ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

জয়পুরহাট

পল্লি বিদ্যুতের বিলে ভুতুড়ে কাণ্ড, ৬১ হাজার টাকার বিল ১ হাজারে সংশোধন

জেলা প্রতিনিধি | জয়পুরহাট | প্রকাশিত: ০৩:১৬ পিএম, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় পল্লি বিদ্যুতের ‘ভুতুড়ে’ বিলে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন সাধারণ গ্রাহকরা। মাসের ব্যবধানে কারও বিল দ্বিগুণ, আবার কারও বিল বেড়েছে ৭০ গুণ পর্যন্ত। বিশেষ করে এক প্রবাসী গ্রাহকের ৬১ হাজার টাকার বিল মাত্র ১ হাজার টাকায় নেমে আসার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) অভিযোগ নিয়ে ওই প্রবাসী বিদ্যুৎ অফিসে গেলে মুহূর্তেই সেই বিশাল বিল সংশোধন করে মাত্র ১ হাজার ৪৭ টাকা করে দেওয়া হয়। অর্থাৎ, এক নিমিষেই বিলে ৬০ হাজার টাকার গরমিল ধরা পড়ে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কালাই পৌরশহরের তালুকদার পাড়ার আমেরিকা প্রবাসী মোরশেদ তালুকদারের বাড়িতে ফেব্রুয়ারি মাসে বিল পাঠানো হয় ৬১ হাজার ১০ টাকা। বিলে বিদ্যুৎ ব্যবহার দেখানো হয় ৪ হাজার ১৫০ ইউনিট। অথচ বাস্তবে মিটারে রিডিং ছিল অনেক কম।

পল্লি বিদ্যুতের বিলে ভুতুড়ে কাণ্ড, ৬১ হাজার টাকার বিল ১ হাজারে সংশোধন

শুধু এই প্রবাসীই নন, কালাই উপজেলার কয়েক হাজার গ্রাহকের একই অবস্থা। পৌরশহরের কলেজ পাড়ার কাজী তানভিরুল ইসলাম জানান, তার মাসিক বিল ৭০০-১ হাজার টাকার মধ্যে থাকে। ডিসেম্বরে ৮১০ টাকা এলেও জানুয়ারিতে বিল আসে ৩ হাজার ১১০ টাকা। বিদ্যুৎ অফিসে গেলে তারা আগের বকেয়া যোগ হওয়ার কথা জানায়, অথচ নিয়মিত বিল পরিশোধ করায় তার কোনো বকেয়াই ছিল না।

পুনট ইউনিয়নের শিকটা গ্রামের আব্দুল কাফি বলেন, আমার প্রতি মাসে ৪৫০-৫৫০ টাকা বিল আসে। কিন্তু ফেব্রুয়ারিতে এসেছে ১ হাজার ২২৫ টাকা। গ্রামের প্রায় সবারই একই অবস্থা। এছাড়া সড়াইল, আঁওড়া, ধুনট ও তেলিহারসহ অনেক গ্রামের গ্রাহকরাও একই অভিযোগ করেন।

বিভিন্ন গ্রাহকদের দাবি, মিটার রিডারদের মনগড়া ও অনিয়মিত রিডিংয়ের কারণেই এমন ভুতুড়ে বিল আসছে। এছাড়া মিটারের ত্রুটিও একটি বড় কারণ।

কালাই চালকল মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুল আজিজ বলেন, ভুতুড়ে বিলের এই সমস্যা কয়েক মাস ধরেই চলছে। অফিসে অভিযোগ দিলেও কোনো কাজ হয় না। এতে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা চরম আর্থিক চাপে পড়েছেন।

পল্লি বিদ্যুতের বিলে ভুতুড়ে কাণ্ড, ৬১ হাজার টাকার বিল ১ হাজারে সংশোধন

কালাই জোনাল কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় পল্লি বিদ্যুতের ৪৭ হাজার ১০ জন গ্রাহক রয়েছেন। এসব গ্রাহকের জন্য ৮৭৭ কিলোমিটার লাইন নির্মাণ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে কালাই জোনাল কার্যালয়ের উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) প্রকৌশলী জোবায়ের আলী বসুনিয়া বলেন, ইচ্ছাকৃতভাবে বিল বেশি করার সুযোগ নেই। ভুল রিডিংয়ের কারণে এমনটা হতে পারে। তবে কোনো ভুল ধরা পড়লে আমরা তাৎক্ষণিক সংশোধন করে দিচ্ছি।

তিনি বলেন, প্রবাসীর বাড়ির বিলটি ভুলবশত হয়েছিল, তিনি অফিসে আসার পরপরই সেটি সংশোধন করে দেওয়া হয়েছে। আমরা নির্ভুল হিসাব অনুযায়ী বিল দেওয়ার চেষ্টা করছি।

মাহফুজ রহমান/কেএইচকে/এএসএম