকার ওপরে উঠছে না।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এ কে এম সাদিকুল ইসলাম বলেন, জয়পুরহাটের মাটি হলুদ চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। হলুদের গুণগত মান ভালো হওয়ায় এর আলাদা চাহিদা আছে। কৃষকদের সব ধরনের কারিগরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে এবং এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও ভালো ফলন হবে।

মাহফুজ রহমান/কেএইচকে/এমএস